ব্যবহার
৫% অ্যামিনো অ্যাসিড দ্রবণ একটি শিরাপথে (IV) দেওয়া পুষ্টি তরল। যেসব রোগী খেতে পারেন না বা অন্ত্র দিয়ে যথেষ্ট খাবার শোষণ করতে পারেন না, যেমন বড় অস্ত্রোপচারের পর, গুরুতর অসুস্থতা, পোড়া, আঘাত বা অন্ত্রের রোগে, তাদের প্রোটিনের উপাদান দিতে হাসপাতালে এটি ব্যবহার করা হয়। এটি প্যারেনটারাল নিউট্রিশনের (শিরার মাধ্যমে খাবার) অংশ হিসেবে, প্রায়ই গ্লুকোজ, ফ্যাট ইমালশন, ইলেকট্রোলাইট, ভিটামিন ও ট্রেস এলিমেন্টের সাথে দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
শরীরের প্রোটিন অ্যামিনো অ্যাসিড দিয়ে তৈরি। এই দ্রবণে পানিতে দ্রবীভূত অপরিহার্য ও অনপরিহার্য অ্যামিনো অ্যাসিডের সুষম মিশ্রণ আছে। শিরায় দেওয়ার পর অ্যামিনো অ্যাসিডগুলো টিস্যু গঠন ও মেরামত, এনজাইম তৈরি ও রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার সহায়তায় ব্যবহৃত হয় এবং অসুস্থতার সময় শরীরের নিজস্ব পেশি ভাঙন কমাতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স এটি শিরায় ধীর ইনফিউশন হিসেবে দেন, পণ্য ও সামগ্রিক পুষ্টি পরিকল্পনা অনুযায়ী পেরিফেরাল বা সেন্ট্রাল লাইন দিয়ে। পরিমাণ ও গতি শরীরের ওজন, রোগীর অবস্থা, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা এবং অন্য তরলের উপর নির্ভর করে এবং চিকিৎসকের নির্দেশমতো দেওয়া হয়। রক্ত পরীক্ষা দেখে চিকিৎসা সমন্বয় করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফার্মেসি সামঞ্জস্য নিশ্চিত না করলে ব্যাগে অন্য ঔষধ মেশানো উচিত নয়। এটি তরল ও নাইট্রোজেন যোগ করে বলে চিকিৎসা দল ডাইইউরেটিক, স্টেরয়েড ও তরলের ভারসাম্য, কিডনির কার্যকারিতা বা প্রোটিন ভাঙনে প্রভাব ফেলে এমন অন্য চিকিৎসার সাথে এটি বিবেচনা করবেন।
কারা খাবেন না
- অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকের জন্মগত ত্রুটি (যেমন ফিনাইলকিটোনুরিয়া বা মেপল সিরাপ ইউরিন ডিজিজ)।
- ডায়ালাইসিস ছাড়া গুরুতর কিডনি বিকলতা, বা হেপাটিক কোমাসহ গুরুতর লিভার বিকলতা।
- অনিয়ন্ত্রিত তরল আধিক্য, গুরুতর হার্ট ফেইলিউর বা স্থিতিশীল নয় এমন শক।
- দ্রবণের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে আছে বমিভাব, বমি, মুখ লাল হওয়া, কাঁপুনি, জ্বর, মাথাব্যথা এবং ইনফিউশনের জায়গায় শিরায় ব্যথা বা প্রদাহ। খুব দ্রুত দিলে বমিভাব, মুখ লাল হওয়া এবং প্রস্রাবে অ্যামিনো অ্যাসিড বের হয়ে যেতে পারে। অন্যান্য সম্ভাব্য সমস্যা হলো তরল আধিক্য, ইউরিয়া বা অ্যামোনিয়া বেড়ে যাওয়া, রক্তের ইলেকট্রোলাইট বা অ্যাসিডের ভারসাম্যে পরিবর্তন এবং IV লাইনজনিত সংক্রমণ।
রোগীর শ্বাসকষ্ট, ফোলা, বুকে ব্যথা, উচ্চ জ্বর বা কাঁপুনি, বিভ্রান্তি, র্যাশ বা মুখ ফুলে যাওয়া, অথবা স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা, ফোলা বা লালচে ভাব হলে সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
শিরার মাধ্যমে পুষ্টি স্পষ্টভাবে প্রয়োজন হলে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিবিড় চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
সতর্কতা
- শুধু চিকিৎসকের তত্ত্বাবধানে তরলের ভারসাম্য, রক্তের শর্করা, ইলেকট্রোলাইট, কিডনি ও লিভারের কার্যকারিতা পর্যবেক্ষণসহ দেওয়া হয়।
- সংক্রমণ এড়াতে কঠোর জীবাণুমুক্ত পদ্ধতি মানা হয়।
- কিডনি বা লিভারের রোগ, হার্ট ফেইলিউর এবং শিশুদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করা হয়।
- দ্রবণ ঘোলা হলে বা ব্যাগ ক্ষতিগ্রস্ত হলে ব্যবহার করা যাবে না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
খুব বেশি বা খুব দ্রুত ইনফিউশনে তরল আধিক্য, বমিভাব, বমি, কাঁপুনি ও বিপাকীয় গোলমাল হতে পারে। ইনফিউশন ধীর বা বন্ধ করা হয় এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্যারেনটারাল নিউট্রিশন; শিরাপথে দেওয়া অ্যামিনো অ্যাসিড দ্রবণ।
সংরক্ষণ
প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী ২৫°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন, জমাবেন না। হাসপাতালের কর্মীরা এটি সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করেন; খোলার পর দ্রুত ব্যবহার করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।