ব্যবহার
এটি চোখের স্বাস্থ্যের একটি সাপ্লিমেন্ট, যাতে ছয়টি পুষ্টিউপাদান (সাধারণত ভিটামিন সি, ভিটামিন ই, জিংক, কপার, লুটেইন ও জিয়াজান্থিন) এবং ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড থাকে। বড় আকারের চক্ষু গবেষণার ভিত্তিতে তৈরি এই সম্মিশ্রণ মূলত বয়সজনিত ম্যাকুলার ডিজেনারেশন (AMD, যা চোখের কেন্দ্রীয় দৃষ্টি নষ্ট করে) এর মাঝারি বা গুরুতর পর্যায়ে রোগের অগ্রগতি ধীর করতে ব্যবহৃত হয়। এটি রোগ সারায় না এবং হারানো দৃষ্টি ফিরিয়ে দেয় না।
কীভাবে কাজ করে
ভিটামিন সি ও ই অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা রেটিনার কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে। জিংক চোখের এনজাইমকে সহায়তা করে, আর দীর্ঘদিন জিংক খেলে কপার কমে যেতে পারে বলে কপার যোগ করা হয়। লুটেইন ও জিয়াজান্থিন হলুদ রঙের উদ্ভিদ রঞ্জক, যা ম্যাকুলায় (রেটিনার কেন্দ্র) জমা হয়ে ক্ষতিকর নীল আলো ছাঁকতে সাহায্য করে। ওমেগা-৩ কোষপর্দাকে সহায়তা করে, তবে গবেষণায় AMD এর জন্য এটি যোগ করে অতিরিক্ত উপকার দেখা যায়নি।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেল বা চক্ষু চিকিৎসকের নির্দেশনা অনুযায়ী খান, সাধারণত দিনে ১ বা ২টি ক্যাপসুল খাবারের সাথে। এটি দীর্ঘমেয়াদে প্রতিদিন খাওয়ার জন্য। পরামর্শ ছাড়া একই সাথে অতিরিক্ত জিংক, ভিটামিন বা মাছের তেলের সাপ্লিমেন্ট খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- জিংক ও কপার কিছু অ্যান্টিবায়োটিক (টেট্রাসাইক্লিন, সিপ্রোফ্লক্সাসিন ইত্যাদি) ও পেনিসিলামিনের শোষণ কমাতে পারে; অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে খান।
- উচ্চ মাত্রার ভিটামিন ই ও ওমেগা-৩ ওয়ারফারিন, ক্লোপিডোগ্রেল বা অ্যাসপিরিনের মতো রক্ত পাতলা করার ঔষধের প্রভাব বাড়াতে পারে।
- অন্য যেকোনো সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না, ওমেগা-৩ মাছের তেল থেকে হলে মাছ বা শেলফিশে অ্যালার্জিসহ। এটি শিশুদের জন্য নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- পেটের গোলমাল, বমিভাব বা বদহজম
- মুখে মাছের মতো স্বাদ বা ঢেঁকুর
- বেশি লুটেইনে ত্বক সামান্য হলুদাভ হওয়া (ক্ষতিকর নয়)
অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, কালো পায়খানা, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এই উচ্চ মাত্রার সম্মিশ্রণটি AMD আক্রান্ত বয়স্কদের জন্য তৈরি; গর্ভাবস্থা বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি সুপারিশ করা হয় না। প্রয়োজনে গর্ভাবস্থার জন্য তৈরি সাপ্লিমেন্ট ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- নিয়মিত চোখ পরীক্ষা করান; সোজা রেখা বাঁকা দেখার মতো দৃষ্টিতে হঠাৎ পরিবর্তন হলে দেরি না করে জানান।
- রক্তক্ষরণের রোগ থাকলে বা অস্ত্রোপচার সামনে থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- কিডনির রোগ থাকলে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নির্দেশিত মাত্রার অনেক বেশি খেলে মূলত জিংকের কারণে বমিভাব, বমি, পেটব্যথা ও ডায়রিয়া হতে পারে। দীর্ঘদিন অতিরিক্ত জিংকে কপারের ঘাটতি ও রক্তস্বল্পতা হতে পারে। চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চোখের স্বাস্থ্যের জন্য ভিটামিন, খনিজ ও অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সাপ্লিমেন্ট।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।