ব্যবহার
অ্যাবাকাভির একটি অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল ঔষধ। প্রাপ্তবয়স্ক, কিশোর ও শিশুদের HIV-১ সংক্রমণের চিকিৎসায় এটি সবসময় অন্য HIV ঔষধের সাথে মিলিয়ে দেওয়া হয়। প্রায়ই এটি ল্যামিভুডিনের সাথে, কখনো জিডোভুডিন বা ডলুটেগ্রাভিরসহ কম্বিনেশন ট্যাবলেটে পাওয়া যায়। এটি HIV বা এইডস সারায় না, তবে ভাইরাসকে নিয়ন্ত্রণে রাখে, ফলে রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা সেরে উঠতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাবাকাভির একটি নিউক্লিওসাইড রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ ইনহিবিটর (NRTI)। কোষের ভেতরে এটি সক্রিয় রূপে পরিণত হয়ে রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ এনজাইমকে আটকে দেয়, যা দিয়ে HIV নিজের জিনগত উপাদান কপি করে। এতে রক্তে ভাইরাসের পরিমাণ কমে এবং CD4 কোষের সংখ্যা বাড়তে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
HIV বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী ঠিক সেভাবে খাবেন। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মোট মাত্রা দিনে ৬০০ mg, হয় দিনে একবার ৬০০ mg অথবা দিনে দুইবার ৩০০ mg, খাবারের সাথে বা ছাড়া, অন্য HIV ঔষধের সাথে। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী ঠিক হয়। শুরুর আগে HLA-B*5701 জিনের রক্ত পরীক্ষা করা উচিত, কারণ এই জিন থাকলে গুরুতর অ্যালার্জির ঝুঁকি অনেক বেশি। প্রতিদিন ডোজ বাদ না দিয়ে খান এবং নিজে থেকে বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালকোহল রক্তে অ্যাবাকাভিরের মাত্রা বাড়ায়।
- অ্যাবাকাভির মেথাডোনের মাত্রা কিছুটা কমাতে পারে; মেথাডোনের ডোজ পরীক্ষা করা লাগতে পারে।
- এটি রিওসিগুয়াটের প্রভাব বাড়াতে পারে।
- ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল ও রিফাম্পিসিন অ্যাবাকাভিরের মাত্রা কমাতে পারে।
আপনি যত ঔষধ ও ভেষজ পণ্য নেন সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
অ্যাবাকাভিরে অ্যালার্জি থাকলে, শরীরে HLA-B*5701 জিন থাকলে, আগে কখনো অ্যাবাকাভিরযুক্ত ঔষধে হাইপারসেনসিটিভিটি প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে, অথবা মাঝারি বা গুরুতর লিভারের রোগ থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, ক্ষুধামন্দা
- মাথাব্যথা, ক্লান্তি, ঘুমের সমস্যা, অস্বাভাবিক স্বপ্ন
- র্যাশ
- খুব কম ক্ষেত্রে ল্যাকটিক অ্যাসিডোসিস (রক্তে অ্যাসিড জমা) ও বড় হয়ে যাওয়া চর্বিযুক্ত লিভার
- শরীরের চর্বিতে পরিবর্তন এবং রোগপ্রতিরোধ ফিরে আসার সময় পুরনো সংক্রমণ জেগে ওঠা
অ্যাবাকাভিরে গুরুতর, প্রাণঘাতী হতে পারে এমন অ্যালার্জি হতে পারে, সাধারণত প্রথম ৬ সপ্তাহে। নিচের দলগুলোর মধ্যে ২ বা তার বেশি দলের লক্ষণ দেখা দিলে ঔষধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন: জ্বর; র্যাশ; বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া বা পেটব্যথা; প্রচণ্ড ক্লান্তি, গায়ে ব্যথা বা সার্বিক অসুস্থতা; শ্বাসকষ্ট, কাশি বা গলাব্যথা। এমন প্রতিক্রিয়ার পর কখনো আর অ্যাবাকাভির খাবেন না, কারণ আবার শুরু করলে মৃত্যু হতে পারে। বুকে ব্যথা বা হার্ট অ্যাটাকের লক্ষণ, দ্রুত শ্বাসসহ তীব্র দুর্বলতা, বা চামড়া বা চোখ হলুদ হলেও দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
HIV বিশেষজ্ঞ উপযুক্ত মনে করলে গর্ভাবস্থায় অ্যাবাকাভির ব্যবহার করা যায়; গর্ভবতী হলে চিকিৎসা বন্ধ করবেন না, তবে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারকে জানান। HIV আক্রান্ত মায়ের বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়টি স্থানীয় নির্দেশিকা ও ভাইরাল লোডের উপর নির্ভর করে, তাই ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
সতর্কতা
ঔষধের সাথে দেওয়া সতর্কতা কার্ডটি সবসময় সাথে রাখুন। হৃদরোগ বা এর ঝুঁকি (ধূমপান, উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, উচ্চ কোলেস্টেরল), লিভারের রোগ, অথবা হেপাটাইটিস বি বা সি থাকলে ডাক্তারকে জানান। HIV চিকিৎসা অন্যদের মধ্যে ছড়ানোর ঝুঁকি কমায়, তবে পুরোপুরি দূর করে না। নিয়মিত ডাক্তার দেখান ও রক্ত পরীক্ষা করান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
এর নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। বেশি খেয়ে ফেললে সঙ্গে সঙ্গে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিরেট্রোভাইরাল, নিউক্লিওসাইড রিভার্স ট্রান্সক্রিপ্টেজ ইনহিবিটর (NRTI)।
সংরক্ষণ
৩০°C-এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।