ব্যবহার
অ্যাসিটিক অ্যাসিড হলো ভিনেগারে থাকা অ্যাসিড। ঔষধ হিসেবে পাতলা অবস্থায় এটি কানের স্প্রে ও ড্রপে ব্যবহৃত হয়, যা বাইরের কানের নালির হালকা সংক্রমণ ও প্রদাহ (অটাইটিস এক্সটার্না, যাকে অনেকে সুইমার্স ইয়ার বলেন) চিকিৎসা ও প্রতিরোধে কাজে লাগে। কিডনি বিকল রোগীদের হিমোডায়ালাইসিসের তরল তৈরির অ্যাসিড কনসেন্ট্রেটেরও এটি একটি উপাদান।
কীভাবে কাজ করে
কানে ব্যবহার করলে পাতলা অ্যাসিটিক অ্যাসিড কানের নালিকে সামান্য অম্লীয় করে তোলে। বাইরের কানে সংক্রমণ ঘটানো বেশিরভাগ ব্যাকটেরিয়া ও ছত্রাক অম্লীয় পরিবেশে ভালোভাবে বাড়তে পারে না, ফলে সংক্রমণ কমে এবং ত্বক সেরে ওঠে। ডায়ালাইসিস তরলে অল্প পরিমাণ অ্যাসিটিক অ্যাসিড (বা অ্যাসিটেট) তরলের সঠিক অম্লতা বজায় রাখে এবং খনিজ জমে যাওয়া রোধ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
কানের স্প্রে বা ড্রপ: লেবেলের নির্দেশ বা চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। সাধারণত প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছর বা তার বেশি বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে আক্রান্ত কানে দিনে ৩ বার ১ স্প্রে করে, সর্বোচ্চ ৭ দিন ব্যবহার করা হয়। মাথা কাত করে আক্রান্ত কান ওপরের দিকে রাখুন, ঔষধ দিন এবং কিছুক্ষণ মাথা কাত করে রাখুন। নির্দেশের চেয়ে বেশি দিন ব্যবহার করবেন না।
ডায়ালাইসিসে ব্যবহার: কিডনি বিশেষজ্ঞের নির্ধারিত প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী শুধু প্রশিক্ষিত ডায়ালাইসিস কর্মীরাই এই কনসেন্ট্রেট মিশিয়ে প্রয়োগ করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কানের পাতলা অ্যাসিটিক অ্যাসিড পণ্যের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একই সময়ে অন্য কানের ড্রপ ব্যবহার করবেন না। ডায়ালাইসিসের ক্ষেত্রে আপনার অন্যান্য চিকিৎসার সাথে মিলিয়ে ডায়ালাইসিস দল তরল ঠিক করে দেন।
কারা খাবেন না
- অ্যাসিটিক অ্যাসিড বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি বা সংবেদনশীলতা থাকলে।
- কানের পর্দা ফেটে গেলে বা কানে গ্রোমেট (নল) বসানো থাকলে, চিকিৎসক না বললে কানের পণ্য ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
কানের পণ্যে অল্প সময়ের জন্য জ্বালাপোড়া, হালকা অস্বস্তি বা লালচে ভাব হতে পারে। অ্যালার্জি খুব কম দেখা যায়।
কানে তীব্র ব্যথা, মুখ বা গলায় ছড়িয়ে পড়া ফোলা, উচ্চ জ্বর, রক্তমিশ্রিত পুঁজ, হঠাৎ কানে কম শোনা, মাথা ঘোরা, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। কয়েক দিনেও উন্নতি না হলে চিকিৎসকের কাছে যান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
কানের পণ্য থেকে খুব সামান্য অ্যাসিটিক অ্যাসিড শরীরে যায়, তাই গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত এটি গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়। তবুও ব্যবহারের আগে চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শ নিন। ডায়ালাইসিস তরল কিডনি বিশেষজ্ঞ গর্ভাবস্থা বিবেচনা করেই নির্ধারণ করেন।
সতর্কতা
- শুধু কানে ব্যবহারের জন্য; গিলবেন না এবং চোখে লাগাবেন না।
- কানে পুঁজ, তীব্র ব্যথা, কম শোনা বা জ্বর থাকলে ব্যবহারের আগে চিকিৎসক দেখান, কারণ আরও গুরুতর সংক্রমণের জন্য অন্য চিকিৎসা লাগতে পারে।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের সাধারণত দেওয়া হয় না।
- ঘন অ্যাসিটিক অ্যাসিড ক্ষয়কারী; শুধু পাতলা করা ঔষধি পণ্যই ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
কানের পণ্য বারবার ব্যবহার করলে জ্বালা বাড়তে পারে। বেশি পরিমাণ গিলে ফেললে মুখ ধুয়ে কিছু পানি পান করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন। ঘন অ্যাসিটিক অ্যাসিড গিলে ফেলা বিপজ্জনক, এর জন্য জরুরি চিকিৎসা দরকার।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কানের বাহ্যিক জীবাণুনাশক (অম্লকারক); হিমোডায়ালাইসিস কনসেন্ট্রেটের উপাদান।
সংরক্ষণ
কানের পণ্য ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ডায়ালাইসিস কনসেন্ট্রেট প্যাকেটের নির্দেশ অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।