ব্যবহার
অ্যাসিটাইলস্যালিসাইলিক অ্যাসিড (অ্যাসপিরিন) মূলত দুইভাবে ব্যবহৃত হয়। কম মাত্রায় (সাধারণত দিনে ৭৫ থেকে ১৫০ mg) এটি রক্ত জমাট বাঁধা প্রতিরোধে দেওয়া হয়: যাদের হার্ট অ্যাটাক, স্ট্রোক বা মিনি-স্ট্রোক হয়েছে, যাদের এনজাইনা আছে, অথবা স্টেন্টিং বা বাইপাস অস্ত্রোপচারের পরে। বেশি মাত্রায় এটি হালকা থেকে মাঝারি ব্যথা (মাথাব্যথা, দাঁতের ব্যথা, মাসিকের ব্যথা, পেশির ব্যথা) উপশম, জ্বর কমানো ও প্রদাহ কমাতে ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাসপিরিন সাইক্লো-অক্সিজেনেজ (COX) নামের এনজাইমকে স্থায়ীভাবে বন্ধ করে। প্লেটিলেটে (রক্ত জমাট শুরু করা ক্ষুদ্র কণিকা) এটি থ্রম্বক্সেন তৈরি বন্ধ করে, ফলে প্লেটিলেটের পুরো জীবনকাল (প্রায় ৭ থেকে ১০ দিন) এগুলো কম আঠালো থাকে। বেশি মাত্রায় এটি প্রোস্টাগ্ল্যান্ডিনও কমায়, যা ব্যথা, জ্বর ও প্রদাহ সৃষ্টি করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- রক্ত জমাট প্রতিরোধে: চিকিৎসকের দেওয়া কম মাত্রা, সাধারণত দিনে একবার ৭৫ mg খাবারের পর। চিকিৎসককে না জিজ্ঞেস করে বন্ধ করবেন না।
- ব্যথা বা জ্বরে (প্রাপ্তবয়স্ক ও ১৬ বছরের বেশি বয়সী): প্রয়োজনে প্রতি ৪ থেকে ৬ ঘণ্টায় ৩০০ থেকে ৯০০ mg, খাবারের পর, ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ৪ g।
- এন্টেরিক-কোটেড ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান; ডিসপারসিবল ট্যাবলেট পানিতে গুলে খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ওয়ারফারিন, অ্যাপিক্সাবান, রিভারক্সাবান, হেপারিন, ক্লোপিডোগ্রেল, টিকাগ্রেলর, এসএসআরআই (যেমন সারট্রালিন) ও কর্টিকোস্টেরয়েডের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে।
- আইবুপ্রোফেন ও অন্য এনএসএআইডি পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়, আর আইবুপ্রোফেন অ্যাসপিরিনের হৃদসুরক্ষা কমাতে পারে; কম মাত্রার অ্যাসপিরিনের অন্তত ৩০ মিনিট পরে আইবুপ্রোফেন খান, বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
- মিথোট্রেক্সেটের বিষাক্ততা বাড়াতে এবং কিছু রক্তচাপের ঔষধ ও মূত্রবর্ধকের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- অ্যালকোহল পাকস্থলীতে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
কারা খাবেন না
- ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর (রেইয়েস সিনড্রোমের ঝুঁকি), বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক না দিলে।
- সক্রিয় পাকস্থলী বা ডিওডেনামের আলসার, বা আগে আলসার থেকে রক্তক্ষরণ।
- হিমোফিলিয়ার মতো রক্তক্ষরণজনিত রোগ।
- অ্যাসপিরিন বা অন্য এনএসএআইডিতে অ্যালার্জি বা হাঁপানি হলে।
- গুরুতর কিডনি, লিভার বা হার্ট ফেইলিউর।
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে ব্যথানাশক মাত্রায়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বদহজম, বুক জ্বালা, বমিভাব এবং সহজে কালশিটে পড়া। কম ক্ষেত্রে: পাকস্থলীতে আলসার বা রক্তক্ষরণ, নাক দিয়ে রক্ত পড়া, কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ (বেশি মাত্রায়), ত্বকে র্যাশ এবং হাঁপানি বেড়ে যাওয়া।
রক্তবমি বা কফির গুঁড়ার মতো বমি, কালো আলকাতরার মতো মল, তীব্র পেটব্যথা, হঠাৎ শাঁ শাঁ শব্দ বা শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, অথবা হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, দুর্বলতা বা বিভ্রান্তির মতো স্ট্রোক বা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায়, বিশেষ করে শেষ ৩ মাসে, ব্যথানাশক মাত্রা এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি শিশুর হৃদযন্ত্র ও কিডনির ক্ষতি করতে এবং প্রসবের সময় রক্তক্ষরণ বাড়াতে পারে। প্রি-এক্লাম্পসিয়ার ঝুঁকি কমাতে চিকিৎসক গর্ভাবস্থায় কম মাত্রার অ্যাসপিরিন দিতে পারেন: শুধু নির্দেশনা অনুযায়ী খান। চিকিৎসক না বললে বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিয়মিত ব্যবহার এড়িয়ে চলুন; মাঝেমধ্যে কম মাত্রা সাধারণত গ্রহণযোগ্য।
সতর্কতা
- অস্ত্রোপচার বা দাঁত তোলার আগে চিকিৎসক বা দন্তচিকিৎসককে জানান যে আপনি অ্যাসপিরিন খান।
- হাঁপানি, গেঁটেবাত, কিডনি বা লিভারের সমস্যা থাকলে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধান থাকুন।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া প্রতিরোধের জন্য নিয়মিত অ্যাসপিরিন শুরু করবেন না; অনেক সুস্থ মানুষের ক্ষেত্রে রক্তক্ষরণের ঝুঁকি উপকারের চেয়ে বেশি।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অ্যাসপিরিনের মাত্রাতিরিক্ত সেবন বিপজ্জনক। কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, দ্রুত শ্বাস, বমি, ঘাম, জ্বর, বিভ্রান্তি ও তন্দ্রাভাব দেখা দিতে পারে। ব্যক্তি সুস্থ মনে হলেও সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিপ্লেটিলেট; নন-স্টেরয়েডাল প্রদাহরোধী (স্যালিসিলেট) ও ব্যথানাশক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো ও আর্দ্রতা থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।