ব্যবহার
অ্যাসাইক্লোভির একটি ভাইরাসবিরোধী ঔষধ, যা হারপিস ভাইরাসের সংক্রমণে ব্যবহার হয়: ঠোঁটের ঘা (কোল্ড সোর) ও ত্বক ও মুখের অন্যান্য হারপিস সিমপ্লেক্স সংক্রমণ, যৌনাঙ্গের হারপিস (প্রথমবার, বারবার হওয়া ও ঘন ঘন হওয়া প্রতিরোধ), জলবসন্ত ও হারপিস জোস্টার (শিংলস)। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম এমন মানুষের হারপিস প্রতিরোধেও এটি ব্যবহার হয়। এটি ট্যাবলেট, সাসপেনশন, ক্রিম, চোখের মলম ও ইনজেকশন হিসেবে পাওয়া যায়।
কীভাবে কাজ করে
এটি হারপিস ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বন্ধ করে, ফলে রোগের সময়কাল কমে এবং উপসর্গ লাঘব হয়। এটি শরীর থেকে ভাইরাস দূর করে না, তাই রোগ আবার ফিরে আসতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ঠোঁটের ঘা ও হারপিস সিমপ্লেক্স (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত ২০০ mg দিনে পাঁচবার, ৫ দিন; প্রথমবারের যৌনাঙ্গের হারপিসে ৫ থেকে ১০ দিন লাগতে পারে।
- ঘন ঘন যৌনাঙ্গের হারপিস প্রতিরোধ: সাধারণত ৪০০ mg দিনে দুইবার, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
- হারপিস জোস্টার ও জলবসন্ত (প্রাপ্তবয়স্ক): সাধারণত ৮০০ mg দিনে পাঁচবার, ৭ দিন।
- ক্রিম: ঘায়ের ওপর পাতলা করে দিনে পাঁচবার, ৫ দিন; প্রথম শিরশির ভাব শুরু হলেই লাগানো শুরু করুন।
- শিশু, কিডনির সমস্যা, চোখের মলম ও ইনজেকশন (হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স দেন): ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
যত দ্রুত সম্ভব শুরু করুন, ভালো হয় হারপিস জোস্টারের ফুসকুড়ি ওঠার ৭২ ঘণ্টার মধ্যে বা ঠোঁটের ঘায়ের প্রথম লক্ষণেই। প্রচুর পানি পান করুন। ঔষধের কোর্স সম্পূর্ণ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
প্রোবেনেসিড ও সিমেটিডিন এর মাত্রা বাড়াতে পারে। কিডনিতে প্রভাব ফেলতে পারে এমন ঔষধ, যেমন সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাস, এবং মাইকোফেনোলেট ও থিওফাইলিনের ক্ষেত্রে সাবধানতা দরকার। আপনি যে সব ঔষধ খান তা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- অ্যাসাইক্লোভির, ভ্যালাসাইক্লোভির বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি, চুলকানি ও ফুসকুড়ি। ক্রিম লাগালে অল্প সময়ের জন্য জ্বালাপোড়া, হুল ফোটানোর মতো অনুভূতি বা শুষ্কতা হতে পারে।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, হ্যালুসিনেশন, কাঁপুনি বা খিঁচুনি হয় (বয়স্ক ও কিডনির সমস্যা আছে এমন মানুষের ক্ষেত্রে বেশি); প্রস্রাব অনেক কমে যায় বা কোমরের পাশে ব্যথা হয়; ত্বক বা চোখ হলুদ হয়; অস্বাভাবিক কালশিটে বা রক্তপাত হয়; অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যায় বা শ্বাসকষ্ট হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এটি ব্যাপকভাবে ব্যবহার হয়েছে এবং স্পষ্ট ক্ষতির প্রমাণ পাওয়া যায়নি, তবে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন। এটি অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায় এবং সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সাথে চলনসই বলে ধরা হয়; ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। প্রসবের কাছাকাছি সময়ে যৌনাঙ্গের হারপিস হলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
কিডনির রোগ থাকলে, বয়স্ক হলে বা শরীরে পানির ঘাটতি থাকলে ডাক্তারকে জানান, কারণ মাত্রা কমাতে হতে পারে। ঘা না থাকলেও যৌনাঙ্গের হারপিস ছড়াতে পারে; রোগ প্রকাশের সময় যৌন সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং কনডম ব্যবহার করুন। ক্রিম চোখ থেকে দূরে রাখুন। ঠোঁটের ঘা ছোঁয়া এড়িয়ে চলুন এবং ক্রিম লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে কিডনির সমস্যা, বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, ঘুম ঘুম ভাব ও খিঁচুনি হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন; হাসপাতালে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভাইরাসবিরোধী ঔষধ (নিউক্লিওসাইড অ্যানালগ)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ক্রিম বা সাসপেনশন হিমায়িত করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।