ব্যবহার
অ্যালেনড্রোনিক অ্যাসিড অস্টিওপোরোসিস (হাড় পাতলা ও দুর্বল হয়ে যাওয়া) প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যেমন মাসিক বন্ধ হওয়ার পর নারীদের, পুরুষদের এবং দীর্ঘদিন স্টেরয়েড খাওয়ার কারণে। এটি মেরুদণ্ড ও কোমরের হাড় ভাঙার ঝুঁকি কমায়। হাড়ের পেজেট’স রোগেও এটি ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
শরীরে হাড় সবসময় ভাঙে আর নতুন করে গড়ে ওঠে। অ্যালেনড্রোনিক অ্যাসিড হাড় ক্ষয়কারী কোষগুলোর (অস্টিওক্লাস্ট) কাজ ধীর করে দেয়, ফলে সময়ের সাথে হাড়ের ঘনত্ব বাড়ে ও হাড় মজবুত হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের অস্টিওপোরোসিস: সাধারণত সপ্তাহে একবার ৭০ mg, প্রতি সপ্তাহে একই দিনে; অথবা দিনে একবার ১০ mg। পেজেট’স রোগে: ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী।
খাওয়ার নিয়ম (গুরুত্বপূর্ণ): সকালে ঘুম থেকে উঠে খালি পেটে এক গ্লাস সাধারণ পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান (চা, কফি, দুধ বা জুস দিয়ে নয়)। খাওয়ার পর অন্তত ৩০ মিনিট সোজা হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকুন, এবং এই ৩০ মিনিট কিছু খাবেন না, অন্য কিছু পান করবেন না বা অন্য ঔষধ খাবেন না। রাতে শোয়ার আগে বা শুয়ে শুয়ে খাবেন না। সাপ্তাহিক ডোজ বাদ পড়লে পরদিন সকালে খান, তারপর আগের নির্ধারিত দিনে ফিরে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ক্যালসিয়াম, আয়রন, ম্যাগনেসিয়াম, অ্যান্টাসিড ও অন্যান্য ঔষধ এর শোষণ বন্ধ করে দেয়; এগুলো অন্তত ৩০ মিনিট পরে, ভালো হয় দিনের পরের দিকে খান।
- আইবুপ্রোফেন, ডাইক্লোফেনাক ও অ্যাসপিরিনের মতো ব্যথানাশক পাকস্থলী ও খাদ্যনালির জ্বালা বাড়াতে পারে।
- সাধারণ পানি ছাড়া অন্য খাবার বা পানীয় এর কার্যকারিতা কমায়।
কারা খাবেন না
- খাদ্যনালির এমন সমস্যা যাতে খাবার নামতে দেরি হয়, যেমন খাদ্যনালি সরু হয়ে যাওয়া।
- যারা অন্তত ৩০ মিনিট সোজা হয়ে বসে বা দাঁড়িয়ে থাকতে পারেন না।
- রক্তে ক্যালসিয়াম কম থাকলে; আগে তা ঠিক করতে হবে।
- কিডনির মারাত্মক সমস্যা থাকলে।
- অ্যালেনড্রোনিক অ্যাসিড বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: বুক জ্বালা, বদহজম, পেটব্যথা, পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা পাতলা পায়খানা, এবং হাড়, পেশি বা গিঁটে ব্যথা।
এগুলো হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন: গিলতে ব্যথা বা কষ্ট, বুকের হাড়ের পেছনে ব্যথা, বা নতুন করে বা বেড়ে যাওয়া বুক জ্বালা (ঔষধ বন্ধ করুন); কালো পায়খানা বা রক্তবমি; মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো মারাত্মক এলার্জির লক্ষণ। চোয়ালে ব্যথা, দাঁত নড়ে যাওয়া বা মুখে না সারা ঘা, উরু, কোমর বা কুঁচকিতে নতুন ব্যথা, কিংবা কানে ব্যথা বা কান দিয়ে কিছু বের হলে ডাক্তারকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের জন্য নয়। এটি মূলত মাসিক বন্ধ হওয়ার পর ব্যবহার হয়; যাদের গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে তারা ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- পর্যাপ্ত ক্যালসিয়াম ও ভিটামিন ডি পাচ্ছেন কিনা নিশ্চিত করুন; ডাক্তার সাপ্লিমেন্ট দিতে পারেন।
- শুরুর আগে দাঁতের পরীক্ষা করান এবং মুখ পরিষ্কার রাখুন। দাঁতের ডাক্তারকে জানান যে আপনি এই ঔষধ খান।
- কিডনির সমস্যা, পাকস্থলী বা খাদ্যনালির সমস্যা, কিংবা দাঁতের অপারেশনের পরিকল্পনা থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- কয়েক বছর ব্যবহারের পর ডাক্তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার প্রয়োজন আছে কিনা দেখবেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তে ক্যালসিয়াম কমে যাওয়া, বুক জ্বালা, পেটের সমস্যা বা আলসার হতে পারে। ঔষধটিকে আটকাতে এক গ্লাস দুধ বা অ্যান্টাসিড খান, সোজা হয়ে থাকুন, জোর করে বমি করবেন না এবং দ্রুত ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিসফসফোনেট (অস্টিওপোরোসিস ও হাড়ের রোগের ঔষধ)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।