বেটাআমরা নিয়মিত ঔষধের তালিকা হালনাগাদ করছি, তাই কিছু MRP এই মুহূর্তে সঠিক নাও হতে পারে।

জেনেরিক ঔষধ

Alfacalcidol

  • 2 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 2 টি কোম্পানি

ব্যবহার

অ্যালফাক্যালসিডল ভিটামিন D এর একটি সক্রিয় রূপ, যা মূলত কিডনির রোগের কারণে শরীর ভিটামিন D সক্রিয় করতে না পারলে ব্যবহৃত হয়। এর মধ্যে আছে দীর্ঘমেয়াদি কিডনি বিকলতাজনিত হাড়ের রোগ (রেনাল অস্টিওডিসট্রফি), প্যারাথাইরয়েড হরমোন বেড়ে যাওয়া (সেকেন্ডারি হাইপারপ্যারাথাইরয়েডিজম), প্যারাথাইরয়েড হরমোন কমে যাওয়া (হাইপোপ্যারাথাইরয়েডিজম), কিছু ধরনের রিকেটস ও অস্টিওম্যালেশিয়া (নরম হাড়), এবং নবজাতকের ক্যালসিয়াম কমতি। এটি ক্যাপসুল, খাওয়ার ড্রপ ও ইনজেকশন আকারে পাওয়া যায়।

কীভাবে কাজ করে

ভিটামিন D কাজ করার আগে লিভার ও কিডনিতে সক্রিয় হতে হয়। অ্যালফাক্যালসিডল (১-আলফা-হাইড্রক্সিভিটামিন D3) এর শুধু লিভারের ধাপটি দরকার, তাই কিডনি ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এটি কাজ করে। লিভারে এটি ক্যালসিট্রিয়ল নামের সক্রিয় হরমোনে পরিণত হয়, যা অন্ত্র থেকে ক্যালসিয়াম ও ফসফেট শোষণ বাড়ায়, হাড় গঠনে সাহায্য করে এবং অতিরিক্ত প্যারাথাইরয়েড হরমোন কমায়।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মাত্রা ডাক্তারের নির্দেশ অনুযায়ী, যা রোগ, রক্তে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের মাত্রা এবং বয়স বা ওজনের ওপর নির্ভর করে। সাধারণত কম মাত্রায় শুরু করে কয়েক সপ্তাহ পর পর রক্ত পরীক্ষা দেখে মাত্রা ঠিক করা হয়। ক্যাপসুল ও ড্রপ সাধারণত দিনে একবার মুখে খেতে হয়। ইনজেকশন ডাক্তার বা নার্স শিরায় দেন, প্রায়ই ডায়ালাইসিসের সময়। নিজে থেকে মাত্রা বদলাবেন না।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

  • অন্য ভিটামিন D পণ্য ও ক্যালসিয়াম সাপ্লিমেন্ট: ক্যালসিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি; শুধু পরামর্শ অনুযায়ী নিন।
  • হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইডের মতো থায়াজাইড ডাইইউরেটিক: ক্যালসিয়াম আরও বাড়াতে পারে।
  • ডিগক্সিন: ক্যালসিয়াম বেশি হলে হৃৎছন্দের সমস্যার সম্ভাবনা বাড়ে।
  • ম্যাগনেসিয়ামযুক্ত অ্যান্টাসিড বা জোলাপ: কিডনির রোগে ম্যাগনেসিয়াম বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি।
  • ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল, কারবামাজেপিন, কোলেস্টিরামিন ও খনিজ তেল: এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।

কারা খাবেন না

রক্তে ক্যালসিয়াম বেশি থাকলে (হাইপারক্যালসেমিয়া), ভিটামিন D বিষক্রিয়ার লক্ষণ থাকলে, অথবা এই ঔষধ বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে অ্যালফাক্যালসিডল ব্যবহার করবেন না।

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

প্রধান পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আসে রক্তে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম বা ফসফেট থেকে: বমি বমি ভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, খিদে কমে যাওয়া, তৃষ্ণা, বেশি প্রস্রাব, ক্লান্তি, দুর্বলতা, মাথাব্যথা ও বিভ্রান্তি। চুলকানি, র‍্যাশ ও কিডনিতে পাথর হতে পারে। ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা হতে পারে।

তীব্র বমি, অতিরিক্ত তৃষ্ণা, বিভ্রান্তি বা ঝিমুনি, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, পেট বা কোমরে তীব্র ব্যথা, অথবা মুখ ফোলা বা শ্বাসকষ্টের মতো অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

ক্যালসিয়াম বেশি হলে শিশুর ক্ষতি হতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে তবেই ব্যবহার করুন। এটি বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহার করলে শিশুর ক্যালসিয়াম পরীক্ষা লাগতে পারে। ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

সতর্কতা

বিশেষ করে শুরুতে ও মাত্রা বদলানোর পর ক্যালসিয়াম, ফসফেট, প্যারাথাইরয়েড হরমোন ও কিডনির নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা অত্যন্ত জরুরি। ক্যালসিয়াম ও ফসফেট নিয়ে খাদ্যের পরামর্শ মেনে চলুন এবং দেওয়া হলে ফসফেট বাইন্ডার খান। পর্যাপ্ত তরল পান করুন। অন্য ভিটামিন বা খনিজ সাপ্লিমেন্ট খেলে ডাক্তারকে জানান।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি সেবন করলে ক্যালসিয়াম বিপজ্জনকভাবে বেড়ে বমি, বিভ্রান্তি, হৃৎছন্দের সমস্যা ও কিডনির ক্ষতি হতে পারে। ঔষধ বন্ধ করে দেরি না করে চিকিৎসা নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ভিটামিন D অ্যানালগ (সক্রিয় ভিটামিন D)।

সংরক্ষণ

ক্যাপসুল ও ড্রপ: ৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে রাখুন। ইনজেকশন: প্যাকের নির্দেশ অনুযায়ী, সাধারণত ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Alfacalcidol এর ব্র্যান্ড

2 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।