ব্যবহার
অ্যালিসকিরেন প্রাপ্তবয়স্কদের উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি একা বা অন্য রক্তচাপের ঔষধের সাথে ব্যবহার করা যায়। রক্তচাপ কমালে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ফেইলিউর ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি কমে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যালিসকিরেন একটি সরাসরি রেনিন ইনহিবিটর। রেনিন কিডনিতে তৈরি একটি এনজাইম, যা একাধিক বিক্রিয়ার মাধ্যমে অ্যানজিওটেনসিন II তৈরি করে; এই হরমোন রক্তনালী সঙ্কুচিত করে এবং শরীরে লবণ ও পানি ধরে রাখে। একেবারে প্রথম ধাপে রেনিন আটকে অ্যালিসকিরেন অ্যানজিওটেনসিন II কমায়, ফলে রক্তনালী শিথিল হয় ও রক্তচাপ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ১৫০ mg, প্রয়োজনে চিকিৎসক দিনে একবার ৩০০ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। প্রতিদিন একই সময়ে হালকা খাবারের সাথে খান, তবে অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবারের সাথে নয়। পানি দিয়ে আস্ত গিলুন। পূর্ণ প্রভাব সাধারণত প্রায় ২ সপ্তাহে দেখা যায়। ভালো বোধ করলেও খাওয়া চালিয়ে যান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- ডায়াবেটিস বা কিডনির সমস্যা থাকলে ACE ইনহিবিটর (যেমন এনালাপ্রিল, র্যামিপ্রিল) বা অ্যানজিওটেনসিন রিসেপ্টর ব্লকার (যেমন লোসার্টান, ভালসার্টান) এর সাথে একসাথে খাবেন না, কারণ কিডনির সমস্যা, উচ্চ পটাশিয়াম ও নিম্ন রক্তচাপের ঝুঁকি বেশি।
- সাইক্লোস্পোরিন, ইট্রাকোনাজোল ও কুইনিডিন এর মাত্রা অনেক বাড়ায়, এগুলোর সাথে ব্যবহার করা যাবে না।
- পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, লবণের বিকল্প ও পটাশিয়াম সংরক্ষণকারী মূত্রবর্ধক (যেমন স্পাইরোনোল্যাকটোন) পটাশিয়াম বাড়াতে পারে।
- NSAID ব্যথানাশক (যেমন আইবুপ্রোফেন) এর কার্যকারিতা কমাতে ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে।
- গ্রেপফ্রুটের রস, ফুরোসেমাইড ও কিছু অন্য ঔষধ এর মাত্রা পরিবর্তন করতে পারে।
কারা খাবেন না
- অ্যালিসকিরেনে অ্যালার্জি
- গর্ভাবস্থা
- আগে এনজিওএডিমা (মুখ, ঠোঁট, জিভ বা গলা ফোলা) হয়ে থাকলে
- সাইক্লোস্পোরিন, ইট্রাকোনাজোল বা কুইনিডিনের সাথে
- ডায়াবেটিস বা মাঝারি থেকে গুরুতর কিডনি সমস্যায় ACE ইনহিবিটর বা ARB এর সাথে
- ১৮ বছরের কম বয়সী
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- পাতলা পায়খানা (বেশি মাত্রায় বেশি হয়)
- মাথা ঘোরা, বিশেষ করে উঠে দাঁড়ালে
- রক্ত পরীক্ষায় পটাশিয়াম বৃদ্ধি
- মাথাব্যথা, কাশি, র্যাশ
- কদাচিৎ কিডনির সমস্যা বা এনজিওএডিমা
মুখ, ঠোঁট, জিভ বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট হলে, অজ্ঞান হলে, পানিশূন্যতাসহ তীব্র ডায়রিয়া, ধীর বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, পেশি দুর্বলতা বা প্রস্রাব হঠাৎ অনেক কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় খাবেন না; এই হরমোন ব্যবস্থায় কাজ করা ঔষধ গর্ভের শিশুর গুরুতর ক্ষতি করতে পারে, বিশেষ করে দ্বিতীয় ও তৃতীয় ত্রৈমাসিকে। গর্ভাবস্থা জানার সঙ্গে সঙ্গে বন্ধ করে চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন। নিরাপত্তা জানা না থাকায় বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- বিশেষ করে ডায়াবেটিস, কিডনির রোগ বা হার্ট ফেইলিউর থাকলে নিয়মিত কিডনি ও পটাশিয়াম পরীক্ষা করান।
- বমি, ডায়রিয়া বা অতিরিক্ত ঘামে পানিশূন্যতা হলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে; চিকিৎসককে জানান।
- কিডনির ধমনী সরু হয়ে গেলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- মাথা ঘোরা এড়াতে বসা বা শোয়া অবস্থা থেকে ধীরে উঠুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে মূলত রক্তচাপ কমে যায়, ফলে মাথা ঘোরা বা অজ্ঞান হওয়া। পা উঁচু করে শুয়ে পড়ুন এবং সঙ্গে সঙ্গে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
উচ্চ রক্তচাপের ঔষধ, সরাসরি রেনিন ইনহিবিটর
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আর্দ্রতা থেকে রক্ষার জন্য আসল প্যাকে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।