ব্যবহার
অ্যালোপিউরিনল দীর্ঘমেয়াদে গেঁটেবাতের (গাউট) আক্রমণ প্রতিরোধ এবং রক্তে বেশি ইউরিক অ্যাসিড কমাতে ব্যবহার হয়। কিছু ধরনের কিডনির পাথর (ইউরিক অ্যাসিডের পাথর এবং বেশি ইউরিক অ্যাসিডের সাথে যুক্ত ক্যালসিয়ামের পাথর) প্রতিরোধে এবং কিছু ক্যান্সার চিকিৎসার সময় ইউরিক অ্যাসিড হঠাৎ বেড়ে যাওয়া ঠেকাতেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
শরীর জ্যানথিন অক্সিডেজ নামের একটি এনজাইম দিয়ে ইউরিক অ্যাসিড তৈরি করে। অ্যালোপিউরিনল এই এনজাইমকে আটকে দেয়। ইউরিক অ্যাসিড কমলে গিরা ও কিডনিতে নতুন দানা (ক্রিস্টাল) তৈরি হয় না এবং পুরোনো দানা ধীরে ধীরে গলে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ১০০ mg দিয়ে শুরু করা হয়। রক্তের ইউরিক অ্যাসিড পরীক্ষা দেখে ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ান, প্রায়ই প্রতি ২ থেকে ৪ সপ্তাহে ১০০ mg করে। দীর্ঘমেয়াদে সাধারণ মাত্রা দিনে ১০০ থেকে ৩০০ mg; কারও কারও ডাক্তারের তত্ত্বাবধানে বেশি লাগে। কিডনির রোগে কম মাত্রা দেওয়া হয়। দিনে একবার খাবারের পর এক গ্লাস পানি দিয়ে খান এবং প্রচুর পানি পান করুন (দিনে প্রায় ২ লিটার)। প্রথম কয়েক মাসে গাউটের ব্যথা বেশি হতে পারে; ঔষধ চালিয়ে যান, ডাক্তার ব্যথা ঠেকাতে কোলচিসিনের মতো অন্য ঔষধ দিতে পারেন। ব্যথার আক্রমণের মধ্যে এটি শুরু করা হয় না, তবে আগে থেকে খেলে আক্রমণের সময় বন্ধ করবেন না। ক্যান্সার চিকিৎসায় ডাক্তারের দেওয়া নিয়মে খান।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যাজাথায়োপ্রিন ও মারক্যাপটোপিউরিন: অ্যালোপিউরিনল এদের মাত্রা অনেক বাড়িয়ে দেয়; ডাক্তারকে এদের মাত্রা কমাতে হবে।
- ওয়ারফারিন: এর কাজ বাড়তে পারে।
- অ্যামোক্সিসিলিন ও অ্যাম্পিসিলিন: ত্বকে র্যাশ হওয়ার সম্ভাবনা বাড়ে।
- থিওফাইলিন, সাইক্লোস্পোরিন ও ক্লোরপ্রোপামাইডের মাত্রা বাড়তে পারে।
- থায়াজাইড জাতীয় প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ ও ক্যাপটোপ্রিলের মতো ACE ইনহিবিটর এলার্জির ঝুঁকি বাড়াতে পারে, বিশেষ করে কিডনির সমস্যা থাকলে।
কারা খাবেন না
অ্যালোপিউরিনলে এলার্জি থাকলে, বা আগে এতে ত্বকের গুরুতর প্রতিক্রিয়া হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সবচেয়ে সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ত্বকে র্যাশ; র্যাশ দেখা দিলে খাওয়া বন্ধ করে ডাক্তার দেখান। এছাড়া বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, পাতলা পায়খানা, ঘুম ঘুম ভাব, মাথাব্যথা এবং শুরুতে গাউটের ব্যথা বাড়তে পারে। কদাচিৎ মারাত্মক এলার্জি হতে পারে। ফোস্কাসহ র্যাশ, চামড়া উঠে যাওয়া, মুখে বা চোখে ঘা, জ্বর, গ্রন্থি ফুলে যাওয়া, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা মুখ বা গলা ফুলে গেলে খাওয়া বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সাধারণত ব্যবহার হয় না; ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, শুধু তখনই খান। এটি বুকের দুধে যায়, তাই বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়ার আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
কিডনি বা লিভারের রোগ, হার্ট ফেইলিউর বা উচ্চ রক্তচাপ থাকলে, অথবা প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ খেলে ডাক্তারকে জানান। কিছু এশীয় জনগোষ্ঠীর (যেমন হান চীনা, থাই ও কোরীয়) মানুষের ত্বকের মারাত্মক প্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বেশি, তাই শুরুর আগে একটি জিনগত পরীক্ষা (HLA-B*5801) করা হতে পারে। রক্ত পরীক্ষার দরকার হতে পারে। ঘুম ঘুম ভাব হতে পারে, তাই গাড়ি চালানোর সময় সাবধান থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে বমি বমি ভাব, বমি, পাতলা পায়খানা ও মাথা ঘোরা হতে পারে। চিকিৎসা নিন; বেশি পানি পান করলে কিডনি দ্রুত ঔষধটি বের করে দিতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
গাউটের ঔষধ (জ্যানথিন অক্সিডেজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।