ব্যবহার
অ্যালো বারবাডেনসিস, যা সাধারণভাবে অ্যালোভেরা বা ঘৃতকুমারী নামে পরিচিত, একটি রসালো গাছ। এর পাতার ভেতরের স্বচ্ছ জেল ভেষজ ও আয়ুর্বেদিক প্রস্তুতিতে ব্যবহৃত হয়। মুখে রস বা জেল হিসেবে খেলে ঐতিহ্যগতভাবে হজমে সহায়তা, হালকা অ্যাসিডিটি কমানো এবং মাঝে মাঝে হওয়া কোষ্ঠকাঠিন্যে ব্যবহার করা হয়। ত্বকে লাগালে ছোটখাটো পোড়া, রোদে পোড়া, শুষ্কতা ও হালকা চুলকানি প্রশমনে এটি প্রচলিত। এসব ব্যবহারের বেশিরভাগের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
পাতার ভেতরের জেলে পানি, পলিস্যাকারাইড নামের শর্করা, ভিটামিন, খনিজ ও কিছু উদ্ভিজ্জ উপাদান থাকে, যা আরামদায়ক, আর্দ্রতা ধরে রাখা ও হালকা প্রদাহরোধী প্রভাব দেয় বলে ধারণা করা হয়। পাতার খোসার ঠিক নিচের হলুদ কষ (ল্যাটেক্স) থাকলে এর অ্যানথ্রাকুইনোন উপাদান অন্ত্রকে সক্রিয় করে এবং জোলাপের মতো কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অথবা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। মুখে খাওয়ার রস বা জেল সাধারণত দিনে ১ থেকে ২ বার, প্রায়ই খাবারের আগে, অল্প সময়ের জন্য খাওয়া হয়। ত্বকে ব্যবহারের জন্য পরিষ্কার ত্বকে দিনে কয়েকবার পাতলা করে লাগান। লেবেলে লেখা পরিমাণের চেয়ে বেশি খাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মুখে খাওয়া অ্যালো, বিশেষ করে কষযুক্ত পণ্য, শরীরে পটাশিয়াম কমাতে পারে; ফলে ডিগক্সিন, প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ ও কর্টিকোস্টেরয়েডের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
- এটি রক্তে শর্করা কমাতে পারে, তাই ডায়াবেটিসের ঔষধ খেলে সুগার মেপে দেখুন।
- একসাথে খাওয়া অন্য ঔষধের শোষণ কমাতে পারে; প্রায় ২ ঘণ্টা ব্যবধান রাখুন।
- যেকোনো ভেষজ পণ্য ব্যবহারের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
- অ্যালো বা লিলি পরিবারের গাছে (যেমন পেঁয়াজ, রসুন) অ্যালার্জি থাকলে।
- অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা, প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগ (যেমন ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিস), অ্যাপেন্ডিসাইটিস বা কারণ অজানা পেটব্যথায় মুখে খাবেন না।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ১২ বছরের কম বয়সী শিশুদের মুখে খাওয়ানো যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
মুখে খেলে পেট কামড়ানো, পাতলা পায়খানা বা ডায়রিয়া হতে পারে, বিশেষ করে কষযুক্ত পণ্যে। দীর্ঘদিন খেলে শরীর থেকে পানি ও পটাশিয়াম কমে যেতে পারে। ত্বকে লাগালে সংবেদনশীল মানুষের লালচে ভাব, চুলকানি বা র্যাশ হতে পারে।
তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতার লক্ষণ, পেশি দুর্বলতা বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় মুখে খাওয়ার অ্যালো পণ্য এড়িয়ে চলুন, কারণ এর জোলাপ উপাদান জরায়ুকে উদ্দীপ্ত করতে পারে এবং দুধে যেতে পারে। ত্বকের ছোট জায়গায় ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়, তবে আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
- অন্য পরামর্শ না থাকলে মুখে খাওয়ার পণ্য অল্প সময়ের জন্য ব্যবহার করুন।
- কোষ্ঠকাঠিন্য বা হজমের সমস্যা এক সপ্তাহের বেশি থাকলে ব্যবহার বন্ধ করে চিকিৎসকের কাছে যান।
- কিডনি রোগ, হৃদরোগ বা ডায়াবেটিস থাকলে মুখে খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
- গভীর ক্ষত বা গুরুতর পোড়ায় লাগাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণে খেলে তীব্র ডায়রিয়া, পেটব্যথা, পানিশূন্যতা ও পটাশিয়াম কমে যাওয়া হতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভেষজ (আয়ুর্বেদিক) প্রস্তুতি; হজম সহায়ক ও ত্বক প্রশমক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং খোলার পর লেবেলে ফ্রিজে রাখার নির্দেশনা থাকলে তা মেনে চলুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।