ব্যবহার
অ্যালোভেরা ও ভিটামিন ই অ্যাসিটেট একটি ত্বক পরিচর্যার উপাদান (সাধারণত ক্রিম, লোশন বা জেল)। শুষ্ক, খসখসে, আঁশ ওঠা বা হালকা জ্বালাপোড়া হওয়া ত্বককে আর্দ্র ও আরামদায়ক রাখতে এটি ব্যবহার করা হয়। হাত, মুখ ও শরীরের দৈনন্দিন শুষ্কতা, গোসলের পর টান টান ভাব এবং হালকা রোদে পোড়ার পর ত্বক শান্ত করতে এটি কাজে লাগে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যালোভেরা জেল আসে অ্যালো গাছের পাতা থেকে। এটি ত্বকের ওপর পানি ধরে রাখে এবং ঠান্ডা, প্রশান্ত অনুভূতি দেয়। ভিটামিন ই অ্যাসিটেট হলো ভিটামিন ই এর একটি স্থিতিশীল রূপ, যা একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট (কোষকে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে সাহায্য করে)। এটি ত্বক নরম করে এবং ত্বকের প্রাকৃতিক আর্দ্রতা রক্ষার স্তর ঠিক রাখতে সাহায্য করে। দুটি মিলে ত্বক থেকে পানি হারানো কমায় এবং ত্বক মসৃণ রাখে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু ত্বকের বাইরে ব্যবহারের জন্য। পরিষ্কার ও শুকনো ত্বকে পাতলা করে লাগিয়ে আলতোভাবে মালিশ করুন যতক্ষণ না শুষে যায়। সাধারণত দিনে ২ থেকে ৩ বার বা প্রয়োজনমতো ব্যবহার করা যায়। গোসলের ঠিক পরে, ত্বক সামান্য ভেজা থাকা অবস্থায় লাগালে সবচেয়ে ভালো ফল পাওয়া যায়। লেবেলের নির্দেশনা মেনে চলুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। একই জায়গায় অন্য ক্রিম (যেমন স্টেরয়েড বা ব্রণের ক্রিম) ব্যবহার করলে কয়েক মিনিট বিরতি দিয়ে লাগান, অথবা কোনটি আগে লাগাবেন তা ফার্মাসিস্টের কাছে জেনে নিন।
কারা খাবেন না
অ্যালো, লিলি পরিবারের গাছ, ভিটামিন ই বা পণ্যের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না। গভীর ক্ষত, গুরুতর পোড়া বা সংক্রমিত ত্বকে লাগাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
বেশিরভাগ মানুষ কোনো সমস্যা ছাড়াই এটি ব্যবহার করেন। কারও কারও লাগানোর জায়গায় হালকা জ্বালা, লালচে ভাব, চুলকানি বা ফুসকুড়ি হতে পারে, যা সাধারণত কোনো উপাদানের প্রতি সংবেদনশীলতার লক্ষণ। এমন হলে ব্যবহার বন্ধ করুন।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা সারা শরীরে ফুসকুড়ি দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন, কারণ এগুলো গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বকে অল্প পরিমাণে লাগানো সাধারণত গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ বলে মনে করা হয়। বুকের দুধ খাওয়ালে খাওয়ানোর ঠিক আগে স্তনবৃন্তে লাগাবেন না, অথবা আগে ধুয়ে ফেলুন।
সতর্কতা
- শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য, গিলবেন না।
- চোখে যেন না লাগে; লাগলে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- ত্বক সংবেদনশীল হলে আগে ছোট একটি জায়গায় পরীক্ষা করে নিন।
- ২ সপ্তাহের মধ্যে শুষ্কতা বা জ্বালা না কমলে, অথবা ত্বক ফেটে গেলে, রক্ত বের হলে বা সংক্রমিত মনে হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে ক্ষতির সম্ভাবনা কম, তবে তৈলাক্ত লাগতে পারে। কেউ, বিশেষ করে শিশু, বেশি পরিমাণে গিলে ফেললে মুখ ধুয়ে দিন এবং ডাক্তার বা বিষ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রে যোগাযোগ করুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমোলিয়েন্ট ও ময়েশ্চারাইজার (ত্বক পরিচর্যার উপাদান)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, সরাসরি রোদ থেকে দূরে, ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ রেখে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে সংরক্ষণ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।