ব্যবহার
এখানে অ্যালো বলতে অ্যালো গাছের শুকনো হলুদ রস (কষ) বোঝানো হয়েছে, যা ইউনানি ও আয়ুর্বেদে সিব্র বা মুসাব্বর নামে পরিচিত। ঐতিহ্যগতভাবে এটি অল্প সময়ের কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে শক্তিশালী জোলাপ হিসেবে ব্যবহৃত হয় এবং হজম ও অর্শের কয়েকটি ইউনানি যৌগিক ঔষধের উপাদান। এটি তীব্র বিরেচক হওয়ায় এখন কম ব্যবহার করা হয়, আর অন্যান্য প্রচলিত ব্যবহারের পক্ষে বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত।
কীভাবে কাজ করে
অ্যালোর কষে অ্যানথ্রাকুইনোন গ্লাইকোসাইড, প্রধানত অ্যালোইন, থাকে। বৃহদন্ত্রের ব্যাকটেরিয়া এগুলোকে সক্রিয় রূপে বদলে দেয়, যা অন্ত্রের ভেতরের আবরণকে উদ্দীপ্ত করে, মলত্যাগ বাড়ায় এবং মলে পানি টেনে এনে নরম করে। সাধারণত সেবনের ৬ থেকে ১২ ঘণ্টা পরে কাজ শুরু হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু লেবেলের নির্দেশনা বা নিবন্ধিত চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী খান। সাধারণত যৌগিক ঔষধের অংশ হিসেবে রাতে ঘুমানোর আগে খাওয়া হয়। সবচেয়ে কম কার্যকর পরিমাণে, সবচেয়ে কম সময়ের জন্য খান; চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া সাধারণত ১ থেকে ২ সপ্তাহের বেশি নয়। প্রচুর পানি পান করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যালোর কারণে পটাশিয়াম কমে গেলে ডিগক্সিন ও কিছু হৃৎছন্দের ঔষধের প্রভাব ও বিষক্রিয়া বাড়তে পারে।
- প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধ, কর্টিকোস্টেরয়েড ও যষ্টিমধুর সাথে পটাশিয়াম কমার ঝুঁকি বেশি।
- একসাথে খাওয়া অন্য ঔষধের শোষণ কমাতে পারে।
- রক্তে শর্করা কমাতে পারে; ডায়াবেটিসের ঔষধ খেলে সুগার মেপে দেখুন।
কারা খাবেন না
- অন্ত্রে প্রতিবন্ধকতা, অন্ত্র সরু হয়ে যাওয়া, অ্যাপেন্ডিসাইটিস বা কারণ অজানা পেটব্যথা থাকলে।
- ক্রোনস ডিজিজ বা আলসারেটিভ কোলাইটিসের মতো প্রদাহজনিত অন্ত্রের রোগে।
- তীব্র পানিশূন্যতা বা পটাশিয়াম কম থাকলে।
- গর্ভাবস্থা, বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এবং ১২ বছরের কম বয়সী শিশু।
- অ্যালোতে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পেট কামড়ানো ও ব্যথা, ডায়রিয়া, বমিভাব এবং প্রস্রাব লালচে বা বাদামি হতে পারে। দীর্ঘদিন খেলে শরীর থেকে পানি ও লবণ কমে যাওয়া, পটাশিয়াম কমা, পেশি দুর্বলতা, জোলাপের ওপর নির্ভরতা এবং অন্ত্রের আবরণ কালচে হয়ে যাওয়া (ক্ষতিকর নয়) দেখা দিতে পারে।
তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, তীব্র পেটব্যথা, মাথা ঘোরা ও খুব কম প্রস্রাবের মতো পানিশূন্যতার লক্ষণ, অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন বা স্পষ্ট পেশি দুর্বলতা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় খাবেন না, কারণ এটি জরায়ুকে উদ্দীপ্ত করতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও খাবেন না, কারণ সক্রিয় উপাদান দুধে গিয়ে শিশুর ডায়রিয়া ঘটাতে পারে।
সতর্কতা
- দীর্ঘমেয়াদি ব্যবহারের জন্য নয়; নিয়মিত খেলে অন্ত্রের স্বাভাবিক কাজ দুর্বল হতে পারে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য এক সপ্তাহের বেশি থাকলে, অথবা ওজন কমা, মলে রক্ত বা মলত্যাগের অভ্যাসে পরিবর্তন থাকলে চিকিৎসকের কাছে যান।
- বয়স্ক এবং কিডনি বা হৃদরোগীদের ক্ষেত্রে বাড়তি সতর্কতা নিন।
- কোষ্ঠকাঠিন্যে প্রথমে খাবারে আঁশ ও পানি বাড়ান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে পেট কামড়ানোসহ তীব্র ডায়রিয়া, পানিশূন্যতা, পটাশিয়াম ও অন্যান্য লবণ কমে যাওয়া এবং গুরুতর ক্ষেত্রে কিডনির সমস্যা হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন; চিকিৎসা মূলত তরল ও লবণ পূরণ।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইউনানি ও আয়ুর্বেদিক ভেষজ প্রস্তুতি; উদ্দীপক জোলাপ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।