ব্যবহার
অ্যালোগ্লিপটিন প্রাপ্তবয়স্কদের টাইপ ২ ডায়াবেটিসে খাদ্যাভ্যাস ও ব্যায়ামের পাশাপাশি রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার হয়। এটি একা অথবা মেটফরমিন, পিওগ্লিটাজোন, সালফোনিলইউরিয়া বা ইনসুলিনের মতো অন্য ডায়াবেটিসের ঔষধের সাথে ব্যবহার করা যায়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যালোগ্লিপটিন একটি ডিপিপি-৪ ইনহিবিটর (গ্লিপটিন)। এটি অন্ত্রের ইনক্রিটিন নামের প্রাকৃতিক হরমোনগুলোকে বেশি সময় সক্রিয় রাখে। এই হরমোন রক্তে শর্করা বেশি হলে অগ্ন্যাশয় থেকে বেশি ইনসুলিন বের করতে এবং শর্করা বাড়ানো হরমোন গ্লুকাগন কমাতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক: দিনে ১ বার ২৫ mg।
- কিডনির মাঝারি সমস্যা: দিনে ১ বার ১২.৫ mg।
- কিডনির গুরুতর সমস্যা বা ডায়ালাইসিস: দিনে ১ বার ৬.২৫ mg।
প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে, খাবারের সাথে বা ছাড়া খান। পানি দিয়ে আস্ত গিলে খান। সঠিক মাত্রা ঠিক করতে ডাক্তার কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যালোগ্লিপটিন একা খেলে কদাচিৎ রক্তে শর্করা কমে, তবে সালফোনিলইউরিয়া (যেমন গ্লিমেপিরাইড বা গ্লিক্লাজাইড) বা ইনসুলিনের সাথে খেলে ঝুঁকি বাড়ে; ডাক্তার সেগুলোর মাত্রা কমাতে পারেন। অন্য গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়া কম। আপনি যেসব ঔষধ খান তার সবগুলো ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- টাইপ ১ ডায়াবেটিস বা ডায়াবেটিক কিটোএসিডোসিস থাকলে।
- অ্যালোগ্লিপটিন বা অন্য ডিপিপি-৪ ইনহিবিটরে আগে গুরুতর অ্যালার্জি হয়ে থাকলে।
- ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: মাথাব্যথা, সর্দির মতো লক্ষণ, চুলকানি, র্যাশ, পেটব্যথা ও অ্যাসিড উঠে আসা। সালফোনিলইউরিয়া বা ইনসুলিনের সাথে খেলে রক্তে শর্করা কমে যেতে পারে (কাঁপুনি, ঘাম, ক্ষুধা, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বিভ্রান্তি); সঙ্গে সঙ্গে চিনি বা মিষ্টি পানীয় খান।
পেটে তীব্র ও দীর্ঘস্থায়ী ব্যথা যা পিঠে ছড়িয়ে যেতে পারে, বমিসহ বা ছাড়া (সম্ভাব্য প্যানক্রিয়াটাইটিস); চামড়ায় ফোসকা; মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট; চামড়া বা চোখ হলুদ হওয়া, গাঢ় প্রস্রাব বা ক্ষুধামন্দা (সম্ভাব্য লিভারের সমস্যা); নতুন শ্বাসকষ্ট বা গোড়ালি ফোলা; অথবা গিঁটে তীব্র ব্যথা হলে দেরি না করে জরুরি চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় সুপারিশ করা হয় না; এ সময় রক্তে শর্করা নিয়ন্ত্রণে সাধারণত ইনসুলিন বেছে নেওয়া হয়। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই, তাই ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এড়িয়ে চলাই ভালো।
সতর্কতা
শুরুর আগে ও মাঝে মাঝে কিডনির কার্যক্ষমতা পরীক্ষা করা উচিত। লিভারের রোগ, হার্ট ফেইলিউর বা আগে প্যানক্রিয়াটাইটিস হয়ে থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার লক্ষণ ও তার প্রতিকার জেনে নিন, বিশেষ করে সালফোনিলইউরিয়া বা ইনসুলিন খেলে। খাদ্যাভ্যাস, ব্যায়াম ও নিয়মিত শর্করা পরীক্ষা চালিয়ে যান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
নির্দিষ্ট কোনো প্রতিষেধক নেই। নির্ধারিত মাত্রার চেয়ে অনেক বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন; রক্তে শর্করা ও সামগ্রিক অবস্থা পর্যবেক্ষণ করার প্রয়োজন হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ডায়াবেটিসের ঔষধ (ডিপিপি-৪ ইনহিবিটর, গ্লিপটিন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।