ব্যবহার
অ্যালপ্রাজোলাম তীব্র উদ্বেগ স্বল্প সময়ের জন্য কমাতে এবং প্যানিক ডিসঅর্ডারে (হঠাৎ তীব্র ভয়ের আক্রমণ) ব্যবহার হয়, খোলা বা ভিড়ের জায়গার ভয় থাকুক বা না থাকুক। এটি প্রেসক্রিপশনের ঔষধ এবং সাধারণত সীমিত সময়ের জন্য দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যালপ্রাজোলাম একটি বেনজোডায়াজেপিন। এটি মস্তিষ্কের প্রাকৃতিক শান্তকারী রাসায়নিক GABA এর কাজ বাড়ায়, ফলে উদ্বেগ ও আতঙ্ক কমে এবং শরীর শিথিল ও ঘুম ঘুম লাগে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- উদ্বেগ, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত ০.২৫ থেকে ০.৫ mg দিনে তিনবার। ডাক্তার মাত্রা বদলাতে পারেন; উদ্বেগে মোট মাত্রা সাধারণত দিনে ৪ mg এর বেশি নয়।
- বয়স্ক বা দুর্বল ব্যক্তি: কম মাত্রায় শুরু, প্রায়ই ০.২৫ mg দিনে দুই বা তিনবার।
- প্যানিক ডিসঅর্ডার ও এক্সটেন্ডেড রিলিজ (XR) ট্যাবলেট: ডাক্তারের নির্দেশমতো। XR ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান।
- সবচেয়ে কম কার্যকর মাত্রা সবচেয়ে কম সময়ের জন্য খান। নিয়মিত খাওয়ার পর হঠাৎ বন্ধ করবেন না; ডাক্তার ধীরে ধীরে মাত্রা কমাবেন।
- শিশুদের জন্য নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- মদ, ট্রামাডল বা কোডিনের মতো অপিওয়েড ব্যথানাশক ও কাশির ঔষধ, ঘুমের ঔষধ, অন্য শান্তকারী ঔষধ ও ঘুম আনা অ্যান্টিহিস্টামিন: গভীর ঘুম ও বিপজ্জনকভাবে ধীর শ্বাসের ঝুঁকি।
- কিটোকোনাজল ও ইট্রাকোনাজল অ্যালপ্রাজোলামের মাত্রা অনেক বাড়ায়; একসাথে খাওয়া যাবে না।
- ক্লারিথ্রোমাইসিন, ইরিথ্রোমাইসিন, ফ্লুভক্সামিন, ফ্লুক্সেটিন, কিছু এইচআইভির ঔষধ ও জাম্বুরার রসও মাত্রা বাড়াতে পারে।
- কার্বামাজেপিন ও রিফামপিসিন এর কাজ কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- অ্যালপ্রাজোলাম বা অন্য বেনজোডায়াজেপিনে এলার্জি থাকলে।
- মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিস (মাংসপেশি দুর্বলতার রোগ) থাকলে।
- গুরুতর শ্বাসকষ্টের রোগ বা ঘুমের মধ্যে শ্বাস বন্ধ হওয়ার সমস্যা (স্লিপ অ্যাপনিয়া) থাকলে।
- লিভারের গুরুতর অকার্যকারিতা থাকলে।
- তীব্র ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে।
- কিটোকোনাজল বা ইট্রাকোনাজল খেলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: ঘুম ঘুম ভাব, মাথা ঘোরা, ক্লান্তি, টলমল ভাব, মনোযোগ কমা, ভুলে যাওয়া ও কথা জড়িয়ে যাওয়া।
জরুরি চিকিৎসা নিন যদি: শ্বাস ধীর বা অগভীর হয়, খুব বেশি ঘুম পায় বা জাগানো কঠিন হয়, তীব্র বিভ্রান্তি, অস্বাভাবিক অস্থিরতা বা আক্রমণাত্মক আচরণ দেখা দেয়, নিজের ক্ষতি করার চিন্তা আসে, ঔষধ বন্ধের পর খিঁচুনি হয়, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো এলার্জির লক্ষণ দেখা দেয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন, বিশেষ করে প্রথম তিন মাসে ও প্রসবের কাছাকাছি সময়ে, কারণ নবজাতকের শরীর নেতিয়ে পড়া, শ্বাসের সমস্যা ও প্রত্যাহারজনিত উপসর্গ হতে পারে। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় পরামর্শ দেওয়া হয় না, কারণ এটি দুধে যায় এবং শিশুকে ঘুমকাতুরে করতে পারে। শুরু বা বন্ধ করার আগে ডাক্তারের সাথে কথা বলুন।
সতর্কতা
- সাধারণ মাত্রাতেও এতে আসক্তি ও প্রত্যাহারজনিত সমস্যা হতে পারে। শুধু প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান, অন্যকে দেবেন না।
- ঘুম ঘুম লাগলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- বয়স্কদের পড়ে যাওয়া ও বিভ্রান্তির ঝুঁকি বেশি।
- বিষণ্নতা, শ্বাসযন্ত্রের রোগ, লিভার বা কিডনির রোগ এবং মদ বা মাদকে আসক্তির ইতিহাস থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে গভীর ঘুম, বিভ্রান্তি, ভারসাম্যহীনতা, ধীর শ্বাস ও অচেতনতা হতে পারে, আর মদ বা অপিওয়েডের সাথে হলে আরও বিপজ্জনক। এটি জরুরি অবস্থা: সাথে সাথে চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে প্রয়োজনে প্রতিষেধক (ফ্লুমাজেনিল) দেওয়া হতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বেনজোডায়াজেপিন; উদ্বেগনাশক ঔষধ।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশু ও অন্যদের নাগালের বাইরে নিরাপদে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।