ব্যবহার
অ্যালুমিনিয়াম ক্লোরাইড হেক্সাহাইড্রেট একটি শক্তিশালী ঘাম-রোধক, যা ত্বকে লাগিয়ে অতিরিক্ত ঘাম (হাইপারহাইড্রোসিস) নিয়ন্ত্রণে ব্যবহার করা হয়। বগল, হাতের তালু, পায়ের তলা এবং কখনো মাথার ত্বক বা মুখের অতিরিক্ত ঘামে এটি কাজে আসে। সাধারণ ডিওডোরেন্ট বা ঘাম-রোধকে কাজ না হলে এটি ব্যবহার করা হয়। ঘামজনিত শরীরের দুর্গন্ধ কমাতেও এটি সাহায্য করতে পারে।
কীভাবে কাজ করে
শুকনো ত্বকে লাগালে অ্যালুমিনিয়াম লবণ ঘামের সাথে বিক্রিয়া করে ঘামের নালির মুখে ছোট ছোট প্লাগ তৈরি করে। এগুলো ঘামকে ত্বকের ওপরে আসতে বাধা দেয়। নিয়মিত ব্যবহারে ঘামগ্রন্থিও কম ঘাম তৈরি করে। ত্বকের স্বাভাবিক নবায়নে প্লাগগুলো ধীরে ধীরে উঠে যায়, তাই চিকিৎসা বারবার করতে হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সাধারণত ১৫% থেকে ২০% দ্রবণ বা রোল-অন ব্যবহার করা হয়। রাতে সম্পূর্ণ শুকনো ত্বকে পাতলা করে লাগান, কারণ তখন ঘামগ্রন্থি সবচেয়ে কম সক্রিয় থাকে। সকালে ধুয়ে ফেলুন। ঘাম নিয়ন্ত্রণে না আসা পর্যন্ত (প্রায়ই ১ থেকে ২ সপ্তাহ) প্রতি রাতে লাগান, এরপর সপ্তাহে ১ বা ২ বার, অথবা লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী ব্যবহার করুন। শেভ বা গোসলের ঠিক পরে লাগাবেন না; শেভের পর অন্তত ২৪ থেকে ৪৮ ঘণ্টা অপেক্ষা করুন এবং ত্বক পুরোপুরি শুকনো রাখুন। ব্যবহারের পর হাত ধুয়ে নিন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ঔষধের সাথে উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। একই জায়গায় একই সময়ে অন্য জ্বালা সৃষ্টিকারী পণ্য, যেমন ডিওডোরেন্ট, সুগন্ধি বা অ্যালকোহলযুক্ত পণ্য ব্যবহার এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
কাটা, জ্বালাপোড়া, সংক্রমিত বা সদ্য শেভ করা ত্বকে, চোখের কাছে বা মুখ ও নাকের ভেতরের নরম ত্বকে লাগাবেন না। অ্যালুমিনিয়াম লবণ বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- লাগানোর জায়গায় জ্বালা, হুল ফোটানোর মতো অনুভূতি বা চুলকানি।
- ত্বক লাল হওয়া, শুষ্কতা বা জ্বালাপোড়া।
- কিছু কাপড় ও ধাতব গয়নায় দাগ বা ক্ষতি হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে অথবা ফোসকাসহ তীব্র বা ছড়িয়ে পড়া ফুসকুড়ি হলে ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বক দিয়ে খুব সামান্য শোষিত হয়, তাই ছোট জায়গায় ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য মনে করা হয়। গর্ভবতী বা বুকের দুধ খাওয়ালে ব্যবহারের আগে ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন, এবং দুধ খাওয়ানোর সময় স্তনের আশেপাশে লাগাবেন না।
সতর্কতা
শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। চোখ থেকে দূরে রাখুন; চোখে লাগলে ভালো করে পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। জ্বালা হলে কম ঘন ঘন ব্যবহার করুন বা আগে ধুয়ে ফেলুন; ফার্মাসিস্টের পরামর্শে হালকা হাইড্রোকর্টিসোন ক্রিম সাহায্য করতে পারে, জ্বালা না কমলে ডাক্তার দেখান। দ্রবণে অ্যালকোহল থাকে, তাই আগুন থেকে দূরে রাখুন। হঠাৎ অতিরিক্ত ঘাম, রাতে ঘাম বা ওজন কমা ও জ্বরসহ ঘাম হলে ডাক্তার দেখান। শিশুদের ক্ষেত্রে শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে মূলত জ্বালা বাড়ে; জায়গাটি পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন। ভুল করে গিলে ফেললে মুখ ধুয়ে পানি পান করুন এবং চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারের ঘাম-রোধক (অ্যাস্ট্রিনজেন্ট)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, ঢাকনা শক্ত করে বন্ধ রেখে, তাপ, আগুন ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।