ব্যবহার
অ্যালভেরিন সাইট্রেট অন্ত্রের খিঁচুনি ও মোচড়ানো ব্যথা কমাতে ব্যবহার হয়, যেমন ইরিটেবল বাওয়েল সিনড্রোম (IBS), ডাইভার্টিকুলার রোগ ও অন্যান্য অন্ত্রের সংকোচন। জরায়ুর পেশির সংকোচনজনিত মাসিকের ব্যথাতেও (ডিসমেনোরিয়া) এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যালভেরিন একটি অ্যান্টিস্পাজমোডিক ঔষধ। এটি অন্ত্র ও জরায়ুর দেয়ালের মসৃণ পেশিতে সরাসরি কাজ করে পেশিকে শিথিল করে। ফলে পেশি অতিরিক্ত চাপ দেওয়ায় যে খিঁচুনি, পেট ফাঁপা ও ব্যথা হয় তা কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ৬০ mg থেকে ১২০ mg, দিনে ১ থেকে ৩ বার, পানি দিয়ে পুরো গিলে খান। উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে যত কম মাত্রা লাগে তত কম মাত্রা নিন। চিকিৎসক না বললে ১২ বছরের কম বয়সীদের জন্য উপযুক্ত নয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। ভেষজসহ আপনি যে সব ঔষধ খান তা চিকিৎসক বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- অ্যালভেরিন সাইট্রেটে অ্যালার্জি থাকলে।
- প্যারালাইটিক ইলিয়াস (অন্ত্রের চলাচল থেমে যাওয়া) বা অন্ত্রে বাধা থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কম হয়। বমিভাব, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, চুলকানি ও র্যাশ হতে পারে। খুব কম ক্ষেত্রে লিভারের সমস্যা (ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া) দেখা গেছে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, ত্বক বা চোখ হলুদ হলে, অথবা পেটে তীব্র ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
নিরাপত্তার তথ্য কম থাকায় গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত এটি সুপারিশ করা হয় না। শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
বয়স ৪০ এর বেশি হলে এবং অন্ত্রের উপসর্গ নতুন বা পরিবর্তিত হলে, মলে রক্ত, অকারণে ওজন কমা, জ্বর, রক্তস্বল্পতা, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য বা প্রস্রাবে ব্যথা থাকলে শুরুর আগে চিকিৎসক দেখান। উপসর্গ বাড়লে বা ২ সপ্তাহে না কমলে পরামর্শ নিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ কমে যেতে পারে, গুরুতর ক্ষেত্রে ঝিমুনি বা খিঁচুনি হতে পারে। দ্রুত চিকিৎসা নিন; চিকিৎসা লক্ষণ অনুযায়ী সহায়ক।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিস্পাজমোডিক (মসৃণ পেশি শিথিলকারী)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।