ব্যবহার
অ্যামান্টাডিন হাইড্রোক্লোরাইড পার্কিনসন্স রোগ ও একই ধরনের চলাফেরার সমস্যার (পার্কিনসনিজম) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যার মধ্যে কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক ঔষধজনিত শক্ত ভাব ও কাঁপুনিও রয়েছে। এটি লেভোডোপাজনিত অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া (ডিসকিনেসিয়া) কমাতেও ব্যবহৃত হয়। আগে এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা এ প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহৃত হতো, কিন্তু এখন বেশিরভাগ ফ্লু ভাইরাস এর প্রতিরোধী, তাই ফ্লুতে এখন খুব কম ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যামান্টাডিন মস্তিষ্কে ডোপামিনের নিঃসরণ বাড়ায় (পার্কিনসন্স রোগে এই রাসায়নিক কম থাকে) এবং অস্বাভাবিক নড়াচড়ার সাথে জড়িত এনএমডিএ রিসেপ্টর আটকে দেয়। এতে চলাফেরা, শক্ত ভাব ও কাঁপুনি কমে। ইনফ্লুয়েঞ্জা এ এর ক্ষেত্রে এটি কোষে সংক্রমণের জন্য দরকারি একটি ভাইরাস প্রোটিন (এম২) আটকে দেয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান। পার্কিনসন্স রোগে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দিনে ১ বার ১০০ mg দিয়ে শুরু করে প্রায় এক সপ্তাহ পর দিনে ২ বার ১০০ mg করা হয়; চিকিৎসক প্রয়োজনে মাত্রা বদলাতে পারেন। ঘুমের সমস্যা এড়াতে শেষ মাত্রা বিকেলের মাঝামাঝির মধ্যে খান। বয়স্ক ও কিডনি রোগীদের কম মাত্রা লাগে। হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে লক্ষণ তীব্রভাবে বাড়তে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ট্রাইহেক্সিফেনিডিলের মতো অ্যান্টিকোলিনার্জিক ঔষধ, অ্যান্টিহিস্টামিন ও কিছু অ্যান্টিডিপ্রেসেন্ট বিভ্রান্তি ও হ্যালুসিনেশন বাড়াতে পারে। হাইড্রোক্লোরোথায়াজাইড ও ট্রায়ামটেরিনের মতো ঔষধ অ্যামান্টাডিনের মাত্রা বাড়াতে পারে। অ্যালকোহল মাথা ঘোরা ও বিভ্রান্তি বাড়ায়। নাকে দেওয়া জীবন্ত ফ্লু টিকার কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
অ্যামান্টাডিনে অ্যালার্জি থাকলে, তীব্র কিডনি রোগ, খিঁচুনি বা পেপটিক আলসারের ইতিহাস থাকলে (চিকিৎসক না বললে), অথবা চিকিৎসাহীন ক্লোজড-অ্যাঙ্গেল গ্লকোমা থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- মাথা ঘোরা, দাঁড়ালে হালকা ভাব
- বমিভাব, মুখ শুকিয়ে যাওয়া, কোষ্ঠকাঠিন্য
- ঘুমের সমস্যা, স্পষ্ট স্বপ্ন, অস্থিরতা
- গোড়ালি ফোলা
- পায়ের ত্বকে জালের মতো বেগুনি দাগ (লিভেডো রেটিকুলারিস)
- বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন, বিশেষ করে বয়স্কদের
খিঁচুনি, তীব্র বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন, নিজের ক্ষতি করার চিন্তা, ঝাপসা দেখা বা চোখে ব্যথা, অজ্ঞান হওয়া, অথবা পেশি শক্ত হয়ে উচ্চ জ্বর (বিশেষ করে হঠাৎ ঔষধ বন্ধের পর) হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক অপরিহার্য মনে না করলে গর্ভাবস্থায় এড়িয়ে চলুন, কারণ এটি শিশুর ক্ষতি করতে পারে। এটি বুকের দুধে যায় এবং দুধের পরিমাণ কমাতে পারে, তাই খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
মাথা ঘোরা বা ঝাপসা দেখলে গাড়ি চালাবেন না। হার্ট ফেইলিউর, কিডনির রোগ, মৃগী, চোখের চাপের সমস্যা ও মানসিক স্বাস্থ্যের সমস্যা থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। কারও কারও জুয়া খেলা বা অতিরিক্ত খাওয়ার মতো তীব্র আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়; এমন হলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে অস্থিরতা, বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন, হৃদস্পন্দনের সমস্যা, খিঁচুনি ও শ্বাসকষ্ট হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পার্কিনসনরোধী ঔষধ (ডোপামিনার্জিক, এনএমডিএ অ্যান্টাগনিস্ট); অ্যান্টিভাইরাল (অ্যাডামান্টেন)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।