ব্যবহার
অ্যামব্রক্সল একটি মিউকোলাইটিক, অর্থাৎ কফ পাতলা করার ঔষধ। তীব্র ও দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিসসহ বুক ও শ্বাসনালির যেসব রোগে ঘন, আঠালো কফ সহজে বের হয় না, সেসব কাশিতে এটি ব্যবহার হয়। লজেঞ্জ গলাব্যথা কমাতে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যামব্রক্সল শ্বাসনালির কফ পাতলা ও কম আঠালো করে এবং শ্বাসনালির ভেতরের সূক্ষ্ম লোমগুলোকে কফ বাইরে ঠেলে দিতে সাহায্য করে, ফলে কাশির সাথে কফ সহজে বের হয়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশু: সাধারণত প্রথম ২ থেকে ৩ দিন ৩০ mg দিনে ৩ বার, তারপর ৩০ mg দিনে ২ বার। সিরাপ (৫ ml এ ১৫ mg): ১০ ml দিনে ২ বা ৩ বার।
- ৬ থেকে ১২ বছর: ১৫ mg দিনে ২ বা ৩ বার।
- ২ থেকে ৫ বছর: ৭.৫ mg দিনে ৩ বার।
- ২ বছরের কম বয়সী শিশু: শুধু ডাক্তারের নির্দেশমতো।
খাবারের পরে এক গ্লাস পানি দিয়ে খান। বেশি করে পানি পান করলে ঔষধ ভালো কাজ করে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যামব্রক্সল কিছু অ্যান্টিবায়োটিকের (যেমন অ্যামোক্সিসিলিন, সেফুরক্সিম, ইরিথ্রোমাইসিন ও ডক্সিসাইক্লিন) ফুসফুসে পৌঁছানো পরিমাণ বাড়াতে পারে, যা ক্ষতিকর নয়। ডাক্তার না বললে ডেক্সট্রোমেথরফান বা কোডেইনের মতো কাশি দমনকারী ঔষধের সাথে একসাথে খাবেন না, কারণ পাতলা কফ বের হতে বাধা পেতে পারে।
কারা খাবেন না
- অ্যামব্রক্সল, ব্রোমহেক্সিন বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- কিছু সিরাপে চিনি বা সরবিটল থাকে; ডায়াবেটিস বা বংশগত শর্করা অসহিষ্ণুতা থাকলে লেবেল দেখে নিন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কখনো কখনো বমিভাব, পেটে অস্বস্তি, ডায়রিয়া, স্বাদে পরিবর্তন বা মুখ ও গলা অবশ লাগা হতে পারে।
ঔষধ বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন যদি মুখ, ঠোঁট বা গলা ফোলে, শ্বাসকষ্ট হয়, অথবা ফোসকা, চামড়া উঠে যাওয়া বা মুখে ঘাসহ ছড়িয়ে পড়া র্যাশ হয়, যা বিরল কিন্তু মারাত্মক ত্বক প্রতিক্রিয়ার লক্ষণ হতে পারে।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার প্রথম তিন মাসে খাওয়া উচিত নয়। পরের দিকে শুধু ডাক্তারের পরামর্শে খান। এটি বুকের দুধে যায়, তাই ডাক্তার না বললে দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়া উচিত নয়।
সতর্কতা
- পাকস্থলীর আলসার এবং কিডনি বা লিভারের গুরুতর রোগে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- কাশি ২ সপ্তাহের বেশি থাকলে, অথবা বেশি জ্বর, কফে রক্ত, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট হলে ডাক্তার দেখান।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশুকে দেবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
সাধারণত গুরুতর সমস্যা হয় না। বেশি খেলে বমিভাব, পেটের সমস্যা, ডায়রিয়া বা অস্থিরতা হতে পারে। বেশি খেয়ে ফেললে, বিশেষ করে কোনো শিশু খেয়ে ফেললে, চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মিউকোলাইটিক (কফ নিঃসারক)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।