ব্যবহার
অ্যামেনামেভির একটি ভাইরাসবিরোধী ট্যাবলেট, যা প্রাপ্তবয়স্কদের শিংগলস (হারপিস জোস্টার) চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি জলবসন্তের ভাইরাস আবার সক্রিয় হয়ে হওয়া ব্যথাযুক্ত ফোসকাসহ র্যাশ। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, সম্ভব হলে র্যাশ ওঠার ৫ দিনের মধ্যে শুরু করলে এটি সবচেয়ে ভালো কাজ করে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যামেনামেভির হেলিকেজ-প্রাইমেজ এনজাইম কমপ্লেক্স আটকে দেয়, যা ভ্যারিসেলা-জোস্টার ভাইরাসের জিনগত উপাদান খুলে কপি করতে প্রয়োজন। এতে ভাইরাসের বংশবৃদ্ধি বন্ধ হয়, র্যাশ দ্রুত সারে এবং নতুন ফোসকা ওঠার সময় কমে। অন্য কিছু ভাইরাসবিরোধীর মতো কিডনির কার্যক্ষমতা অনুযায়ী এর মাত্রা বদলাতে হয় না।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা ৪০০ mg (যেমন ২০০ mg-এর দুটি ট্যাবলেট) দিনে একবার খাওয়ার পরে, ৭ দিন, অথবা চিকিৎসকের নির্দেশমতো। খালি পেটে এটি ভালোভাবে শোষিত হয় না, তাই খাবারের পর খান। র্যাশ ভালো হয়ে গেলেও পুরো কোর্স শেষ করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রিফামপিসিন অ্যামেনামেভিরের মাত্রা অনেক কমিয়ে দেয়; একসাথে ব্যবহার করা উচিত নয়।
- কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন বা সেন্ট জনস ওয়র্টের মতো অন্য শক্তিশালী এনজাইম ইনডিউসার এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- কিটোকোনাজোল, ক্লারিথ্রোমাইসিন বা রিটোনাভিরের মতো শক্তিশালী CYP3A ইনহিবিটর এবং আঙুরফলের রস (গ্রেপফ্রুট) এর মাত্রা বাড়াতে পারে।
- অ্যামেনামেভির মিডাজোলাম, নিফেডিপিন বা সাইক্লোস্পোরিনের মতো CYP3A দ্বারা ভাঙা কিছু ঔষধের মাত্রা কমাতে পারে; চিকিৎসক সেগুলো সমন্বয় করতে পারেন।
কারা খাবেন না
- অ্যামেনামেভির বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- রিফামপিসিন খেলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত এটি ভালোভাবে সহ্য হয়। মাথাব্যথা, বমিভাব, পেটে অস্বস্তি, পাতলা পায়খানা, র্যাশ এবং রক্ত পরীক্ষায় লিভার বা রক্তকণিকার পরিবর্তন হতে পারে।
মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, ফোসকা বা চামড়া ওঠাসহ গুরুতর ত্বকের প্রতিক্রিয়া, ব্যথা বা দৃষ্টির পরিবর্তনসহ চোখে র্যাশ ছড়ালে, অথবা বিভ্রান্তি, তীব্র মাথাব্যথা বা দুর্বলতা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এর নিরাপত্তা প্রমাণিত নয় এবং প্রাণী গবেষণায় সম্ভাব্য প্রভাব দেখা গেছে। চিকিৎসক অত্যাবশ্যক মনে করলেই ব্যবহার করুন। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; চিকিৎসক অন্য পরামর্শ না দিলে চিকিৎসার সময় বুকের দুধ খাওয়ানো এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
- চোখের কাছে শিংগলস হলে, বা রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা কম থাকলে, দ্রুত বিশেষজ্ঞের চিকিৎসা প্রয়োজন।
- ফোসকা ঢেকে রাখুন এবং ফোসকা শুকিয়ে পামড়ি না পড়া পর্যন্ত গর্ভবতী নারী, নবজাতক ও যাদের জলবসন্ত হয়নি তাদের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
- শিশুদের উপর গবেষণা হয়নি।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনের অভিজ্ঞতা কম। নির্দেশিত মাত্রার বেশি খেলে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ভাইরাসবিরোধী (হেলিকেজ-প্রাইমেজ ইনহিবিটর)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।