ব্যবহার
এটি একটি জীবাণুমুক্ত শিরাপথে (IV) দেওয়ার দ্রবণ, যাতে অ্যামিনো অ্যাসিড (প্রোটিনের গঠন উপাদান), শক্তির উৎস হিসেবে ডি-সরবিটল, ভিটামিন ও ইলেক্ট্রোলাইট (শরীরের লবণ) থাকে। যেসব রোগী যথেষ্ট খেতে পারেন না বা যাদের প্রোটিনের চাহিদা বেড়ে গেছে, যেমন অস্ত্রোপচারের আগে ও পরে, আঘাত বা পোড়ার পর, গুরুতর অসুস্থতায় বা রক্তে প্রোটিন কম থাকলে, তাদের শিরাপথে প্রোটিন ও পুষ্টি দিতে এটি ব্যবহৃত হয়। সাধারণত এটি একটি বড় পুষ্টি পরিকল্পনার অংশ।
কীভাবে কাজ করে
অ্যামিনো অ্যাসিড শরীরের কোষে গিয়ে প্রোটিন তৈরি ও মেরামতে কাজে লাগে, যা ক্ষত শুকানো, পেশি ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সহায়তা করে। ডি-সরবিটল লিভারে শর্করার এমন রূপে বদলে যায় যা শরীর শক্তি হিসেবে ব্যবহার করতে পারে, ফলে প্রোটিন জ্বালানি হিসেবে পুড়ে যাওয়া থেকে রক্ষা পায়। যোগ করা ভিটামিন পুষ্টি ব্যবহারে সাহায্য করে এবং ইলেক্ট্রোলাইট লবণ ও পানির ভারসাম্য বজায় রাখে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু হাসপাতাল বা ক্লিনিকে চিকিৎসক বা নার্স শিরাপথে ধীরে ইনফিউশন হিসেবে এটি দেন। রোগীর ওজন, অবস্থা, তরলের প্রয়োজন ও রক্ত পরীক্ষার ফল অনুযায়ী চিকিৎসক পরিমাণ, গতি ও সময় ঠিক করেন এবং ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী দেওয়া হয়। খুব দ্রুত দিলে বমি বমি ভাব, মুখ লাল হওয়া ও শিরায় জ্বালা হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ফার্মেসির নির্দেশনায় শুধু উপযুক্ত বলে জানা ঔষধই দ্রবণে মেশানো উচিত। মূত্রবর্ধক, এসিই ইনহিবিটর ও কর্টিকোস্টেরয়েডের মতো পটাশিয়াম বা সোডিয়ামকে প্রভাবিত করে এমন ঔষধে সতর্কতা দরকার। ভিটামিন উপাদান কিছু পরীক্ষা বা চিকিৎসায় প্রভাব ফেলতে পারে; যেমন দ্রবণে ভিটামিন কে থাকলে তা ওয়ারফারিনের কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
বংশগত ফ্রুক্টোজ অসহিষ্ণুতা (কারণ সরবিটল ফ্রুক্টোজে পরিণত হয়ে বিপজ্জনক প্রতিক্রিয়া ঘটাতে পারে), অ্যামিনো অ্যাসিড বিপাকের জন্মগত ত্রুটি, গুরুতর লিভার বিকলতা বা হেপাটিক কোমা, ডায়ালাইসিস ছাড়া গুরুতর কিডনি বিকলতা, গুরুতর অ্যাসিডোসিস, শরীরে অতিরিক্ত তরল, তরল জমাসহ হার্ট ফেইলিওর, দ্রবণে থাকা ইলেক্ট্রোলাইট রক্তে আগে থেকেই বেশি থাকলে, অথবা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে এটি ব্যবহার করা হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য প্রভাবের মধ্যে আছে বমি বমি ভাব, বমি, মুখ লাল হওয়া, কাঁপুনি, জ্বর, মাথাব্যথা, বুকে অস্বস্তি এবং ইনফিউশনের জায়গায় শিরায় ব্যথা বা প্রদাহ, বিশেষ করে খুব দ্রুত দিলে। ইলেক্ট্রোলাইট বা অম্ল-ক্ষারের গরমিল, রক্তে ইউরিয়া বাড়া ও অ্যালার্জি হতে পারে।
র্যাশ, চুলকানি, মুখ ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, তীব্র বমি, বিভ্রান্তি, অথবা স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা ও ফোলা হলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা চিকিৎসককে জানান, কারণ এগুলোর জন্য জরুরি চিকিৎসা প্রয়োজন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক শিরাপথে পুষ্টি প্রয়োজন মনে করলে পর্যবেক্ষণের মধ্যে গর্ভাবস্থায় ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি দেওয়া যেতে পারে।
সতর্কতা
- ব্যবহারের আগে ফ্রুক্টোজ অসহিষ্ণুতা আছে কিনা জেনে নিন, বিশেষ করে শিশুদের ক্ষেত্রে।
- তরলের ভারসাম্য, ইলেক্ট্রোলাইট, রক্তের শর্করা, কিডনি ও লিভারের কাজ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- কিডনি বা লিভারের রোগ, হার্ট ফেইলিওর ও বয়স্ক রোগীদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- ধীরে ইনফিউশন দিন এবং কঠোর জীবাণুমুক্ত পদ্ধতি মেনে চলুন।
- দ্রবণ স্বচ্ছ ও পাত্র অক্ষত থাকলেই ব্যবহার করুন; অব্যবহৃত অংশ ফেলে দিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
অতিরিক্ত বা দ্রুত ইনফিউশনে শরীরে তরল জমা, বমি বমি ভাব, বমি, মুখ লাল হওয়া, কাঁপুনি, অ্যাসিডোসিস ও ইলেক্ট্রোলাইটের ভারসাম্যহীনতা হতে পারে। ইনফিউশন বন্ধ করে উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা করা হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্যারেন্টারাল নিউট্রিশন দ্রবণ (সরবিটল, ভিটামিন ও ইলেক্ট্রোলাইটসহ অ্যামিনো অ্যাসিড)
সংরক্ষণ
প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সাধারণত ২৫°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে রাখুন, জমাবেন না। শুধু হাসপাতালে ব্যবহারের জন্য; শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।