ব্যবহার
এটি একটি পুষ্টি দ্রবণ, যাতে অ্যামাইনো অ্যাসিড (প্রোটিন তৈরির মূল উপাদান), গ্লুকোজ (শক্তির জন্য শর্করা) এবং ইলেক্ট্রোলাইট (সোডিয়াম, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও ফসফেটের মতো শরীরের লবণ) থাকে। যারা যথেষ্ট খাবার খেতে বা হজম করতে পারেন না, যেমন বড় অস্ত্রোপচারের পর, গুরুতর অসুস্থতা, পোড়া, অন্ত্রের জটিল রোগ বা দীর্ঘদিন বমির ক্ষেত্রে, তাদের প্যারেন্টেরাল নিউট্রিশন হিসেবে এটি মূলত শিরায় স্যালাইনের মতো দেওয়া হয়। একই ধরনের উপাদানের কিছু পণ্য মুখে খাওয়ার পুষ্টি সাপ্লিমেন্ট হিসেবে পাওয়া যায়; সেগুলোর ক্ষেত্রে লেবেলের নির্দেশনা মানুন।
কীভাবে কাজ করে
শরীর অ্যামাইনো অ্যাসিড দিয়ে পেশি, অঙ্গ ও রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার প্রোটিন তৈরি ও মেরামত করে। গ্লুকোজ শক্তি জোগায়, ফলে অ্যামাইনো অ্যাসিড জ্বালানি হিসেবে খরচ না হয়ে টিস্যু মেরামতে কাজে লাগে। ইলেক্ট্রোলাইট শরীরের পানির ভারসাম্য, স্নায়ু ও পেশির কাজ এবং হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক রাখে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাক্তার বা নার্স সাধারণত হাসপাতালে হাতের শিরা বা সেন্ট্রাল লাইনের মাধ্যমে এই ইনফিউশন দেন। পরিমাণ ও গতি শরীরের ওজন, অসুস্থতা, পানির চাহিদা ও রক্ত পরীক্ষার ফল অনুযায়ী ডাক্তার নির্ধারণ করেন এবং প্রতিদিন প্রয়োজনমতো বদলান। সাধারণত ধীরে শুরু করা হয় এবং ধীরে ধীরে বন্ধ করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ব্যাগে কোনো ঔষধ মেশাতে হলে তা শুধু হাসপাতালের ফার্মেসি করবে। গ্লুকোজের কারণে ইনসুলিন নেওয়া রোগীদের মাত্রা বদলাতে হতে পারে। পটাশিয়ামযুক্ত দ্রবণ স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো পটাশিয়াম ধরে রাখা ঔষধ ও এসিই ইনহিবিটরের সাথে সাবধানে দিতে হয়। নবজাতকের ক্ষেত্রে ক্যালসিয়ামযুক্ত দ্রবণ সেফট্রিয়াক্সোনের সাথে একসাথে দেওয়া যাবে না। কর্টিকোস্টেরয়েড ও ডাইইউরেটিক রক্তে শর্করা ও লবণের মাত্রা প্রভাবিত করতে পারে।
কারা খাবেন না
নিচের ক্ষেত্রে এটি দেওয়া হয় না:
- অ্যামাইনো অ্যাসিড বিপাকের জন্মগত রোগ
- ডায়ালাইসিস ছাড়া গুরুতর কিডনি বিকলতা বা গুরুতর লিভার বিকলতা
- অনিয়ন্ত্রিত উচ্চ রক্তশর্করা বা এতে থাকা ইলেক্ট্রোলাইটের উচ্চ মাত্রা
- শরীরে অতিরিক্ত পানি, গুরুতর হার্ট ফেইলিওর বা চিকিৎসাহীন শক
- কোনো উপাদানে অ্যালার্জি
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া:
- রক্তে শর্করা বেড়ে যাওয়া
- স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা, লালচে ভাব বা ফোলা, অথবা শিরায় জ্বালা
- খুব দ্রুত দিলে বমি বমি ভাব, মুখ লাল হওয়া বা কাঁপুনি
- লবণের মাত্রা বা লিভারের রক্ত পরীক্ষায় পরিবর্তন
- স্যালাইনের লাইনে সংক্রমণ
জ্বর বা কাঁপুনি, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মুখ বা শরীর ফুলে যাওয়া, বিভ্রান্তি, অথবা শ্বাসকষ্টসহ র্যাশ হলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা ডাক্তারকে জানান বা দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
মুখে খাওয়ার মাধ্যমে পুষ্টি সম্ভব না হলে কঠোর চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি ব্যবহার করা যেতে পারে।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্তে শর্করা, ইলেক্ট্রোলাইট, পানির ভারসাম্য এবং লিভার ও কিডনির কাজ পরীক্ষা করা হয়। গুরুতর অপুষ্টিতে ভোগা রোগীদের রিফিডিং সিনড্রোম, অর্থাৎ লবণের বিপজ্জনক পরিবর্তন এড়াতে ধীরে খাওয়ানো শুরু করা হয়। লাইনে সংক্রমণ ঠেকাতে কঠোর পরিচ্ছন্নতা জরুরি।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি বা খুব দ্রুত দিলে বমি বমি ভাব, বমি, কাঁপুনি, রক্তে উচ্চ শর্করা, লবণের ভারসাম্যহীনতা ও শরীরে অতিরিক্ত পানি জমতে পারে। তখন ইনফিউশন ধীর বা বন্ধ করে প্রয়োজনমতো চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্যারেন্টেরাল নিউট্রিশন দ্রবণ (কার্বোহাইড্রেট ও ইলেক্ট্রোলাইটসহ অ্যামাইনো অ্যাসিড)।
সংরক্ষণ
হাসপাতাল প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করে, সাধারণত ২৫°C এর নিচে ও আলো থেকে দূরে। জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।