ব্যবহার
হাঁপানি ও সিওপিডিতে (দীর্ঘমেয়াদি ব্রঙ্কাইটিস ও এমফাইসেমাসহ) শ্বাসে শাঁ শাঁ শব্দ ও শ্বাসকষ্ট কমাতে ও প্রতিরোধে অ্যামিনোফাইলিন ব্যবহার হয়। অন্য ইনহেলারে যথেষ্ট না হলে দীর্ঘমেয়াদি নিয়ন্ত্রণে ট্যাবলেট দেওয়া হয়। অন্য চিকিৎসায় কাজ না হওয়া তীব্র হাঁপানির টান বা সিওপিডি বেড়ে গেলে হাসপাতালে ইনজেকশন দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যামিনোফাইলিন হলো থিওফাইলিনের সাথে ইথাইলিনডায়ামিন মেশানো একটি রূপ, যা এটিকে দ্রবীভূত হতে সাহায্য করে। থিওফাইলিন শ্বাসনালীর চারপাশের মাংসপেশি শিথিল করে নালী খুলে দেয়, শ্বাসনালীর প্রদাহ কিছুটা কমায় এবং শ্বাসের মাংসপেশিকে কাজে সাহায্য করে। এটি ক্যাফেইনের মতো মিথাইলজ্যান্থিন গোত্রের ঔষধ।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ট্যাবলেট: ওজন, বয়স, ধূমপান, অন্য ঔষধ এবং কখনও রক্তে ঔষধের মাত্রা পরীক্ষা করে ডাক্তার প্রত্যেকের জন্য আলাদা মাত্রা ঠিক করেন, কারণ উপকারী ও ক্ষতিকর মাত্রার মধ্যে ব্যবধান কম। প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী হুবহু খান, খাবারের পর পানিসহ, সমান বিরতিতে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া মাত্রা বদলাবেন না বা এক কোম্পানির ঔষধ থেকে অন্য কোম্পানিতে যাবেন না। ইনজেকশন: হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স পর্যবেক্ষণের মধ্যে ধীরে শিরায় দেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- সিপ্রোফ্লক্সাসিন, ইরিথ্রোমাইসিন, ক্লারিথ্রোমাইসিন, ফ্লুভোক্সামিন, সিমেটিডিন, অ্যালোপুরিনল, ভেরাপামিল, প্রোপ্রানোলল ও জন্মনিয়ন্ত্রণ বড়িসহ অনেক ঔষধ এর মাত্রা ও বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ায়।
- রিফাম্পিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন, ফেনোবার্বিটাল ও ধূমপান এর মাত্রা কমায়; ধূমপান ছাড়লে মাত্রা বেড়ে যেতে পারে।
- বেশি মাত্রার সালবিউটামল, কর্টিকোস্টেরয়েড ও ডাইইউরেটিকের সাথে খেলে পটাসিয়াম কমে যেতে পারে।
- প্রোপ্রানোললের মতো নন-সিলেক্টিভ বিটা-ব্লকার শ্বাসনালী সরু করতে পারে।
- অন্য থিওফাইলিনযুক্ত ঔষধ ও বেশি ক্যাফেইন এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- থিওফাইলিন, অ্যামিনোফাইলিন বা ইথাইলিনডায়ামিনে এলার্জি থাকলে।
- পোরফাইরিয়া থাকলে।
- অন্য থিওফাইলিনযুক্ত ঔষধের সাথে।
- ইনজেকশন: আগে থেকেই থিওফাইলিন বা অ্যামিনোফাইলিন খেলে, যদি না আগে রক্তের মাত্রা পরীক্ষা করা হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো বমি বমি ভাব, পেটের অস্বস্তি, মাথাব্যথা, অস্থিরতা, ঘুমের সমস্যা, কাঁপুনি ও বুক ধড়ফড়। এগুলো রক্তে ঔষধের মাত্রা বেশি হওয়ার লক্ষণ হতে পারে।
বারবার বমি, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, বুকে ব্যথা, খিঁচুনি, বিভ্রান্তি, তীব্র উত্তেজনা, বা সারা শরীরে র্যাশ বা শ্বাসকষ্টের মতো গুরুতর এলার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। চিকিৎসা সত্ত্বেও শ্বাসকষ্ট বাড়লেও দ্রুত হাসপাতালে যান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তার যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, তবে গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যেতে পারে; রক্তের মাত্রা পরীক্ষা লাগতে পারে। এটি বুকের দুধে যায় এবং শিশুকে খিটখিটে করতে পারে; বুকের দুধ খাওয়ালে ডাক্তারকে জানান।
সতর্কতা
- হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েড অতিসক্রিয়তা, মৃগী, পেপটিক আলসার, লিভারের রোগ, জ্বর থাকলে এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন।
- ধূমপান শুরু বা বন্ধ করলে, বা বেশি জ্বর বা ভাইরাসজনিত অসুখ হলে ডাক্তারকে জানান, কারণ রক্তে ঔষধের মাত্রা বদলাতে পারে।
- এটি হঠাৎ টানের দ্রুত উপশমকারী ঔষধ নয়; পরামর্শ অনুযায়ী রিলিভার ইনহেলার ব্যবহার চালিয়ে যান।
- নতুন কোনো ঔষধ শুরুর আগে প্রতিটি ডাক্তার ও ফার্মাসিস্টকে জানান যে আপনি এটি খাচ্ছেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবন বিপজ্জনক; এতে তীব্র বমি, অস্থিরতা, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, পটাসিয়াম কমে যাওয়া, খিঁচুনি ও জ্ঞান হারানো হতে পারে, কখনও কয়েক ঘণ্টা পরে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মিথাইলজ্যান্থিন ব্রঙ্কোডাইলেটর (শ্বাসনালী প্রসারক)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ইনজেকশন ফ্রিজে জমাবেন না এবং ব্যবহারের আগ পর্যন্ত বাক্সে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।