জেনেরিক ঔষধ

Amitriptyline

  • 11 টি ব্র্যান্ড বাংলাদেশে নিবন্ধিত
  • 8 টি কোম্পানি

ব্যবহার

অ্যামিট্রিপটাইলিন একটি ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্ণতারোধী ঔষধ। এটি বিষণ্ণতার চিকিৎসায় এবং কম মাত্রায় দীর্ঘমেয়াদি স্নায়ুর ব্যথা (যেমন ডায়াবেটিস বা দাদের পরবর্তী ব্যথা), মাইগ্রেন ও টেনশন মাথাব্যথা প্রতিরোধ এবং কিছু দীর্ঘস্থায়ী ব্যথায় ব্যবহার হয়। কিছু পণ্যে উদ্বেগসহ বিষণ্ণতার জন্য এটি ক্লোরডায়াজেপক্সাইড (একটি ঘুমের ঔষধ) বা পারফেনাজিনের সাথে মিশ্রিত থাকে।

কীভাবে কাজ করে

অ্যামিট্রিপটাইলিন মস্তিষ্ক ও মেরুরজ্জুতে সেরোটোনিন ও নরঅ্যাড্রেনালিন নামের দুটি রাসায়নিক বার্তাবাহকের পরিমাণ বাড়ায়। এতে মন ভালো হয় এবং স্নায়ুর মাধ্যমে ব্যথার সংকেত যাওয়া কমে। এর ঘুম পাড়ানো প্রভাবও আছে, যা ঘুমে সাহায্য করতে পারে।

মাত্রা ও সেবনবিধি

মাত্রা রোগ অনুযায়ী চিকিৎসক ঠিক করবেন, নির্দেশমতো খান। সাধারণত কম মাত্রা দিয়ে শুরু করা হয়, ঝিমুনি হয় বলে প্রায়ই রাতে খেতে বলা হয়, এবং ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়। ব্যথা ও মাথাব্যথা প্রতিরোধে প্রায়ই কম মাত্রাই যথেষ্ট। পূর্ণ ফল পেতে ২ থেকে ৬ সপ্তাহ লাগতে পারে। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসক ধীরে ধীরে কমাবেন।

অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া

এমএও ইনহিবিটর (যেমন সেলেজিলিন বা মোক্লোবেমাইড) এর সাথে বা বন্ধের ১৪ দিনের মধ্যে খাবেন না। ফ্লুওক্সেটিনের মতো এসএসআরআই, ট্রামাডল বা লাইনেজোলিডের সাথে সেরোটোনিন সিনড্রোম হতে পারে। মদ, ঘুমের ঔষধ, অ্যান্টিহিস্টামিন ও ওপিওয়েড ঝিমুনি বাড়ায়। QT বাড়ানো ঔষধ (যেমন কিছু মানসিক রোগের ঔষধ ও ইরিথ্রোমাইসিন) এড়িয়ে চলুন। ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন ও সিমেটিডিন এর মাত্রা বাড়ায়। সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।

কারা খাবেন না

  • অ্যামিট্রিপটাইলিনে অ্যালার্জি থাকলে
  • সাম্প্রতিক হার্ট অ্যাটাক, হার্ট ব্লক বা গুরুতর হৃৎস্পন্দনের সমস্যা থাকলে
  • গত ১৪ দিনের মধ্যে এমএও ইনহিবিটর খেয়ে থাকলে
  • ম্যানিয়া থাকলে
  • গুরুতর যকৃতের রোগ থাকলে
  • ৬ বছরের কম বয়সী শিশু (বিষণ্ণতার জন্য ১৬ বছরের কম)

পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া

ঝিমুনি, মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য, ঝাপসা দেখা, প্রস্রাবে কষ্ট, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, ওজন বাড়া, ঘাম ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন সাধারণ। প্রথম কয়েক সপ্তাহ পর এগুলো প্রায়ই কমে যায়।

নিজের ক্ষতি বা আত্মহত্যার চিন্তা (বিশেষত তরুণদের এবং শুরুতে বা মাত্রা বদলের সময়), অজ্ঞান হওয়া বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, ঝাপসা দেখার সাথে চোখে ব্যথা, প্রস্রাব একেবারে না হওয়া, খিঁচুনি, উচ্চ জ্বর ও পেশি শক্ত হওয়ার সাথে বিভ্রান্তি, অথবা গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।

গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো

গর্ভাবস্থায় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন; প্রসবের কাছাকাছি সময়ে খেলে শিশুর প্রত্যাহারজনিত লক্ষণ হতে পারে। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যায়; শিশুর ঝিমুনির দিকে খেয়াল রেখে কখনো ব্যবহার করা হয়, তবে চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করুন।

সতর্কতা

হৃদরোগ, মৃগী, গ্লুকোমা, প্রোস্টেট বড় হওয়া, ডায়াবেটিস, থাইরয়েডের রোগ এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে (পড়ে যাওয়া ও বিভ্রান্তির ঝুঁকি বেশি) সাবধানে ব্যবহার করুন। ঝিমুনি হলে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না। মদ এড়িয়ে চলুন। মাত্রাতিরিক্ত সেবন বিপজ্জনক, তাই ট্যাবলেট নাগালের বাইরে রাখুন।

মাত্রাতিরিক্ত সেবন

বেশি খাওয়া খুবই বিপজ্জনক; খিঁচুনি, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা, অচেতনতা ও মৃত্যু হতে পারে। রোগী ভালো দেখালেও সঙ্গে সঙ্গে জরুরি সাহায্য নিন।

থেরাপিউটিক শ্রেণি

ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্ণতারোধী

সংরক্ষণ

৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।

ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।

Amitriptyline যুক্ত কম্বিনেশন ঔষধ

11 টি ব্র্যান্ড

নিবন্ধন ও দামের তথ্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের (DGDA) পাবলিক রেজিস্টার থেকে নেওয়া। এই পাতা শুধু তথ্যের জন্য; আপনার ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টের পরামর্শের বিকল্প নয়।