ব্যবহার
অ্যামলোডিপিন বেসিলেট উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় এবং হৃৎপিণ্ডের সঙ্কুচিত ধমনীজনিত বুকের ব্যথা (স্টেবল এঞ্জাইনা ও ভাসোস্পাস্টিক বা প্রিনজমেটাল এঞ্জাইনা) প্রতিরোধে ব্যবহৃত হয়। রক্তচাপ কমালে স্ট্রোক, হার্ট অ্যাটাক ও কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি কমে। এটি একা বা অন্য রক্তচাপের ঔষধের সাথে ব্যবহার করা যায়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যামলোডিপিন একটি ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার। এটি রক্তনালীর দেয়ালের পেশি কোষে ক্যালসিয়াম প্রবেশ কমায়, ফলে রক্তনালী শিথিল ও প্রশস্ত হয়। এতে রক্তচাপ কমে, হৃৎপিণ্ডের কাজের চাপ কমে এবং হৃৎপেশিতে রক্তপ্রবাহ বাড়ে, যা এঞ্জাইনা প্রতিরোধে সাহায্য করে। এর প্রভাব ধীরে ধীরে বাড়ে এবং পুরো এক দিন থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণ শুরুর মাত্রা দিনে একবার ৫ mg, যা চিকিৎসক সর্বোচ্চ দিনে একবার ১০ mg পর্যন্ত বাড়াতে পারেন। বয়স্ক, কম ওজনের বা দুর্বল রোগী এবং লিভারের সমস্যা থাকলে দিনে একবার ২.৫ mg দিয়ে শুরু করা হতে পারে। প্রতিদিন একই সময়ে, খাবারের সাথে বা খালি পেটে খান। পূর্ণ প্রভাব পেতে ১ থেকে ২ সপ্তাহ লাগতে পারে। ভালো বোধ করলেও খেতে থাকুন এবং পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
কীটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্লারিথ্রোমাইসিন, রিটোনাভির ও ডিল্টিয়াজেমের মতো লিভারের CYP3A4 এনজাইম বন্ধকারী ঔষধ অ্যামলোডিপিনের মাত্রা বাড়াতে পারে; বেশি গ্রেপফ্রুটের রসও একই কাজ করে। রিফাম্পিসিন, কারবামাজেপিন ও সেন্ট জনস ওয়র্ট এর কার্যকারিতা কমাতে পারে। অ্যামলোডিপিন সিমভাস্টাটিন (দিনে ২০ mg বা কম রাখুন), সাইক্লোস্পোরিন ও ট্যাক্রোলিমাসের মাত্রা বাড়াতে পারে। অন্য রক্তচাপের ঔষধ, অ্যালকোহল ও সিলডেনাফিল রক্তচাপ আরও কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- অ্যামলোডিপিন বা অন্য ডাইহাইড্রোপাইরিডিন ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকারে অ্যালার্জি থাকলে।
- খুব কম রক্তচাপ বা শক, কার্ডিওজেনিক শকসহ।
- অ্যাওর্টিক ভালভের গুরুতর সঙ্কোচন (অ্যাওর্টিক স্টেনোসিস)।
- হার্ট অ্যাটাকের পর অস্থিতিশীল হার্ট ফেইলিওর।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে গোড়ালি ও পা ফোলা, মাথাব্যথা, মুখ লাল হওয়া, ক্লান্তি, মাথা ঘোরা, বুক ধড়ফড়, বমিভাব ও পেটব্যথা। দীর্ঘদিন ব্যবহারে মাড়ি ফুলে যেতে পারে; দাঁতের ভালো যত্ন সাহায্য করে।
নতুন বা স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি বুকে ব্যথা, অজ্ঞান হওয়া, খুব দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, ফোসকাসহ তীব্র র্যাশ, অথবা মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এর নিরাপত্তা পুরোপুরি প্রতিষ্ঠিত নয়; চিকিৎসক এটিকে সেরা বিকল্প মনে করলেই ব্যবহার করুন, কারণ প্রায়ই অন্য ঔষধ পছন্দ করা হয়। অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানো চালিয়ে যাবেন কিনা তা চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
লিভারের রোগ, হার্ট ফেইলিওর ও বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন। মাথা ঘুরলে ধীরে উঠুন, এবং মাথা ঘোরা বা ক্লান্তি লাগলে গাড়ি চালাবেন না। নিয়মিত রক্তচাপ মাপুন। গোড়ালি ফোলা সাধারণত শরীরে পানি জমার কারণে নয় এবং প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধে সবসময় কমে না; সমস্যা হলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে, সাথে দ্রুত হৃৎস্পন্দন, মুখ লাল হওয়া ও ফুসফুসে পানি জমা, যা অনেক ঘণ্টা পরেও দেখা দিতে পারে। শুরুতে ভালো বোধ করলেও সঙ্গে সঙ্গে হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার (ডাইহাইড্রোপাইরিডিন), উচ্চ রক্তচাপ ও এঞ্জাইনার ঔষধ।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।