ব্যবহার
অ্যামফোটেরিসিন B একটি শক্তিশালী ছত্রাকনাশক ঔষধ, যা হাসপাতালে গুরুতর ও প্রাণঘাতী ছত্রাক সংক্রমণ, যেমন ইনভেসিভ ক্যান্ডিডিয়াসিস, অ্যাসপারজিলোসিস, ক্রিপ্টোককাল মেনিনজাইটিস, মিউকোরমাইকোসিস (ব্ল্যাক ফাঙ্গাস), হিস্টোপ্লাজমোসিস ও অন্যান্য গভীর ছত্রাক সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। বাংলাদেশে পাওয়া পরজীবীজনিত রোগ ভিসেরাল লিশম্যানিয়াসিস (কালাজ্বর) চিকিৎসায়ও এটি ব্যবহৃত হয়, এবং কখনো কখনো শ্বেত কণিকা কম ও দীর্ঘস্থায়ী জ্বরে আক্রান্ত রোগীদের দেওয়া হয়। এটি চিকিৎসক বা নার্স ইনজেকশনের মাধ্যমে দেন।
কীভাবে কাজ করে
অ্যামফোটেরিসিন B ছত্রাকের কোষপর্দার উপাদান অরগোস্টেরলের সাথে যুক্ত হয়। এতে কোষপর্দায় ছিদ্র তৈরি হয়, কোষের ভেতরের উপাদান বের হয়ে যায় এবং ছত্রাক মারা যায়। লিপিডভিত্তিক রূপ (লাইপোজোমাল ও লিপিড কমপ্লেক্স) চর্বির কণার মাধ্যমে ঔষধ পৌঁছায়, যা কিডনির ক্ষতি ও ইনফিউশনজনিত প্রতিক্রিয়া কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
অ্যামফোটেরিসিন B কেবল হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স ধীরে শিরায় ইনফিউশন হিসেবে দেন। সংক্রমণের ধরন, ঔষধের রূপ (প্রচলিত বা লিপিডভিত্তিক), ওজন ও কিডনির কার্যক্ষমতা অনুযায়ী চিকিৎসক মাত্রা ও সময়কাল ঠিক করেন। প্রচলিত ও লিপিডভিত্তিক রূপের মাত্রা সম্পূর্ণ আলাদা এবং একটির জায়গায় অন্যটি দেওয়া যায় না। ইনফিউশনজনিত প্রতিক্রিয়া কমাতে টেস্ট ডোজ ও আগাম ঔষধ দেওয়া হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অ্যামিনোগ্লাইকোসাইড (জেন্টামাইসিন, অ্যামিকাসিন), সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস, ভ্যানকোমাইসিন ও কিছু ক্যান্সাররোধী ঔষধের মতো কিডনির ক্ষতিকারক অন্য ঔষধ: কিডনির ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ে।
- কর্টিকোস্টেরয়েড ও মূত্রবর্ধক: পটাশিয়াম কমে যাওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- ডিগক্সিন: পটাশিয়াম কমলে ডিগক্সিনের বিষক্রিয়ার ঝুঁকি বাড়ে।
- ফ্লুসাইটোসিন: এর বিষক্রিয়া বাড়তে পারে; পর্যবেক্ষণ দরকার।
- অ্যানেসথেসিয়ায় ব্যবহৃত মাংসপেশি শিথিলকারী ঔষধ: পটাশিয়াম কমলে এদের প্রভাব বাড়তে পারে।
কারা খাবেন না
- অ্যামফোটেরিসিন B বা কোনো উপাদানে জানা গুরুতর অ্যালার্জি থাকলে, যদি না চিকিৎসক মনে করেন সংক্রমণ প্রাণঘাতী এবং কোনো বিকল্প নেই।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনফিউশনের সময় বা পরপরই জ্বর, শীত লাগা, কাঁপুনি, মাথাব্যথা, বমিভাব, বমি ও নিম্ন রক্তচাপ সাধারণ, বিশেষ করে প্রচলিত রূপে। অন্যান্য সাধারণ প্রভাবের মধ্যে আছে কিডনির কার্যক্ষমতা কমা, পটাশিয়াম ও ম্যাগনেসিয়াম কমে যাওয়া, রক্তস্বল্পতা এবং স্যালাইনের জায়গায় ব্যথা বা প্রদাহ। লিপিডভিত্তিক রূপে এগুলো কম হয়। কদাচিৎ গুরুতর অ্যালার্জি, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা বা লিভারের পরিবর্তন হতে পারে।
ইনফিউশনের সময় শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, তীব্র কাঁপুনি বা জ্বর, বুক ধড়ফড়, মাংসপেশিতে দুর্বলতা বা খিঁচুনি, অথবা প্রস্রাব অনেক কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা চিকিৎসককে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
সংক্রমণ গুরুতর হলে এবং উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলে চিকিৎসকের সিদ্ধান্তে গর্ভাবস্থায় এটি ব্যবহার করা হয়। এটি বুকের দুধে যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
- চিকিৎসার সময় নিয়মিত কিডনির কার্যক্ষমতা, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, রক্তের কণিকা ও লিভার পরীক্ষা করা হয়।
- কিডনি রক্ষায় প্রতি ডোজের আগে প্রায়ই তরল ও লবণ দেওয়া হয়।
- পণ্যের নাম ও মাত্রা ভালোভাবে যাচাই করুন: প্রচলিত ও লিপিড রূপের মধ্যে ভুল প্রাণঘাতী হতে পারে।
- কেবল হাসপাতালে ঘনিষ্ঠ চিকিৎসা তত্ত্বাবধানে ব্যবহার করা হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে, বিশেষ করে প্রচলিত রূপে, হৃৎপিণ্ড ও শ্বাস বন্ধ হয়ে যেতে পারে। হাসপাতালে ইনফিউশন বন্ধ করে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পলিইন ছত্রাকনাশক (লিশম্যানিয়াসিসেও কার্যকর)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় ফ্রিজে, আলো থেকে সুরক্ষিত; জমাবেন না। কিছু লিপিড রূপ ২৫°C এর নিচে রাখা হয়। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।