ব্যবহার
অ্যানহাইড্রাস গ্লুকোজ একটি সরল শর্করা (পানিবিহীন ডেক্সট্রোজ)। এটি খাবার স্যালাইনের (ORS) একটি প্রধান উপাদান, যা ডায়রিয়া, বমি, কলেরা, অতিরিক্ত ঘাম বা গরমে পানিশূন্যতা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। আলাদাভাবে এটি দ্রুত শক্তির উৎস হিসেবে এবং জেগে থাকা ও গিলতে পারা ব্যক্তির রক্তে শর্করা কমে যাওয়ার (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। হাসপাতালে গ্লুকোজ দ্রবণ শিরাপথেও দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
খাবার স্যালাইনে গ্লুকোজ অন্ত্রকে লবণ (সোডিয়াম) শোষণে সাহায্য করে, আর লবণের সাথে পানিও শরীরে ঢোকে। এতে ডায়রিয়ায় হারানো পানি ও লবণ শুধু পানির চেয়ে অনেক ভালোভাবে পূরণ হয়। শর্করা হিসেবে গ্লুকোজ দ্রুত শোষিত হয়ে কয়েক মিনিটে রক্তে শর্করা বাড়ায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
খাবার স্যালাইন: একটি প্যাকেট প্যাকেটের গায়ে লেখা ঠিক পরিমাণ বিশুদ্ধ খাবার পানিতে (প্রায়ই ৫০০ ml) গুলিয়ে নিন। কখনও কম পানি দেবেন না, আর আলাদা চিনি বা লবণ মেশাবেন না। অল্প অল্প করে বারবার চুমুক দিয়ে খাওয়ান।
- ২ বছরের কম বয়সী শিশু: প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর প্রায় ৫০ থেকে ১০০ ml।
- ২ থেকে ১০ বছরের শিশু: প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর প্রায় ১০০ থেকে ২০০ ml।
- বড় শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক: যতটা চায়, প্রতিবার পাতলা পায়খানার পর অন্তত ২০০ থেকে ৪০০ ml।
বুকের দুধ ও স্বাভাবিক খাবার চালিয়ে যান। বানানো স্যালাইন ১২ ঘণ্টার মধ্যে শেষ না হলে ফেলে দিন। প্রাপ্তবয়স্কদের রক্তে শর্করা কমে গেলে: মুখে প্রায় ১৫ থেকে ২০ g গ্লুকোজ, ১৫ মিনিট পর আবার শর্করা মাপুন এবং তারপর কিছু খাবার খান। শিরাপথে গ্লুকোজ শুধু ডাক্তার বা নার্স দেবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
উল্লেখযোগ্য প্রতিক্রিয়া জানা নেই। ডায়াবেটিস রোগীদের মনে রাখতে হবে গ্লুকোজ ও খাবার স্যালাইন রক্তে শর্করা বাড়ায়, তাই অসুস্থতার সময় বেশি বার শর্করা মাপুন।
কারা খাবেন না
- অজ্ঞান, খুব ঝিমিয়ে পড়া বা গিলতে না পারা ব্যক্তি (তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিন)।
- অন্ত্র আটকে গেলে, বা বমি একেবারে না থামলে।
- তীব্র পানিশূন্যতা বা শক, যেখানে শিরাপথে স্যালাইন দরকার।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ঠিকভাবে বানালে সাধারণত কোনো সমস্যা হয় না। খুব দ্রুত খেলে বমি হতে পারে; ১০ মিনিট অপেক্ষা করে আবার ধীরে খাওয়ান। তীব্র পানিশূন্যতার লক্ষণ (খুব ঝিমানো বা নেতিয়ে পড়া, চোখ বসে যাওয়া, পান করতে না পারা, ৬ ঘণ্টা বা বেশি সময় প্রস্রাব না হওয়া), পায়খানায় রক্ত, বেশি জ্বর, বারবার বমি, অথবা শিশুর ২ দিন বা প্রাপ্তবয়স্কের ৩ দিনের বেশি ডায়রিয়া থাকলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় নিরাপদ।
সতর্কতা
কম পানিতে বানানো স্যালাইন বেশি লবণাক্ত হয় এবং বিশেষ করে শিশুদের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। ডায়াবেটিস, কিডনি রোগ বা হার্ট ফেইলিউর থাকলে ডায়রিয়া চলতে থাকলে ডাক্তারের পরামর্শ নিন। ডায়রিয়ায় শুধু গ্লুকোজ পাউডার খাবার স্যালাইনের বিকল্প নয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ঘন করে বানানো স্যালাইন খেলে রক্তে সোডিয়াম বেড়ে তীব্র পিপাসা, বিভ্রান্তি, ঝিমুনি বা খিঁচুনি হতে পারে। ডায়াবেটিস রোগী বেশি গ্লুকোজ খেলে রক্তে শর্করা অনেক বেড়ে যেতে পারে। চিকিৎসকের সাহায্য নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মুখে খাওয়ার পুনঃজলীকরণ চিকিৎসা (ORS); শর্করা (শক্তির উৎস)।
সংরক্ষণ
প্যাকেট ৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায় ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ছেঁড়া বা জমে শক্ত হয়ে যাওয়া প্যাকেট ব্যবহার করবেন না। বানানো স্যালাইন ১২ ঘণ্টার মধ্যে খেয়ে ফেলুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।