ব্যবহার
অ্যানিডুলাফাঙ্গিন একটি ছত্রাকনাশক ঔষধ, যা হাসপাতালে প্রাপ্তবয়স্ক ও এক মাস বা তার বেশি বয়সী শিশুদের আক্রমণাত্মক ক্যান্ডিডিয়াসিস, যেমন ক্যান্ডিডিমিয়া (রক্তে ক্যান্ডিডা ইস্টের সংক্রমণ) এর চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিছু ক্ষেত্রে খাদ্যনালির ছত্রাক সংক্রমণেও এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যানিডুলাফাঙ্গিন একিনোক্যান্ডিন গোত্রের ঔষধ। ছত্রাকের কোষপ্রাচীর তৈরিতে দরকারি ১,৩ বিটা ডি গ্লুকান সিনথেজ এনজাইম এটি আটকে দেয়। মজবুত প্রাচীর ছাড়া ছত্রাক কোষ ভেঙে মারা যায়। মানুষের কোষে এই প্রাচীর নেই, তাই এর প্রভাব নির্দিষ্ট।
মাত্রা ও সেবনবিধি
অ্যানিডুলাফাঙ্গিন হাসপাতালে ডাক্তার বা নার্স শিরায় ধীরে ইনফিউশন হিসেবে দেন, সাধারণত প্রথমে একটি বেশি মাত্রার ডোজের পর দিনে একবার, প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। সাধারণত শেষ পজিটিভ রক্ত পরীক্ষার পর অন্তত ১৪ দিন এবং উপসর্গ কমা পর্যন্ত চিকিৎসা চলে। শিশুদের মাত্রা ওজন অনুযায়ী ঠিক হয়। কিডনি বা লিভারের সমস্যায় মাত্রা বদলাতে হয় না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লিভারের এনজাইমে প্রক্রিয়াজাত হয় না বলে এর ঔষধ প্রতিক্রিয়া কম। সাইক্লোস্পোরিন এর মাত্রা সামান্য বাড়াতে পারে, যা সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ নয়। চিকিৎসক দল সব ঔষধ যাচাই করবেন।
কারা খাবেন না
অ্যানিডুলাফাঙ্গিন বা ক্যাসপোফাঙ্গিন, মাইকাফাঙ্গিনের মতো অন্য একিনোক্যান্ডিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। কিছু পণ্যে ফ্রুক্টোজ থাকে, তাই বংশগত ফ্রুক্টোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে সেগুলো দেওয়া হয় না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি, মাথাব্যথা, পটাশিয়াম কমা, লিভার এনজাইম বাড়া, মুখ লাল হওয়া, ফুসকুড়ি ও চুলকানি। ইনফিউশন খুব দ্রুত চললে মুখ লাল হওয়া, গরম লাগা, রক্তচাপ কমা ও শাঁ শাঁ শব্দের মতো প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
শ্বাসকষ্ট, মুখ বা গলা ফোলা, তীব্র ফুসকুড়ি, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া বা পেটে তীব্র ব্যথা হলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা ডাক্তারকে জানান। হাসপাতালে এগুলো পর্যবেক্ষণ করা হয়।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
উপকার স্পষ্টভাবে ঝুঁকির চেয়ে বেশি না হলে গর্ভাবস্থায় এটি পরামর্শ করা হয় না। প্রাণীতে এটি বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানো বা চিকিৎসা বন্ধ করার বিষয়ে ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেবেন।
সতর্কতা
লিভারের সমস্যা হতে পারে বলে চিকিৎসার সময় লিভার পরীক্ষা করা হয়। ইনফিউশনের প্রতিক্রিয়া কমাতে ধীরে দেওয়া হয়। লিভারের রোগ বা কোনো অ্যালার্জি থাকলে ডাক্তারকে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম; গবেষণায় বেশি মাত্রাও সহ্য হয়েছে। ডায়ালাইসিসে এটি বের হয় না। চিকিৎসা লক্ষণভিত্তিক।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ছত্রাকনাশক, একিনোক্যান্ডিন
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ফ্রিজে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় (অল্প সময় ঘরের তাপমাত্রায় রাখা যেতে পারে)। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।