ব্যবহার
অ্যান্টাজোলিন হাইড্রোক্লোরাইড একটি অ্যান্টিহিস্টামিন, যা চোখের ড্রপে সাধারণত জাইলোমেটাজোলিন বা ন্যাফাজোলিনের মতো ডিকনজেস্ট্যান্টের সাথে মিশিয়ে অ্যালার্জি (অ্যালার্জিক কনজাঙ্কটিভাইটিস), ধুলো, ধোঁয়া বা অন্য হালকা উত্তেজকের কারণে চোখ লাল হওয়া, চুলকানি, পানি পড়া ও ফোলা কমাতে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যালার্জির সময় চোখে হিস্টামিন নিঃসৃত হয়, যা চুলকানি, লাল হওয়া ও পানি পড়ার কারণ। অ্যান্টাজোলিন হিস্টামিন (H1) রিসেপ্টর আটকে এই উপসর্গ কমায়। সঙ্গী ডিকনজেস্ট্যান্ট চোখের উপরিভাগের ছোট রক্তনালী সঙ্কুচিত করে লাল ভাব কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও ১২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের জন্য: সাধারণত আক্রান্ত চোখে ১ থেকে ২ ফোঁটা দিনে ২ থেকে ৩ বার, অথবা লেবেল বা চিকিৎসকের নির্দেশ অনুযায়ী। ব্যবহারের আগে হাত ধুয়ে নিন, ড্রপারের মুখ চোখে লাগাবেন না, এবং পরামর্শ ছাড়া টানা কয়েক দিনের বেশি ব্যবহার করবেন না। ব্যবহারের আগে সফট কন্টাক্ট লেন্স খুলুন এবং আবার পরার আগে অন্তত ১৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- MAO ইনহিবিটর ও অ্যামিট্রিপটিলিনের মতো ট্রাইসাইক্লিক বিষণ্ণতারোধী সঙ্গী ডিকনজেস্ট্যান্টের রক্তচাপের উপর প্রভাব বাড়াতে পারে।
- অন্য চোখের ড্রপ অন্তত ৫ মিনিট ব্যবধানে দিন।
কারা খাবেন না
- অ্যান্টাজোলিন বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- ন্যারো-অ্যাঙ্গেল গ্লকোমা থাকলে (ডিকনজেস্ট্যান্টের কারণে)।
- চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া ১২ বছরের কম বয়সী শিশু ও শিশুকে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ব্যবহারের সময় অল্প জ্বালা, কয়েক মিনিট ঝাপসা দেখা, চোখের মণি বড় হওয়া ও চোখ শুকিয়ে যাওয়া হতে পারে। অতিরিক্ত ব্যবহারে বন্ধ করলে আবার চোখ লাল হতে পারে। ক্ষেত্রবিশেষে শোষিত ডিকনজেস্ট্যান্টের কারণে মাথাব্যথা, দ্রুত হৃদস্পন্দন বা রক্তচাপ বাড়া হতে পারে।
চোখে ব্যথা, হঠাৎ দৃষ্টি কমে যাওয়া বা পরিবর্তন, আলোর চারপাশে বলয় দেখা, বাড়তে থাকা তীব্র লাল ভাব, অথবা চোখের পাতা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়ার মতো গুরুতর অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
তথ্য সীমিত। গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু চিকিৎসকের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
- উপসর্গ ৩ দিনের বেশি থাকলে, বা চোখে ব্যথা, পুঁজ বা দৃষ্টি কমলে চিকিৎসক দেখান, কারণ এটি সংক্রমণ বা গুরুতর সমস্যা হতে পারে।
- উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ, ডায়াবেটিস ও থাইরয়েডের অতিরিক্ত কার্যকারিতায় সাবধানে ব্যবহার করুন।
- ব্যবহারের পর দৃষ্টি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না।
- খোলার ৪ সপ্তাহ পর বোতলটি ফেলে দিন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
কেউ, বিশেষ করে শিশু, ভুল করে খেয়ে ফেললে ডিকনজেস্ট্যান্টের কারণে ঘুম ঘুম ভাব, ধীর শ্বাস বা শরীরের তাপমাত্রা কমে যেতে পারে। সাথে সাথে চিকিৎসা সহায়তা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
চোখের অ্যান্টিহিস্টামিন (প্রায়ই রক্তনালী সঙ্কোচক ডিকনজেস্ট্যান্টের সাথে মিশ্রিত)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। বোতলের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন এবং খোলার ৪ সপ্তাহ পর আর ব্যবহার করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।