ব্যবহার
অ্যান্টি-থাইমোসাইট গ্লোবিউলিন অঙ্গ প্রতিস্থাপন চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, যেমন প্রতিস্থাপিত কিডনি শরীর প্রত্যাখ্যান করা প্রতিরোধ ও চিকিৎসায়, এবং কিছু স্টেম সেল প্রতিস্থাপনের আগে কন্ডিশনিংয়ের অংশ হিসেবে গ্রাফট-ভার্সাস-হোস্ট রোগ প্রতিরোধে। গুরুতর অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া, অর্থাৎ যখন অস্থিমজ্জা যথেষ্ট রক্তকণিকা তৈরি করতে পারে না, তার চিকিৎসাতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
এটি প্রাণীর (সাধারণত খরগোশ বা ঘোড়া) দেহে তৈরি অ্যান্টিবডি, যা মানুষের টি সেলের বিরুদ্ধে কাজ করে। টি সেল এক ধরনের শ্বেত রক্তকণিকা, যা প্রত্যাখ্যান ঘটায়। অ্যান্টিবডিগুলো টি সেলের সাথে যুক্ত হয়ে রক্ত থেকে সেগুলো সরিয়ে দেয় বা তাদের কার্যকারিতা কমায়। এতে নতুন অঙ্গের উপর রোগপ্রতিরোধ আক্রমণ কমে, এবং অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়ায় অস্থিমজ্জার উপর রোগপ্রতিরোধজনিত ক্ষতি কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স এটি বড় শিরায় ধীরে ইনফিউশন হিসেবে দেন, সাধারণত কয়েক ঘণ্টা ধরে, কয়েক দিন ধরে। মাত্রা শরীরের ওজন, চিকিৎসার কারণ ও রক্তের কণিকার উপর নির্ভর করে এবং বিশেষজ্ঞের নির্দেশমতো দেওয়া হয়। প্রতিক্রিয়া কমাতে প্রতিটি ইনফিউশনের আগে সাধারণত স্টেরয়েড, অ্যান্টিহিস্টামিন ও প্যারাসিটামল দেওয়া হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- অন্যান্য রোগপ্রতিরোধ দমনকারী ঔষধ (যেমন সাইক্লোস্পোরিন, ট্যাক্রোলিমাস, মাইকোফেনোলেট বা স্টেরয়েড) সংক্রমণ ও রক্তকণিকা কমার ঝুঁকি বাড়ায়; বিশেষজ্ঞ মাত্রা সমন্বয় করেন।
- চিকিৎসা চলাকালে ও পরে জীবন্ত টিকা দেওয়া উচিত নয়।
কারা খাবেন না
- অ্যান্টি-থাইমোসাইট গ্লোবিউলিন বা খরগোশ বা ঘোড়ার প্রোটিনে (পণ্য অনুযায়ী) অ্যালার্জি থাকলে।
- নিয়ন্ত্রণে নেই এমন সক্রিয় গুরুতর সংক্রমণ থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনফিউশন প্রতিক্রিয়া সাধারণ, যেমন জ্বর, শীত লাগা, কাঁপুনি, র্যাশ, চুলকানি, মাথাব্যথা, রক্তচাপ কমা বা বাড়া এবং দ্রুত হৃৎস্পন্দন; রোগপ্রতিরোধ কোষ থেকে রাসায়নিক নিঃসরণের কারণে এগুলো হয়। শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেট কমে যাওয়া সাধারণ। সাইটোমেগালোভাইরাসসহ বিভিন্ন সংক্রমণের সম্ভাবনা বাড়ে। ১ থেকে ২ সপ্তাহ পরে সিরাম সিকনেস (জ্বর, র্যাশ, গাঁটে ব্যথা) দেখা দিতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে দুর্বল রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থার কারণে লিম্ফোমার মতো কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি সামান্য বাড়ে।
শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, তীব্র মাথা ঘোরা, উচ্চ জ্বর, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, অথবা হাসপাতাল ছাড়ার পর সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিলে সঙ্গে সঙ্গে নার্সকে জানান বা দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহারের তথ্য কম; উপকার স্পষ্টভাবে ঝুঁকির চেয়ে বেশি হলেই কেবল ব্যবহার করা হয়। চিকিৎসা চলাকালে কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণের পরামর্শ দেওয়া হয়। চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়ানো সুপারিশ করা হয় না; বিশেষজ্ঞের পরামর্শ মেনে চলুন।
সতর্কতা
- শুধু রোগপ্রতিরোধ দমন চিকিৎসায় অভিজ্ঞ কর্মী আছে এমন হাসপাতালে দেওয়া হয়।
- প্রতিদিন রক্তের কণিকা পরীক্ষা করা হয়; খুব কমে গেলে মাত্রা কমানো হতে পারে।
- সংক্রমণ দ্রুত জানাতে হবে; প্রতিরোধমূলক অ্যান্টিভাইরাল বা অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়া হতে পারে।
- আগে প্রাণীজাত গ্লোবিউলিন নেওয়া থাকলে অ্যালার্জির ঝুঁকি বাড়ে।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে শ্বেত রক্তকণিকা ও প্লাটিলেট মারাত্মকভাবে কমে যেতে পারে এবং গুরুতর সংক্রমণ হতে পারে। হাসপাতালে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়; কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
রোগপ্রতিরোধ দমনকারী; পলিক্লোনাল অ্যান্টি-টি-সেল অ্যান্টিবডি।
সংরক্ষণ
রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না এবং আলো থেকে দূরে রাখুন। হাসপাতালের কর্মীরা প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।