ব্যবহার
অ্যাপোমরফিন হাইড্রোক্লোরাইড পারকিনসন্স রোগে আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের “অফ” পর্বের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ নিয়মিত লেভোডোপা চিকিৎসার পরও যখন হঠাৎ শক্ত হয়ে যাওয়া, ধীরগতি ও নড়াচড়ায় কষ্টের মতো লক্ষণ ফিরে আসে। দ্রুত উপশমের জন্য এটি পেন দিয়ে ত্বকের নিচে ইনজেকশন, পাম্প দিয়ে ত্বকের নিচে অবিরাম ইনফিউশন, বা কিছু দেশে জিহ্বার নিচে রাখার ফিল্ম হিসেবে দেওয়া হয়। নামে মরফিন থাকলেও এতে কোনো মরফিন নেই এবং এটি ওপিওয়েড নয়।
কীভাবে কাজ করে
মস্তিষ্কে ডোপামিন কমে যাওয়ায় পারকিনসন্স রোগ হয়। অ্যাপোমরফিন একটি ডোপামিন এগোনিস্ট: এটি ঘাটতি থাকা ডোপামিনের জায়গায় সরাসরি মস্তিষ্কের ডোপামিন রিসেপ্টরে কাজ করে। ইনজেকশনের পর প্রায় ১০ মিনিটের মধ্যে কাজ শুরু করে এবং প্রায় এক ঘণ্টা থাকে, ফলে রোগীকে দ্রুত “অন” অবস্থায় ফিরিয়ে আনতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
বিশেষজ্ঞ প্রতিটি রোগীর জন্য আলাদাভাবে মাত্রা ঠিক করেন, সাধারণত হাসপাতালে শুরু করে, এবং ঠিক প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসা সাধারণত ডমপেরিডনের মতো বমিরোধক ঔষধসহ শুরু করা হয়, প্রায়ই কয়েক দিন আগে থেকে এবং প্রথম কয়েক সপ্তাহ ধরে। পেট বা উরুর ত্বকের নিচে ইনজেকশন দিন এবং প্রতিবার জায়গা বদলান। বিশেষজ্ঞের অনুমতির চেয়ে কম ব্যবধানে অতিরিক্ত ডোজ নেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অন্ডানসেট্রন, গ্রানিসেট্রন বা অন্য ৫এইচটি৩ অ্যান্টাগনিস্ট বমিরোধকের সাথে কখনো ব্যবহার করবেন না, কারণ এতে রক্তচাপ মারাত্মকভাবে কমে গিয়ে অজ্ঞান হওয়ার ঝুঁকি আছে। হ্যালোপেরিডলের মতো অ্যান্টিসাইকোটিক ও মেটোক্লোপ্রামাইড এর কাজ আটকে দেয়। রক্তচাপের ঔষধ, নাইট্রেট ও অ্যালকোহল নিম্ন রক্তচাপের ঝুঁকি বাড়ায়। উচ্চ মাত্রার ডমপেরিডনসহ QT ইন্টারভাল বাড়ায় এমন ঔষধে সাবধানতা দরকার।
কারা খাবেন না
- অ্যাপোমরফিন বা পণ্যের সালফাইটে অ্যালার্জি থাকলে।
- অন্ডানসেট্রনের মতো ৫এইচটি৩ অ্যান্টাগনিস্টের সাথে।
- শ্বাসপ্রশ্বাস দুর্বল হওয়া, ডিমেনশিয়া বা সাইকোসিস থাকলে।
- গুরুতর লিভারের রোগ।
- লেভোডোপায় সহজে বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন হয়, বা তীব্র অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া হয় এমন ব্যক্তি।
- শিশু ও কিশোর।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বমিভাব, বমি, হাই তোলা, তন্দ্রা, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, অনিচ্ছাকৃত নড়াচড়া (ডিসকিনেসিয়া), হ্যালুসিনেশন বা বিভ্রান্তি, এবং ইনজেকশনের জায়গায় গিঁট, লালচে ভাব বা চুলকানি। কারও কারও জুয়া, অতিরিক্ত খাওয়া, কেনাকাটা বা যৌন আচরণের মতো নিয়ন্ত্রণহীন আকাঙ্ক্ষা দেখা দেয়, বা দিনের বেলা হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়েন।
অজ্ঞান হলে, বুকে ব্যথা বা ধড়ফড় ও অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন হলে, তীব্র বিভ্রান্তি বা হ্যালুসিনেশন হলে, অস্বাভাবিক ক্লান্তি ও শ্বাসকষ্টের মতো রক্তস্বল্পতার লক্ষণ থাকলে, অথবা মুখ ফুলে গিয়ে শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় অভিজ্ঞতা কম; স্পষ্টভাবে প্রয়োজন হলে এবং বিশেষজ্ঞের পরামর্শে তবেই ব্যবহার করুন। এটি বুকের দুধে যায় কিনা জানা নেই, তাই চিকিৎসক অন্যথা না বললে বুকের দুধ খাওয়ানো সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
তন্দ্রা লাগলে বা হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা ঘটলে গাড়ি বা যন্ত্র চালাবেন না। রক্তকণিকা, লিভারের কার্যক্ষমতা ও হৃৎস্পন্দনের ছন্দ পর্যবেক্ষণ করা হতে পারে। অস্বাভাবিক আকাঙ্ক্ষা বা আচরণের পরিবর্তন হলে চিকিৎসককে জানান; পরিবারের সদস্যরা এগুলো লক্ষ্য করতে সাহায্য করতে পারেন। হৃদরোগ, ফুসফুস বা কিডনির রোগ এবং বয়স্কদের ক্ষেত্রে সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে তীব্র বমি, খুব কম রক্তচাপ, ধীর হৃৎস্পন্দন, শ্বাস ধীর হওয়া, অস্থিরতা ও হ্যালুসিনেশন হতে পারে। রোগীকে শুইয়ে পা উঁচু করে দিন এবং জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পারকিনসন্সবিরোধী ঔষধ, ডোপামিন এগোনিস্ট।
সংরক্ষণ
২৫°C এর নিচে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন; প্যাকেটে ভিন্ন কিছু না বলা থাকলে ফ্রিজে রাখবেন বা হিমায়িত করবেন না। দ্রবণ সবুজ হয়ে গেলে বা কণা দেখা গেলে ব্যবহার করবেন না।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।