ব্যবহার
এপ্রেমিলাস্ট একটি ট্যাবলেট, যা প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝারি থেকে তীব্র প্লাক সোরিয়াসিস (ত্বকে মোটা, আঁশযুক্ত লাল দাগ), সোরিয়াটিক আর্থ্রাইটিস (সোরিয়াসিসের সাথে সম্পর্কিত গিঁটের প্রদাহ) এবং বেহচেট রোগের কারণে মুখের ঘায়ের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। সাধারণত চর্ম বা বাতরোগ বিশেষজ্ঞ এটি দেন।
কীভাবে কাজ করে
এপ্রেমিলাস্ট রোগ প্রতিরোধী কোষের ভেতরে ফসফোডাইএস্টারেজ ৪ (PDE4) নামের একটি এনজাইম বন্ধ করে। এতে সাইক্লিক AMP নামের একটি বার্তাবাহী অণু বাড়ে, যা অতিসক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থাকে শান্ত করে এবং ত্বকের দাগ, গিঁটের ব্যথা ও ঘায়ের জন্য দায়ী প্রদাহ কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
পেটের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমাতে প্রথম ৫ দিনে ধীরে ধীরে মাত্রা বাড়ানো হয়, তারপর সাধারণ মাত্রা দিনে দুবার ৩০ mg, চিকিৎসকের পরামর্শমতো। এই শুরুর ধাপে স্টার্টার প্যাক ও ১০ mg ট্যাবলেট ব্যবহৃত হয়। কিডনির গুরুতর রোগে সাধারণত কম মাত্রা লাগে। ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান, খাবারের সাথে বা ছাড়া, প্রায় ১২ ঘণ্টা ব্যবধানে। চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে বন্ধ করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন, ফেনিটোইন ও ফেনোবারবিটালের মতো শক্তিশালী এনজাইম বৃদ্ধিকারী ঔষধ এপ্রেমিলাস্টের মাত্রা কমিয়ে কার্যকারিতা কমাতে পারে, তাই এগুলো একসাথে খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না। সেন্ট জনস ওয়ার্টের মতো ভেষজসহ সব ঔষধের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
এপ্রেমিলাস্ট বা ট্যাবলেটের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে বা গর্ভবতী হলে খাবেন না। ট্যাবলেটে ল্যাক্টোজ থাকায় বংশগত গ্যালাকটোজ অসহিষ্ণুতা থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
- ডায়রিয়া, বমিভাব ও বমি, বেশিরভাগ প্রথম কয়েক সপ্তাহে
- মাথাব্যথা
- সর্দি-কাশির মতো শ্বাসনালীর সংক্রমণ
- ওজন কমা ও ক্ষুধা কমে যাওয়া
- ক্লান্তি ও ঘুমের সমস্যা
- মন খারাপ বা বিষণ্নতা
তীব্র বা না থামা ডায়রিয়া বা বমি (বিশেষ করে বয়স্কদের), নিজের ক্ষতি বা আত্মহত্যার চিন্তা, বিষণ্নতা বেড়ে যাওয়া, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্টের মতো তীব্র অ্যালার্জি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এপ্রেমিলাস্ট খাওয়া যাবে না। সন্তান ধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসার সময় কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি ব্যবহার করা উচিত। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি খাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয় না।
সতর্কতা
আগে বিষণ্নতা বা আত্মহত্যার চিন্তা থাকলে চিকিৎসককে জানান, কারণ এগুলো বাড়তে পারে। নিয়মিত ওজন মাপুন এবং অকারণে ওজন কমলে জানান। বয়স্ক ও কম ওজনের মানুষের পেটের তীব্র পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ও পানিশূন্যতার ঝুঁকি বেশি। কিডনির গুরুতর সমস্যা থাকলে বাড়তি সতর্ক থাকুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি ট্যাবলেট খেলে পেটের তীব্র অস্বস্তি, মাথাব্যথা ও মাথা ঘোরা হতে পারে। চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান; উপসর্গ অনুযায়ী চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইমিউনোমডুলেটর, ফসফোডাইএস্টারেজ ৪ (PDE4) প্রতিরোধক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।