ব্যবহার
এটি একটি হালকা, পানিভিত্তিক ত্বকের জেল, যাতে বিশুদ্ধ পানি, গ্লিসারিন, একটি মৃদু দ্রাবক (পিইজি-৪০ হাইড্রোজেনেটেড ক্যাস্টর অয়েল), জেল তৈরির উপাদান কার্বোমার, একটি প্রশমনকারী প্রিবায়োটিক উপাদান (বায়োলিন) ও ভিটামিন ই (টোকোফেরিল অ্যাসিটেট) রয়েছে। শুষ্ক, সংবেদনশীল, জ্বালাপোড়া করা বা লালচে ত্বক প্রশমিত, ঠাণ্ডা ও আর্দ্র করতে এটি ব্যবহৃত হয়। রেডিওথেরাপির সময় চিকিৎসার জায়গার ত্বক শুষ্ক, লাল ও ব্যথাযুক্ত হতে পারে; তখন এ ধরনের জেল ত্বকের যত্নে ব্যবহৃত হয়, তবে কেবল রেডিওথেরাপি টিমের পরামর্শ অনুযায়ী।
কীভাবে কাজ করে
পানি ও গ্লিসারিন ত্বকের বাইরের স্তরকে আর্দ্র করে এবং আর্দ্রতা ধরে রাখতে সাহায্য করে। কার্বোমার একটি ঠাণ্ডা, তেলহীন জেল তৈরি করে যা সহজে ছড়ায়। ভিটামিন ই একটি অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট, যা ত্বককে ক্ষতি থেকে রক্ষা করতে ও সুরক্ষা বেষ্টনী মজবুত করতে সাহায্য করে। প্রিবায়োটিক উপাদানটি ত্বকের স্বাভাবিক ভারসাম্য বজায় রাখতে ও জ্বালাপোড়া কমাতে দেওয়া হয়। এতে কোনো ঔষধ নেই; এটি ত্বকের উপরিতলের যত্ন নিয়ে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
শুধু ত্বকে ব্যবহারের জন্য। পরিষ্কার ত্বকে দিনে ২ থেকে ৩ বার, অথবা লেবেলের নির্দেশনা বা ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী, জোরে ঘষা ছাড়া আলতো করে পাতলা স্তরে লাগান। রেডিওথেরাপির সময় চিকিৎসা টিমের নির্দেশনা মেনে চলুন; তারা সাধারণত কখন লাগাতে হবে তা বলে দেন এবং চিকিৎসার ঠিক আগে লাগাতে নিষেধ করেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে কোনো প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না। একই জায়গায় অন্য ক্রিম বা প্রেসক্রাইব করা ত্বকের ঔষধ ব্যবহার করলে কীভাবে সময়ের ব্যবধান রাখবেন তা ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জিজ্ঞেস করুন।
কারা খাবেন না
- ক্যাস্টর অয়েলজাত উপাদান বা ভিটামিন ইসহ জেলের যেকোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- খোলা ক্ষত, ফোসকাযুক্ত বা সংক্রমিত ত্বকে, যদি না ডাক্তার পরামর্শ দেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত ভালোভাবে সহ্য হয়। কদাচিৎ হালকা জ্বালা, লালভাব বা অ্যালার্জিজনিত র্যাশ হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে বা সারা শরীরে র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন। রেডিওথেরাপির সময় ত্বকে ফোসকা পড়লে, খোসা উঠলে, রস বা রক্ত বের হলে বা খুব ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা টিমকে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
উপাদানগুলো ত্বকে ব্যবহৃত হয় এবং খুব কম শোষিত হয়, তাই এ ধরনের জেল গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় সাধারণত উপযুক্ত বলে ধরা হয়। দুধ খাওয়ানোর ঠিক আগে স্তনের বোঁটার আশেপাশে লাগাবেন না। নিশ্চিত না হলে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন।
সতর্কতা
শুধু বাহ্যিক ব্যবহারের জন্য। চোখ ও মুখে লাগাবেন না। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ফাটা ত্বকে ব্যবহার করবেন না। জ্বালাপোড়া হলে ব্যবহার বন্ধ করুন। এটি ত্বকের যত্নের পণ্য; একা এটি ত্বকের রোগ বা রেডিয়েশনজনিত ক্ষতির চিকিৎসা করে না; যেকোনো ত্বকের সমস্যায় ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে ব্যবহারে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার আশঙ্কা নেই। বেশি পরিমাণে গিলে ফেললে মুখ ধুয়ে ডাক্তারের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
প্রশমনকারী ময়েশ্চারাইজার (ত্বকের যত্নের জেল)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ ভালোভাবে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।