ব্যবহার
অ্যারিপিপ্রাজল ব্যবহার হয়:
- সিজোফ্রেনিয়ায়, যে মানসিক রোগে রোগী অস্তিত্বহীন কিছু শুনতে বা দেখতে পারেন, ভুল বিশ্বাস ও এলোমেলো চিন্তা থাকতে পারে;
- বাইপোলার ডিসঅর্ডারের ম্যানিক পর্বে এবং নতুন ম্যানিক পর্ব প্রতিরোধে;
- বড় ধরনের বিষণ্ণতায়, যখন শুধু অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট যথেষ্ট কাজ করছে না, তখন তার সাথে যোগ করে;
- শিশু ও কিশোরদের অটিজমের সাথে খিটখিটে মেজাজ এবং টুরেট সিনড্রোমের টিকে, বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যারিপিপ্রাজল একটি অ্যাটিপিক্যাল (দ্বিতীয় প্রজন্মের) অ্যান্টিসাইকোটিক। এটি মস্তিষ্কের দুটি রাসায়নিক, ডোপামিন ও সেরোটোনিনের কাজে ভারসাম্য আনে। যেখানে ডোপামিনের কাজ কম, সেখানে কিছুটা বাড়ায়, আর যেখানে বেশি, সেখানে কিছুটা কমায়। এতে মেজাজ, চিন্তা ও আচরণ স্থির থাকতে সাহায্য করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
সিজোফ্রেনিয়া ও বাইপোলার ম্যানিয়া, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত দিনে একবার ১০ থেকে ১৫ mg, চিকিৎসক প্রয়োজনমতো সমন্বয় করবেন। সর্বোচ্চ দিনে ৩০ mg।
বিষণ্ণতায় সহায়ক চিকিৎসা: কম মাত্রা দিয়ে শুরু করে ধীরে ধীরে বাড়ানো হয়, চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী।
শিশু ও কিশোর: বিশেষজ্ঞের পরামর্শ অনুযায়ী। দীর্ঘমেয়াদি ইনজেকশন মাংসপেশিতে চিকিৎসক বা নার্স দেন, সাধারণত মাসে একবার, চিকিৎসকের নির্দেশমতো।
ট্যাবলেট প্রতিদিন একই সময়ে একবার, খাবারের আগে বা পরে খাওয়া যায়। পুরো উপকার পেতে কয়েক সপ্তাহ লাগতে পারে। হঠাৎ বন্ধ করবেন না; বন্ধ করতে হলে চিকিৎসক ধাপে ধাপে মাত্রা কমাবেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিটোকোনাজল, ইট্রাকোনাজল, ক্লারিথ্রোমাইসিন, ফ্লুওক্সেটিন, প্যারোক্সেটিন ও কুইনিডিন অ্যারিপিপ্রাজলের মাত্রা বাড়াতে পারে; চিকিৎসক মাত্রা কমাতে পারেন।
- কার্বামাজেপিন, রিফামপিসিন ও ফেনিটয়েন এর মাত্রা কমাতে পারে; মাত্রা বাড়ানোর দরকার হতে পারে।
- অ্যালকোহল, ঘুমের ঔষধ ও অন্যান্য ঘুম আনা ঔষধ ঝিমুনি বাড়ায়।
- রক্তচাপের ঔষধের সাথে দাঁড়ানোর সময় মাথা ঘোরা বাড়তে পারে।
- সেরোটোনিনে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ (কিছু অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট, ট্রামাডল) বিরল ক্ষেত্রে সেরোটোনিন সিনড্রোম ঘটাতে পারে।
কারা খাবেন না
অ্যারিপিপ্রাজল বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: অস্থিরতা বা সবসময় নড়াচড়ার তাগিদ (অ্যাকাথিসিয়া), কাঁপুনি, বমিভাব, বমি, কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ঝিমুনি বা ঘুমের সমস্যা, ঝাপসা দেখা ও ক্লান্তি।
নিচের যেকোনোটি হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন:
- উচ্চ জ্বর, শক্ত মাংসপেশি, ঘাম, বিভ্রান্তি বা দ্রুত হৃৎস্পন্দন (নিউরোলেপটিক ম্যালিগন্যান্ট সিনড্রোম);
- মুখ, জিভ বা শরীরের অনিয়ন্ত্রিত নড়াচড়া;
- নিজের ক্ষতি করার চিন্তা বা বিষণ্ণতা বেড়ে যাওয়া, বিশেষ করে কমবয়সীদের মধ্যে;
- খিঁচুনি বা অজ্ঞান হয়ে যাওয়া;
- নিয়ন্ত্রণ করা যায় না এমন তীব্র তাগিদ, যেমন জুয়া, কেনাকাটা, খাওয়া বা যৌন তাগিদ;
- প্রচণ্ড তৃষ্ণা, ঘন ঘন প্রস্রাব বা রক্তে শর্করা বাড়ার লক্ষণ;
- মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া বা শ্বাসকষ্ট।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
চিকিৎসক যদি মনে করেন উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি, কেবল তখনই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা হয়। গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে এই ঔষধের সংস্পর্শে আসা নবজাতকের জন্মের পর কাঁপুনি, শক্ত ভাব, ঝিমুনি, শ্বাস নেওয়া বা খাওয়ানোর সমস্যা হতে পারে। গর্ভবতী হলে নিজে থেকে ঔষধ বন্ধ করবেন না; চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন। অ্যারিপিপ্রাজল বুকের দুধে যায়; সাধারণত বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটি সুপারিশ করা হয় না। চিকিৎসকের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- ডিমেনশিয়া আক্রান্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে অ্যান্টিসাইকোটিকে স্ট্রোক ও মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ে; ডিমেনশিয়াজনিত আচরণগত সমস্যায় এটি অনুমোদিত নয়।
- হৃদরোগ, নিম্ন বা উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস, খিঁচুনি, অথবা আগে স্ট্রোক বা রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- মাঝে মাঝে রক্তে শর্করা, ওজন ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করা উচিত।
- মাথা ঘোরা বা ঝিমুনি হতে পারে; ঔষধটি আপনার উপর কেমন প্রভাব ফেলে তা না জানা পর্যন্ত গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- অতিরিক্ত গরম ও পানিশূন্যতা এড়িয়ে চলুন।
- অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
প্রচণ্ড ঝিমুনি, বমি, দ্রুত হৃৎস্পন্দন, কাঁপুনি ও বিভ্রান্তি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যাটিপিক্যাল (দ্বিতীয় প্রজন্মের) অ্যান্টিসাইকোটিক।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে রাখুন। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।