ব্যবহার
আর্সেনিক ট্রাইঅক্সাইড একটি ক্যান্সার প্রতিরোধী ঔষধ, যা অ্যাকিউট প্রোমায়েলোসাইটিক লিউকেমিয়া (এপিএল) নামের রক্তের ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। কিছু রোগীর প্রথম চিকিৎসায় ট্রেটিনয়েনের সাথে এবং যাদের রোগ ফিরে এসেছে বা অন্য চিকিৎসায় কাজ হয়নি তাদের ক্ষেত্রে এটি দেওয়া হয়।
কীভাবে কাজ করে
এপিএল রোগের জন্য দায়ী একটি অস্বাভাবিক প্রোটিন (পিএমএল-আরএআরএ) এটি ভেঙে দেয়। ফলে ক্যান্সার কোষগুলো স্বাভাবিক কোষের মতো পরিণত হয় এবং অনেক কোষ মারা যায়, এতে রক্ত ও অস্থিমজ্জা থেকে ক্যান্সার কোষ কমে আসে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এটি হাসপাতালে চিকিৎসক বা নার্স ধীরে শিরায় ইনফিউশন হিসেবে দেন, সাধারণত দিনে একবার। মাত্রা শরীরের ওজন ও চিকিৎসার ধাপ অনুযায়ী রক্তের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ নির্ধারণ করেন। চিকিৎসার আগে ও চলাকালে ইসিজি ও রক্তের লবণ পরীক্ষা করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- কিউটি ব্যবধান বাড়ায় এমন ঔষধ যেমন অ্যামিওডারোন, কিছু অ্যান্টিসাইকোটিক, ম্যাক্রোলাইড ও ফ্লুরোকুইনোলোন অ্যান্টিবায়োটিক: বিপজ্জনক হৃদছন্দের সমস্যার ঝুঁকি বাড়ায়।
- পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কমায় এমন ঔষধ যেমন ডাইইউরেটিক ও অ্যামফোটেরিসিন বি: হৃদছন্দের ঝুঁকি বাড়ায়।
- লিভারের ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধ: লিভারের ক্ষতি বাড়াতে পারে।
সব ঔষধ ও সাপ্লিমেন্টের কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
আর্সেনিক বা কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে এটি দেওয়া হয় না। দীর্ঘ কিউটি ব্যবধান বা সংশোধন না হওয়া গুরুতর লবণের ভারসাম্যহীনতা থাকলে সাধারণত এড়ানো হয় অথবা খুব সাবধানে দেওয়া হয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ক্লান্তি, বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া, মাথাব্যথা, কাশি, জ্বর, শরীর ফোলা, রক্তে সুগার বাড়া, লিভার এনজাইম বাড়া, পটাশিয়াম বা ম্যাগনেসিয়াম কমা, হাত পায়ে ঝিনঝিন বা অবশ ভাব এবং ত্বকে র্যাশ।
জ্বরের সাথে শ্বাসকষ্ট, হঠাৎ ওজন বাড়া বা ফোলা, বুকে ব্যথা বা রক্তচাপ কমে যাওয়া (ডিফারেনশিয়েশন সিনড্রোমের লক্ষণ), অজ্ঞান হওয়া, বুক ধড়ফড় বা অনিয়মিত হৃদস্পন্দন, খিঁচুনি, বিভ্রান্তি বা তীব্র মাথাব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে, তাই গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করা যাবে না। চিকিৎসা চলাকালে ও পরে চিকিৎসকের বলা সময় পর্যন্ত নারী ও পুরুষ উভয়কে কার্যকর জন্মনিরোধক ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসা চলাকালে ও পরে নির্দেশিত সময় পর্যন্ত বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
চিকিৎসার সময় হাসপাতালে নিয়মিত ইসিজি, পটাশিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, রক্তকণিকা, লিভার ও কিডনির কার্যকারিতা পরীক্ষা করা দরকার। ডিফারেনশিয়েশন সিনড্রোম ও কিউটি দীর্ঘায়ন প্রাণঘাতী হতে পারে, তাই দ্রুত চিকিৎসা প্রয়োজন। কিডনি বা লিভারের রোগে সাবধানতা দরকার। মাথা ঘুরলে গাড়ি চালানো বা যন্ত্র চালানো এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে খিঁচুনি, পেশি দুর্বলতা, বিভ্রান্তি ও গুরুতর হৃদছন্দের সমস্যা হতে পারে। চিকিৎসা বন্ধ করে হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসা, প্রয়োজনে কিলেশন থেরাপি দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিনিওপ্লাস্টিক (লিউকেমিয়ার ক্যান্সার প্রতিরোধী ঔষধ)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন, সাধারণত ৩০°C এর নিচে, জমাবেন না। শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।