ব্যবহার
অ্যাসিমিনিব একটি টার্গেটেড ক্যান্সারের ঔষধ, যা প্রাপ্তবয়স্কদের ফিলাডেলফিয়া ক্রোমোজোম-পজিটিভ ক্রনিক মাইলয়েড লিউকেমিয়া (Ph+ CML) এর ক্রনিক পর্যায়ের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যারা আগে অন্য টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর নিয়েছেন এবং T315I নামের বিশেষ মিউটেশন আছে এমন রোগীসহ।
কীভাবে কাজ করে
CML এর পেছনে থাকে BCR-ABL1 নামের একটি অস্বাভাবিক প্রোটিন, যা রক্তকোষকে নিয়ন্ত্রণহীনভাবে বাড়তে বলে। অ্যাসিমিনিব এই প্রোটিনের একটি বিশেষ অংশে (মায়রিস্টোয়িল পকেট) যুক্ত হয়ে এটিকে নিষ্ক্রিয় অবস্থায় আটকে রাখে। পুরোনো ঔষধগুলোর চেয়ে ভিন্ন জায়গায় কাজ করে বলে ক্যান্সার সেগুলোর প্রতি প্রতিরোধী হলেও এটি কাজ করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
রক্তের ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খালি পেটে মুখে খান: প্রতি মাত্রার অন্তত ২ ঘণ্টা আগে ও ১ ঘণ্টা পরে কিছু খাবেন না। ট্যাবলেট আস্ত গিলে খান। মাত্রা এবং দিনে একবার না দুবার খেতে হবে তা রোগীর অবস্থার উপর নির্ভর করে। রক্তকণিকার সংখ্যা ও পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া অনুযায়ী চিকিৎসক মাত্রা কমাতে বা সাময়িক বন্ধ রাখতে পারেন।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- রিফামপিসিন, কার্বামাজেপিন ও সেন্ট জনস ওয়ার্টের মতো শক্তিশালী CYP3A4 ইনডিউসার এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- হাইড্রক্সিপ্রোপাইল-বিটা-সাইক্লোডেক্সট্রিনযুক্ত কিছু তরল ঔষধ, যেমন কিছু ইট্রাকোনাজল দ্রবণ, এর শোষণ কমাতে পারে।
- এটি ওয়ারফারিনসহ কিছু ঔষধের মাত্রা বাড়াতে পারে।
- হৃদছন্দে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধে সাবধানতা দরকার।
কারা খাবেন না
- অ্যাসিমিনিবে অ্যালার্জি থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণত রক্তকণিকা (প্লেটিলেট, সাদা ও লোহিত কণিকা) কমা, ক্লান্তি, মাথাব্যথা, মাংসপেশি ও গিঁটে ব্যথা, র্যাশ, ডায়রিয়া, বমি বমি ভাব, অগ্ন্যাশয়ের এনজাইম বাড়া, উচ্চ রক্তচাপ ও শ্বাসতন্ত্রের সংক্রমণ হতে পারে।
জ্বর বা সংক্রমণের লক্ষণ, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে দাগ, পিঠ পর্যন্ত ছড়ানো তীব্র পেটব্যথা (অগ্ন্যাশয়ে প্রদাহ হতে পারে), বুকে ব্যথা, শ্বাসকষ্ট, অজ্ঞান হওয়া, বা মাথাব্যথা বা দৃষ্টির পরিবর্তনসহ খুব উচ্চ রক্তচাপ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অ্যাসিমিনিব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের শুরুর আগে গর্ভাবস্থা পরীক্ষা করতে হবে এবং চিকিৎসার সময় ও শেষ মাত্রার পর চিকিৎসকের বলা সময় পর্যন্ত কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসার সময় ও পরে কিছুদিন বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্তকণিকা, অগ্ন্যাশয়ের এনজাইম, রক্তচাপ ও হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা দরকার।
- অগ্ন্যাশয়ের প্রদাহ, হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ বা লিভারের সমস্যা থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- রক্তকণিকা কম থাকলে ভিড় ও অসুস্থ মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই। চিকিৎসা সহায়তা নিন; রক্তকণিকা পর্যবেক্ষণসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী, BCR-ABL1 ইনহিবিটর (STAMP ইনহিবিটর, টাইরোসিন কাইনেজ ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, আসল প্যাকে, শুষ্ক স্থানে, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।