ব্যবহার
অ্যাসপিরিন ইমিডিয়েট রিলিজ হলো একটি সমন্বিত ক্যাপসুলের দ্রুত মুক্ত হওয়া কম মাত্রার অ্যাসপিরিন অংশ, যাতে ডাইপিরিডামল এক্সটেন্ডেড রিলিজ পেলেটও থাকে (সাধারণত ২৫ mg অ্যাসপিরিন ও ২০০ mg ডাইপিরিডামল)। যাদের ইসকেমিক স্ট্রোক (রক্তজমাট থেকে) বা ট্রান্সিয়েন্ট ইসকেমিক অ্যাটাক (TIA, ছোট স্ট্রোক) হয়েছে, সেই প্রাপ্তবয়স্কদের আবার স্ট্রোকের ঝুঁকি কমাতে এই সমন্বয় ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাসপিরিন প্লেটলেটের (রক্তের যে ছোট কণিকা একসাথে জমে জমাট বাঁধে) সাইক্লোঅক্সিজেনেজ এনজাইম স্থায়ীভাবে বন্ধ করে দেয়। এতে প্লেটলেটকে আঠালো করে এমন থ্রম্বক্সেন A2 তৈরি হতে পারে না। ইমিডিয়েট রিলিজ রূপে কম মাত্রাটি দ্রুত শোষিত হয়। ভিন্নভাবে প্লেটলেটে কাজ করা ডাইপিরিডামলের সাথে মিলে এটি মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহকারী ধমনীতে জমাট বাঁধা কমায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী খান। সমন্বিত ঔষধের সাধারণ প্রাপ্তবয়স্ক মাত্রা হলো দিনে দুইবার একটি করে ক্যাপসুল, সকালে ও সন্ধ্যায়, খাবারের সাথে বা খালি পেটে পানি দিয়ে আস্ত গিলে ফেলুন। ক্যাপসুল গুঁড়ো করবেন বা চিবাবেন না। শুরুতে মাথাব্যথা বেশি হলে চিকিৎসক প্রথম সপ্তাহের সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারেন। চিকিৎসকের সাথে কথা না বলে বন্ধ করবেন না, এতে স্ট্রোকের ঝুঁকি বাড়তে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ওয়ারফারিন, হেপারিন, ক্লোপিডোগ্রেল ও রিভারক্সাবানের মতো অন্য রক্ত পাতলা করার ঔষধ, আইবুপ্রোফেন ও ন্যাপ্রোক্সেনের মতো NSAID, স্টেরয়েড, এবং ফ্লুওক্সেটিন বা সার্ট্রালিনের মতো বিষণ্নতার ঔষধের সাথে রক্তপাতের ঝুঁকি বাড়ে। অ্যাসপিরিনের ঠিক আগে আইবুপ্রোফেন খেলে এর কার্যকারিতা কমতে পারে। অ্যাসপিরিন কিছু রক্তচাপের ঔষধ ও প্রস্রাব বাড়ানোর ঔষধের কাজ কমাতে এবং মেথোট্রেক্সেটের মাত্রা বাড়াতে পারে। বেশি অ্যালকোহল এড়িয়ে চলুন।
কারা খাবেন না
- অ্যাসপিরিন, অন্য NSAID বা ডাইপিরিডামলে অ্যালার্জি থাকলে, অ্যাসপিরিনজনিত হাঁপানিসহ।
- পাকস্থলী বা অন্ত্রে সক্রিয় আলসার বা রক্তক্ষরণ থাকলে।
- হিমোফিলিয়ার মতো রক্তক্ষরণজনিত রোগ থাকলে।
- গুরুতর লিভার বা কিডনি রোগ থাকলে।
- ১৬ বছরের কম বয়সী শিশু ও কিশোর (রেইয়েস সিনড্রোমের ঝুঁকি)।
- গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাস।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সমন্বিত ঔষধের সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে মাথাব্যথা (প্রায়ই প্রথম কয়েক সপ্তাহে), বদহজম, বমিভাব, পেটব্যথা, ডায়রিয়া, মাথা ঘোরা এবং সহজে কালশিটে দাগ পড়া বা নাক দিয়ে রক্ত পড়া।
রক্ত বা কফির গুঁড়ার মতো বমি হলে, কালো বা আলকাতরার মতো মল হলে, যেকোনো তীব্র বা অস্বাভাবিক রক্তপাত, হঠাৎ তীব্র মাথাব্যথা, শরীরের একপাশে দুর্বলতা, কথা জড়িয়ে যাওয়া, বুকে ব্যথা, অথবা মুখ ফুলে যাওয়া ও শ্বাসকষ্ট হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থার শেষ ৩ মাসে ব্যবহার করবেন না, কারণ অ্যাসপিরিন শিশুর হৃৎপিণ্ড ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে এবং প্রসবের সময় রক্তপাত ঘটাতে পারে। গর্ভাবস্থার আগের দিকে শুধু চিকিৎসক প্রয়োজনীয় মনে করলে ব্যবহার করুন। অ্যাসপিরিন বুকের দুধে যায়; বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এই সমন্বয় সাধারণত সুপারিশ করা হয় না।
সতর্কতা
যেকোনো অস্ত্রোপচার বা দাঁত তোলার আগে চিকিৎসক বা দন্তচিকিৎসককে জানান যে আপনি এই ঔষধ খাচ্ছেন। আলসারের ইতিহাস, হাঁপানি, গাউট, কিডনির সমস্যা, নিম্ন রক্তচাপ বা গুরুতর হৃৎপিণ্ডের ধমনীর রোগ থাকলে সাবধানে ব্যবহার করুন। এই পণ্যের অ্যাসপিরিন একা হার্ট অ্যাটাক প্রতিরোধের জন্য যথেষ্ট নয়; পরামর্শ ছাড়া হৃদরোগের অন্য ঔষধ পরিবর্তন করবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত সেবনে কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, বমিভাব, বমি, দ্রুত শ্বাস, বিভ্রান্তি, নিম্ন রক্তচাপ, মুখ লাল হওয়া ও দ্রুত হৃৎস্পন্দন হতে পারে। এটি জরুরি অবস্থা: প্যাকেটসহ হাসপাতালে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিপ্লেটলেট (স্যালিসিলেট), ডাইপিরিডামলের সাথে সমন্বিতভাবে ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। আর্দ্রতা থেকে রক্ষার জন্য ক্যাপসুল আসল পাত্রে মুখ ভালোভাবে বন্ধ করে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।