ব্যবহার
অ্যাটেজোলিজুমাব একটি ইমিউনোথেরাপি ঔষধ, যা কিছু ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। এর মধ্যে আছে কিছু ধরনের নন-স্মল সেল ফুসফুস ক্যান্সার, বিস্তৃত পর্যায়ের স্মল সেল ফুসফুস ক্যান্সার, লিভার ক্যান্সার (হেপাটোসেলুলার কার্সিনোমা), মূত্রথলির ক্যান্সার, মেলানোমা এবং আরও কিছু ক্যান্সার, যা টিউমারের ধরন ও পরীক্ষার ফলাফলের উপর নির্ভর করে। এটি একা বা কেমোথেরাপি ও অন্য ক্যান্সারের ঔষধের সাথে দেওয়া হতে পারে। এটি উপযুক্ত কিনা তা ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ ঠিক করেন।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাটেজোলিজুমাব একটি মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি, অর্থাৎ ল্যাবরেটরিতে তৈরি একটি প্রোটিন, যা PD-L1 নামের একটি লক্ষ্যের সাথে যুক্ত হয়। অনেক ক্যান্সার কোষ PD-L1 ব্যবহার করে টি সেল নামের রোগপ্রতিরোধ কোষকে নিষ্ক্রিয় করে রাখে। PD-L1 আটকে দিয়ে এই ঔষধ সেই ব্রেক সরিয়ে দেয়, ফলে রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থা আবার ক্যান্সার কোষ চিনে আক্রমণ করতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
অ্যাটেজোলিজুমাব হাসপাতাল বা ক্যান্সার ক্লিনিকে চিকিৎসক বা নার্স শিরায় ইনফিউশন হিসেবে (কিছু পণ্যে ত্বকের নিচে ইনজেকশন হিসেবে) দেন, সাধারণত প্রতি ২, ৩ বা ৪ সপ্তাহে একবার। মাত্রা ও চিকিৎসার মেয়াদ ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ নির্ধারণ করেন, যা ক্যান্সারের ধরন, অন্য চিকিৎসা এবং রোগী কতটা সহ্য করছেন তার উপর নির্ভর করে। চিকিৎসার আগে ও চলাকালে রক্ত পরীক্ষা করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
লিভারের মাধ্যমে বড় ধরনের ঔষধ প্রতিক্রিয়া আশা করা হয় না। তবে চিকিৎসা শুরুর আগে স্টেরয়েড বা রোগপ্রতিরোধ দমনকারী অন্য ঔষধ নিলে এর কার্যকারিতা কমতে পারে, তাই চিকিৎসককে জানান। পরে রোগপ্রতিরোধজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিকিৎসায় স্টেরয়েড প্রায়ই ব্যবহার করা হয়, যা গ্রহণযোগ্য। সব ঔষধ, ভেষজ ও টিকার কথা চিকিৎসককে জানান।
কারা খাবেন না
অ্যাটেজোলিজুমাব বা এর কোনো উপাদানে আগে তীব্র অ্যালার্জি হয়ে থাকলে ব্যবহার করা যাবে না। সক্রিয় অটোইমিউন রোগ, অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা গুরুতর লিভার রোগ থাকলে বাড়তি সতর্কতা দরকার।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে ক্লান্তি, ক্ষুধামন্দা, বমিভাব, কাশি, শ্বাসকষ্ট, জ্বর, র্যাশ, চুলকানি, গাঁট বা মাংসপেশিতে ব্যথা, ডায়রিয়া এবং ইনফিউশন প্রতিক্রিয়া (স্যালাইন চলার সময় কাঁপুনি, জ্বর বা মুখ লাল হওয়া)। এটি রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে সক্রিয় করে বলে যেকোনো অঙ্গে প্রদাহ হতে পারে, যেমন ফুসফুস (নিউমোনাইটিস), অন্ত্র (কোলাইটিস), লিভার (হেপাটাইটিস), হরমোন গ্রন্থি (থাইরয়েড, অ্যাড্রিনাল, পিটুইটারি, অগ্ন্যাশয়, যার ফলে ডায়াবেটিস), কিডনি, ত্বক, স্নায়ু বা হৃৎপিণ্ড। এগুলো চিকিৎসার সময় বা কয়েক মাস পরেও দেখা দিতে পারে।
নতুন বা বেড়ে যাওয়া কাশি, বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, তীব্র পেটব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অতিরিক্ত ক্লান্তি, বিভ্রান্তি, তীব্র মাথাব্যথা, খুব বেশি পিপাসা বা প্রস্রাব, ফোসকাযুক্ত র্যাশ, মাংসপেশির দুর্বলতা বা উচ্চ জ্বর হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অ্যাটেজোলিজুমাব গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের চিকিৎসা চলাকালে এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ৫ মাস কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা উচিত। চিকিৎসা চলাকালে এবং শেষ ডোজের পর অন্তত ৫ মাস বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- আপনি ইমিউনোথেরাপি নিচ্ছেন, এমন একটি কার্ড বা কাগজ সাথে রাখুন এবং যেকোনো চিকিৎসককে দেখান।
- নতুন উপসর্গ দ্রুত জানান; শুরুতে ধরা পড়লে রোগপ্রতিরোধজনিত পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার চিকিৎসা সহজ হয়।
- নিয়মিত থাইরয়েড, লিভার, কিডনি ও রক্তের শর্করা পরীক্ষা করা হয়।
- অটোইমিউন রোগ, অঙ্গ প্রতিস্থাপন বা রোগপ্রতিরোধ দমনকারী ঔষধ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। হলে রোগীকে পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার জন্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হয় এবং প্রয়োজনমতো চিকিৎসা দেওয়া হয়। কোনো নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সার প্রতিরোধী ইমিউনোথেরাপি; PD-L1 ব্লককারী মনোক্লোনাল অ্যান্টিবডি (ইমিউন চেকপয়েন্ট ইনহিবিটর)।
সংরক্ষণ
রেফ্রিজারেটরে ২ থেকে ৮°C তাপমাত্রায় রাখুন, জমাবেন না, এবং আলো থেকে রক্ষা করতে ভায়ালটি বাইরের বাক্সে রাখুন। হাসপাতালের কর্মীরা প্যাকের নির্দেশনা অনুযায়ী এটি সংরক্ষণ ও প্রস্তুত করেন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।