ব্যবহার
অ্যাট্রোপিন সালফেট প্রধানত দুইভাবে ব্যবহার হয়:
- চোখের ড্রপ ও মলম: চোখ পরীক্ষার সময় (বিশেষ করে শিশুদের) চোখের মণি বড় করতে ও চোখের ফোকাস করার মাংসপেশি শিথিল করতে, এবং চোখের ভেতরের ব্যথাযুক্ত প্রদাহে (ইউভাইটিস বা আইরাইটিস)। শিশুদের ক্ষীণদৃষ্টি (মায়োপিয়া) বাড়ার গতি কমাতে চক্ষু বিশেষজ্ঞ কখনও খুব কম শক্তির ড্রপ দেন।
- ইনজেকশন: হাসপাতালে অপারেশনের আগে লালা ও শ্বাসনালির নিঃসরণ কমাতে, বিপজ্জনকভাবে ধীর হৃৎস্পন্দনের চিকিৎসায়, এবং অর্গানোফসফেট কীটনাশক ও কিছু নার্ভ এজেন্টের বিষক্রিয়ার প্রতিষেধক হিসেবে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাট্রোপিন একটি অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাসকারিনিক) ঔষধ। এটি অ্যাসিটাইলকোলিন নামের প্রাকৃতিক রাসায়নিক বার্তাবাহককে আটকায়, যা চোখের মণি ছোট করে, হৃৎস্পন্দন ধীর করে ও নিঃসরণ বাড়ায়। এটি আটকালে মণি বড় হয়, হৃৎস্পন্দন বাড়ে এবং নিঃসরণ শুকিয়ে যায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- চোখের ড্রপ (সাধারণত 1%): চক্ষু চিকিৎসকের প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী। প্রাপ্তবয়স্কদের প্রদাহে সাধারণত আক্রান্ত চোখে দিনে ২ থেকে ৩ বার পর্যন্ত ১ ফোঁটা। শিশুদের চোখ পরীক্ষার জন্য শুধু চক্ষু চিকিৎসকের নির্দেশ মতো। মায়োপিয়ার কম শক্তির ড্রপ: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী, সাধারণত রাতে ঘুমানোর আগে ১ বার।
- চোখের মলম: প্রেসক্রিপশন অনুযায়ী।
- ইনজেকশন: শুধু ডাক্তার বা নার্স দেন; মাত্রা নির্ভর করে কারণ, রোগীর ওজন ও সাড়ার ওপর।
ড্রপ দেওয়ার পর চোখের ভেতরের কোণে ১ থেকে ২ মিনিট আলতো চাপ দিন, এতে শরীরে কম ঔষধ পৌঁছায়। পরে হাত ধুয়ে নিন, বিশেষ করে শিশুকে দেওয়ার পর।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
অ্যান্টিকোলিনার্জিক প্রভাবযুক্ত অন্য ঔষধ, যেমন কিছু অ্যান্টিহিস্টামিন (ক্লোরফেনিরামিন), ট্রাইসাইক্লিক অ্যান্টিডিপ্রেস্যান্ট (অ্যামিট্রিপটাইলিন), অ্যান্টিসাইকোটিক, হায়োসিন ও পারকিনসন রোগের কিছু ঔষধের সাথে প্রভাব যোগ হয়ে মুখ শুকানো, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাব আটকে যাওয়া ও বিভ্রান্তি বাড়ে। গ্লুকোমার চোখের ড্রপের (যেমন পাইলোকারপিন) কাজ কমাতে পারে এবং মুখে খাওয়া অন্য ঔষধের শোষণ ধীর করতে পারে।
কারা খাবেন না
অ্যাট্রোপিনে এলার্জি থাকলে; অ্যাঙ্গেল-ক্লোজার গ্লুকোমা বা চোখের পানি নিষ্কাশনের পথ সরু থাকলে (চোখের চাপ হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার ঝুঁকি)। জরুরি নয় এমন ক্ষেত্রে প্রস্রাব আটকে যাওয়াসহ প্রোস্টেটের গুরুতর বৃদ্ধি, অন্ত্রে বাধা ও মায়াস্থেনিয়া গ্রাভিসেও এড়িয়ে চলা হয়। প্রাণঘাতী বিষক্রিয়া বা খুব ধীর হৃৎস্পন্দনে ডাক্তার তবুও এটি দিতে পারেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
চোখের ড্রপ: জ্বালা, কাছের জিনিস ঝাপসা দেখা ও উজ্জ্বল আলোতে অস্বস্তি, যা 1% ড্রপে ১ থেকে ২ সপ্তাহ থাকতে পারে; চোখের পাতা লাল হওয়া বা ফোলা। শরীরে বেশি শোষিত হলে: মুখ শুকানো, মুখ লাল হওয়া, জ্বর, বুক ধড়ফড়, কোষ্ঠকাঠিন্য, প্রস্রাবে কষ্ট, এবং অস্থিরতা বা বিভ্রান্তি, বিশেষ করে ছোট শিশু ও বয়স্কদের।
হঠাৎ চোখে ব্যথা ও লালভাব, মাথাব্যথা, বমিভাব এবং আলোর চারপাশে বলয় দেখা দিলে (তীব্র গ্লুকোমা হতে পারে), অথবা ড্রপ দেওয়ার পর শিশু গরম ও লাল হয়ে গেলে, খুব অস্থির বা বিভ্রান্ত হলে, বা হৃৎস্পন্দন খুব দ্রুত হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় শুধু ডাক্তার প্রয়োজন মনে করলে ব্যবহার করুন। অল্প পরিমাণ বুকের দুধে যেতে পারে এবং দুধ কমাতে পারে; দুধ খাওয়ানোর সময় শুধু ডাক্তারের পরামর্শে ব্যবহার করুন।
সতর্কতা
চোখ ঝাপসা থাকলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না। উজ্জ্বল আলোতে সানগ্লাস পরুন। ড্রপ দেওয়ার আগে নরম কন্টাক্ট লেন্স খুলে নিন। শিশু, ছোট বাচ্চা, ডাউন সিনড্রোম, বয়স্ক, এবং হৃদরোগ, উচ্চ রক্তচাপ, থাইরয়েডের অতিসক্রিয়তা বা জ্বর থাকলে বাড়তি সাবধানে ব্যবহার করুন। অ্যাট্রোপিন ঘাম কমায়, তাই অতিরিক্ত গরম এড়িয়ে চলুন। ড্রপারের মুখ চোখে লাগাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
চোখের ড্রপ গিলে ফেললে, বিশেষ করে শিশু, বিপজ্জনক হতে পারে। লক্ষণ: শুকনো গরম লাল ত্বক, জ্বর, বড় মণি, খুব দ্রুত হৃৎস্পন্দন, বিভ্রান্তি, উত্তেজনা ও অলীক কিছু দেখা। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন এবং বোতলটি সাথে নিয়ে যান।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিকোলিনার্জিক (অ্যান্টিমাসকারিনিক) ঔষধ; চোখের মণি বড় ও ফোকাস শিথিল করার ঔষধ; প্রতিষেধক।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। চোখের ড্রপ প্রথম খোলার ৪ সপ্তাহ পর ফেলে দিন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।