ব্যবহার
অ্যাভিব্যাকটাম সেফটাজিডিম অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে একটি সংমিশ্রিত ইনজেকশন হিসেবে ব্যবহার হয়। এই সংমিশ্রণ বড় ও শিশুদের গুরুতর ব্যাকটেরিয়াজনিত সংক্রমণের চিকিৎসায় দেওয়া হয়, যেমন জটিল পেটের ভেতরের সংক্রমণ (মেট্রোনিডাজোলের সাথে), কিডনির সংক্রমণসহ জটিল মূত্রনালির সংক্রমণ, ভেন্টিলেটরজনিত নিউমোনিয়াসহ হাসপাতালে হওয়া নিউমোনিয়া, এবং চিকিৎসার বিকল্প সীমিত থাকলে গ্রাম-নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার অন্যান্য সংক্রমণ। এটি হাসপাতালের ঔষধ, চিকিৎসক বা নার্স দেন, এবং অন্য অ্যান্টিবায়োটিকে প্রতিরোধী হতে পারে এমন সংক্রমণের জন্য সংরক্ষিত রাখা হয়।
কীভাবে কাজ করে
অনেক প্রতিরোধী ব্যাকটেরিয়া বিটা-ল্যাকটামেজ নামের এনজাইম তৈরি করে, যা সেফটাজিডিমের মতো অ্যান্টিবায়োটিক নষ্ট করে দেয়। অ্যাভিব্যাকটাম একটি বিটা-ল্যাকটামেজ ইনহিবিটর: এটি কিছু কার্বাপেনেমেজসহ এমন অনেক এনজাইম আটকে দেয়। অ্যাভিব্যাকটামের নিজের জীবাণুনাশক ক্ষমতা কম, তবে এটি সেফটাজিডিমকে রক্ষা করে, ফলে সেফটাজিডিম ব্যাকটেরিয়ার কোষপ্রাচীর নষ্ট করে তাদের মেরে ফেলে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
হাসপাতালে প্রায় ২ ঘণ্টা ধরে শিরায় ধীরে ধীরে ড্রিপ হিসেবে, সাধারণত প্রতি ৮ ঘণ্টা পরপর দেওয়া হয়। সংক্রমণের ধরন, শিশুদের ক্ষেত্রে ওজন এবং কিডনির কার্যক্ষমতা দেখে চিকিৎসক মাত্রা ও চিকিৎসার মেয়াদ ঠিক করেন। কিডনির সমস্যায় মাত্রা কমানো হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
প্রোবেনেসিড অ্যাভিব্যাকটামের নিষ্কাশন কমাতে পারে, তাই একসাথে দেওয়া হয় না। ফুরোসেমাইডের মতো শক্তিশালী ডাইইউরেটিক বা অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইডের মতো কিডনির ক্ষতি করতে পারে এমন ঔষধের সাথে কিডনির সমস্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে। অন্যান্য অ্যান্টিবায়োটিকের মতো এটি মুখে খাওয়ার জীবন্ত টাইফয়েড ও কলেরা টিকার কার্যকারিতা কমাতে পারে।
কারা খাবেন না
- অ্যাভিব্যাকটাম, সেফটাজিডিম বা যেকোনো সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি থাকলে।
- পেনিসিলিন বা কার্বাপেনেমসহ অন্য কোনো বিটা-ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিকে তীব্র অ্যালার্জি (যেমন অ্যানাফাইল্যাক্সিস) হয়ে থাকলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হলো ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি, পেটব্যথা, মাথাব্যথা, মাথা ঘোরা, ড্রিপের জায়গায় ব্যথা বা ফোলা, লিভার পরীক্ষার মান বাড়া, কুম্বস রক্ত পরীক্ষা পজিটিভ হওয়া এবং মুখে ছত্রাক সংক্রমণের মতো সমস্যা।
চিকিৎসাকর্মীরা গুরুতর প্রতিক্রিয়ার দিকে নজর রাখেন ও চিকিৎসা করেন। র্যাশ, মুখ বা গলা ফোলা, শ্বাসকষ্ট, তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া (চিকিৎসার সময় বা কয়েক সপ্তাহ পরেও হতে পারে), বিভ্রান্তি বা খিঁচুনি (কিডনির সমস্যায় বেশি হয়) অথবা প্রস্রাব কমে গেলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা চিকিৎসককে জানান।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এর ব্যবহারের অভিজ্ঞতা সীমিত; চিকিৎসক উপকার ঝুঁকির চেয়ে বেশি মনে করলেই দেওয়া হয়। সেফটাজিডিম অল্প পরিমাণে বুকের দুধে যায়, অ্যাভিব্যাকটাম যায় কি না জানা নেই; বুকের দুধ খাওয়ানো নিয়ে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি হয়ে থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- কিডনির কার্যক্ষমতা পর্যবেক্ষণ করে মাত্রা ঠিক করা হয়।
- প্রতিরোধ ঠেকাতে শুধু সংবেদনশীল ব্যাকটেরিয়ার প্রমাণিত বা জোরালো সন্দেহের সংক্রমণে ব্যবহার করা হয়।
- এতে সোডিয়াম আছে; লবণ নিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাসের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বিশেষ করে কিডনির সমস্যায় মাত্রা বেশি হলে বিভ্রান্তি, খিঁচুনি বা অচেতনতার মতো স্নায়বিক সমস্যা হতে পারে। হাসপাতালে এর চিকিৎসা করা হয়; হিমোডায়ালাইসিসে ঔষধটি বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
বিটা-ল্যাকটামেজ ইনহিবিটর, তৃতীয় প্রজন্মের সেফালোস্পোরিন অ্যান্টিবায়োটিকের সাথে ব্যবহৃত।
সংরক্ষণ
না খোলা ভায়াল প্যাকেটের নির্দেশনা অনুযায়ী, সাধারণত ৩০°C এর নিচে আসল বাক্সে আলো থেকে দূরে রাখুন। প্রস্তুত দ্রবণ প্রস্তুতকারকের নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ব্যবহার করতে হয়। হাসপাতালে সংরক্ষিত থাকে, শিশুদের নাগালের বাইরে।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।