ব্যবহার
অ্যাজাসিটিডিন একটি ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ। এটি কিছু রক্ত ও অস্থিমজ্জার ক্যান্সারের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যেমন মায়েলোডিসপ্লাস্টিক সিনড্রোম (যেখানে অস্থিমজ্জা ত্রুটিপূর্ণ রক্তকণিকা তৈরি করে), ক্রনিক মায়েলোমনোসাইটিক লিউকেমিয়া এবং তীব্র চিকিৎসার উপযুক্ত নন এমন প্রাপ্তবয়স্কদের অ্যাকিউট মায়েলয়েড লিউকেমিয়া। এটি ক্যান্সার বিশেষজ্ঞের তত্ত্বাবধানে ব্যবহার হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাজাসিটিডিন একটি হাইপোমিথাইলেটিং এজেন্ট। এটি কোষের জিনগত উপাদানে ঢুকে যায় এবং ডিএনএতে রাসায়নিক চিহ্ন (মিথাইল গ্রুপ) যোগ করে এমন একটি এনজাইমকে আটকে দেয়। এই চিহ্ন সরে গেলে কোষকে স্বাভাবিকভাবে পরিণত হতে সাহায্যকারী জিন আবার সক্রিয় হতে পারে। এটি অস্থিমজ্জার দ্রুত বিভাজিত অস্বাভাবিক কোষও ধ্বংস করে। কয়েকটি চক্রের পর রক্তের মাত্রা উন্নত হতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
অ্যাজাসিটিডিন চিকিৎসক বা নার্স চামড়ার নিচে বা শিরায় ইনজেকশন হিসেবে দেন, সাধারণত টানা ৭ দিন, প্রতি ৪ সপ্তাহ পরপর। মাত্রা বিশেষজ্ঞ শরীরের আকার অনুযায়ী হিসাব করেন এবং রক্তের মাত্রা ও কিডনির কার্যকারিতা অনুযায়ী পরিবর্তন করেন। উপকার বোঝার আগে সাধারণত কয়েকটি চক্র চালানো হয়। ট্যাবলেট রূপ পাওয়া গেলে তা কেবল চিকিৎসকের নির্দেশমতো খেতে হবে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
বড় কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই, তবে ভেষজসহ সব ঔষধের কথা বিশেষজ্ঞকে জানান। চিকিৎসার সময় জীবন্ত টিকা এড়িয়ে চলতে হবে। রক্তকণিকা কমায় এমন অন্য ঔষধ প্রভাব বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
অ্যাজাসিটিডিন বা ম্যানিটলে অ্যালার্জি থাকলে, অগ্রসর লিভার ক্যান্সার থাকলে বা বুকের দুধ খাওয়ালে ব্যবহার করা যাবে না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে রক্তকণিকা কমে যাওয়া (ফলে সংক্রমণ, ক্লান্তি এবং সহজে কালশিটে বা রক্তপাত), বমিভাব, বমি, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, জ্বর, ইনজেকশনের জায়গায় লালচে ভাব বা কালশিটে, দুর্বলতা ও ক্ষুধামন্দা।
৩৮°C বা তার বেশি জ্বর, কাঁপুনি, সংক্রমণের লক্ষণ, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, কালো পায়খানা, তীব্র শ্বাসকষ্ট, প্রস্রাব কমে যাওয়া, অথবা ত্বক বা চোখ হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অ্যাজাসিটিডিন গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসার সময় ও শেষ হওয়ার পর অন্তত ৬ মাস নারীদের গর্ভধারণ এড়াতে হবে, আর পুরুষদের চিকিৎসার সময় ও পরে ৩ মাস সন্তান জন্মদান এড়াতে কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা এবং কিডনি ও লিভারের পরীক্ষা দরকার। রক্তকণিকা খুব কম হলে চিকিৎসা পিছিয়ে দেওয়া বা মাত্রা কমানো হতে পারে। হৃদরোগ, ফুসফুসের রোগ এবং কিডনি বা লিভারের সমস্যায় সাবধানতা দরকার। সংক্রমিত মানুষের সংস্পর্শ এড়িয়ে চলুন এবং সংক্রমণের লক্ষণ দ্রুত জানান। এটি প্রশিক্ষিত কর্মীরা সাইটোটক্সিক ঔষধ হিসেবে নিয়ম মেনে প্রস্তুত করেন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
মাত্রাতিরিক্ত হলে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হয়। এতে তীব্র ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি এবং রক্তকণিকা খুব কমে যেতে পারে। রক্তের মাত্রা পর্যবেক্ষণসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ক্যান্সারবিরোধী ঔষধ (হাইপোমিথাইলেটিং এজেন্ট, পাইরিমিডিন অ্যানালগ)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালে ব্যবহৃত ঔষধ: প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী সংরক্ষণ করুন, শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।