ব্যবহার
অ্যাজেলাইক অ্যাসিড মুখের ত্বকে লাগানোর একটি ঔষধ। হালকা থেকে মাঝারি ব্রণ (ফুসকুড়ি, ব্ল্যাকহেড ও হোয়াইটহেড) এবং রোসেসিয়ার লালচে ভাব ও দানার চিকিৎসায় এটি ব্যবহার করা হয়। মেছতা (মেলাজমা) ও ব্রণের পরে থেকে যাওয়া কালো দাগ হালকা করতেও এটি ব্যবহৃত হয়।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাজেলাইক অ্যাসিড ব্রণ সৃষ্টিকারী জীবাণু ধ্বংস করে, ত্বকের কোষ ঝরে পড়ার প্রক্রিয়া স্বাভাবিক করে লোমকূপ খোলা রাখতে সাহায্য করে এবং প্রদাহ কমিয়ে লালচে ভাব ও ফোলা কমায়। এটি অতিসক্রিয় রঞ্জক কোষের কাজও ধীর করে, ফলে কালো দাগ সমান হতে থাকে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
প্রাপ্তবয়স্ক ও কিশোরদের জন্য দিনে দুইবার, সকালে ও সন্ধ্যায়, পরিষ্কার ও শুকনো আক্রান্ত ত্বকে ক্রিম বা জেলের পাতলা স্তর লাগিয়ে আলতো করে ঘষে দিন, অথবা চিকিৎসকের নির্দেশমতো ব্যবহার করুন। লাগানোর পর হাত ধুয়ে নিন। চোখ, মুখের ভেতর ও নাকের ভেতরে লাগাবেন না। ব্রণের উন্নতি সাধারণত প্রায় ৪ সপ্তাহ পর শুরু হয়; কয়েক মাস নিয়মিত ব্যবহার লাগতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
খাওয়ার ঔষধের সাথে গুরুত্বপূর্ণ কোনো প্রতিক্রিয়া জানা নেই। বেনজয়েল পারক্সাইড, ট্রেটিনয়েন, অ্যাডাপালিন, অ্যালকোহলযুক্ত ক্লিনজার বা স্ক্রাবের মতো ত্বক শুষ্ক বা জ্বালা সৃষ্টিকারী পণ্যের সাথে একসাথে ব্যবহার করলে জ্বালা বাড়তে পারে, তাই সাবধানে শুরু করুন বা দিনের ভিন্ন সময়ে ব্যবহার করুন।
কারা খাবেন না
- অ্যাজেলাইক অ্যাসিড বা ক্রিম বা জেলের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
লাগানোর জায়গায় জ্বালাপোড়া, হুল ফোটানোর মতো অনুভূতি, চুলকানি, ঝিনঝিন ভাব, শুষ্কতা, চামড়া ওঠা ও লালচে ভাব সাধারণ, বিশেষ করে প্রথম কয়েক সপ্তাহে; নিয়মিত ব্যবহারে সাধারণত এগুলো কমে যায়। কম ক্ষেত্রে লাগানোর জায়গার ত্বক হালকা রঙের হয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে গাঢ় ত্বকে। খুব কম ক্ষেত্রে হাঁপানির উপসর্গ বেড়ে যাওয়ার কথা জানা গেছে।
মুখ, ঠোঁট বা চোখ ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে বা তীব্র ফোসকাযুক্ত প্রতিক্রিয়া হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ত্বক দিয়ে খুব সামান্য অ্যাজেলাইক অ্যাসিড শরীরে শোষিত হয়, এবং গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় এটিকে তুলনামূলক নিরাপদ ব্রণের চিকিৎসা হিসেবে ধরা হয়। তবুও চিকিৎসকের সাথে কথা বলে ব্যবহার করুন। বুকের দুধ খাওয়ালে বুকের অংশে লাগাবেন না।
সতর্কতা
- চোখে লেগে গেলে প্রচুর পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলুন।
- জ্বালা খুব বেশি হলে কম ঘন ঘন ব্যবহার করুন অথবা বন্ধ করে চিকিৎসকের সাথে কথা বলুন।
- ত্বক অস্বাভাবিকভাবে হালকা হয়ে গেলে চিকিৎসককে জানান।
- চিকিৎসার সময় ভারী, তৈলাক্ত মেকআপ এড়িয়ে চলুন এবং হালকা সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
প্রয়োজনের বেশি লাগালে দ্রুত কাজ হয় না, বরং জ্বালা বাড়ে। বেশি পরিমাণে গিলে ফেললে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে ব্যবহারের ব্রণ ও রোসেসিয়া প্রতিরোধী ঔষধ (ডাইকার্বক্সিলিক অ্যাসিড)
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। জমাবেন না। ব্যবহারের পর টিউবের মুখ শক্ত করে বন্ধ করুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।