ব্যবহার
অ্যাজট্রিওনাম একটি অ্যান্টিবায়োটিক ইনজেকশন, যা হাসপাতালে গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়া (সিউডোমোনাস অ্যারুজিনোসা সহ) দিয়ে হওয়া গুরুতর সংক্রমণের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। যেমন মূত্রনালি, ফুসফুস, রক্ত (সেপ্টিসেমিয়া), ত্বক ও নরম টিস্যু, পেটের ভেতর ও নারীদের শ্রোণি অঙ্গের সংক্রমণ। পেনিসিলিনে অ্যালার্জি আছে এমন কিছু রোগীর ক্ষেত্রেও এটি কাজে আসে।
কীভাবে কাজ করে
অ্যাজট্রিওনাম মনোব্যাকটাম নামের একটি দলের ঔষধ। ব্যাকটেরিয়া যে প্রোটিন দিয়ে কোষপ্রাচীর তৈরি করে, এটি সেই প্রোটিনে আটকে যায়। শক্ত প্রাচীর না থাকায় ব্যাকটেরিয়া ফুলে ফেটে যায়। এটি শুধু গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে কাজ করে, তাই অন্য জীবাণুর সন্দেহ থাকলে চিকিৎসক আরেকটি অ্যান্টিবায়োটিক যোগ করতে পারেন।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসক বা নার্স এটি শিরায় বা গভীর মাংসপেশিতে ইনজেকশন হিসেবে দেন, সাধারণত প্রতি ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পরপর। সংক্রমণের ধরন ও তীব্রতা, ওজন ও কিডনির অবস্থা অনুযায়ী মাত্রা ও সময়কাল চিকিৎসক ঠিক করেন। নিজে নিজে ব্যবহার করবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- সেফোক্সিটিন ও ইমিপেনেমের মতো কিছু অ্যান্টিবায়োটিক নির্দিষ্ট ব্যাকটেরিয়ার বিরুদ্ধে এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- জেন্টামাইসিনের মতো অ্যামাইনোগ্লাইকোসাইডের সাথে দিলে কিডনি ও শ্রবণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া বাড়তে পারে, তাই কিডনির কাজ পর্যবেক্ষণ করা হয়।
- ওয়ারফারিন সেবনকারীদের রক্ত জমাট বাঁধার পরীক্ষায় প্রভাব ফেলতে পারে।
কারা খাবেন না
- অ্যাজট্রিওনামে অ্যালার্জি থাকলে।
- সেফটাজিডিমে তীব্র অ্যালার্জি থাকলে সাধারণত এড়িয়ে চলা হয়, কারণ দুটোর গঠন কাছাকাছি।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনজেকশনের জায়গায় ব্যথা, লাল হওয়া বা ফোলা, র্যাশ, ডায়রিয়া, বমিভাব, বমি, স্বাদে পরিবর্তন ও লিভার এনজাইম বাড়তে পারে।
ফোসকা পড়া র্যাশ, মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া, শ্বাসকষ্ট, চিকিৎসার সময় বা পরে তীব্র বা রক্তমিশ্রিত ডায়রিয়া, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, অথবা ত্বক বা চোখ হলুদ হলে সঙ্গে সঙ্গে নার্স বা চিকিৎসককে জানান বা দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
এটি গর্ভফুল পার হয়, তাই গর্ভাবস্থায় কেবল চিকিৎসক স্পষ্টভাবে প্রয়োজন মনে করলে দেওয়া হয়। খুব সামান্য পরিমাণ বুকের দুধে যায় এবং শিশুর শরীরে খুব কম শোষিত হয়; বুকের দুধ খাওয়ানোর বিষয়ে চিকিৎসক পরামর্শ দেবেন।
সতর্কতা
- আগে কোনো অ্যান্টিবায়োটিকে অ্যালার্জি, কিডনি বা লিভারের রোগ থাকলে চিকিৎসককে জানান।
- দীর্ঘ সময় ব্যবহারে প্রতিরোধী জীবাণু বা ছত্রাক বেড়ে যেতে পারে।
- কিডনির রোগে মাত্রা কমানো হয়।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
হাসপাতালে দেওয়া হয় বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। হলে ঔষধ বন্ধ করে সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়; ডায়ালাইসিসে এটি শরীর থেকে বের করা যায়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
মনোব্যাকটাম বিটা ল্যাকটাম অ্যান্টিবায়োটিক।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকে লেখা নির্দেশনা অনুযায়ী, ৩০°C এর নিচে ও আলো থেকে দূরে রাখুন। তৈরি করা দ্রবণ প্রস্তুতকারকের নির্দেশনামতো ব্যবহার করতে হয়।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।