ব্যবহার
এই ইউনানি প্রস্তুতির মূল উপাদান মাজুফল, অর্থাৎ কুয়েরকাস ইনফেক্টোরিয়া নামের ওক গাছের ডালে জন্মানো শক্ত গুটি, যা প্রাকৃতিকভাবে ট্যানিক অ্যাসিডে খুব সমৃদ্ধ। প্রচলিতভাবে এটি সংকোচক হিসেবে ব্যবহৃত হয়, অর্থাৎ এমন উপাদান যা টিস্যুকে টানটান ও শুষ্ক করে। পাতলা পায়খানা, অতিরিক্ত সাদা স্রাব (লিউকোরিয়া) এবং মাড়ি থেকে রক্ত পড়া বা নরম মাড়িতে এটি ব্যবহার করা হয়। এসব ব্যবহারের বৈজ্ঞানিক প্রমাণ সীমিত, এবং এটি কোনো রোগ সারানোর ঔষধ নয়।
কীভাবে কাজ করে
ট্যানিক অ্যাসিড ত্বক, মাড়ি ও অন্ত্রের আবরণের উপরিভাগের প্রোটিনের সাথে যুক্ত হয়। এতে একটি পাতলা সুরক্ষা স্তর তৈরি হয়, টিস্যু টানটান হয় এবং রস ঝরা, রক্তপাত ও তরল ক্ষয় কমে। ট্যানিনের কিছুটা হালকা জীবাণুনাশক গুণও আছে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
লেবেলের নির্দেশনা অনুযায়ী অথবা নিবন্ধিত ইউনানি চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ব্যবহার করুন। চিকিৎসক অন্যভাবে না বললে অল্প সময়ের জন্যই ব্যবহার করুন। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া শিশুদের দেবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
ট্যানিন অন্ত্রে আয়রন, অন্যান্য খনিজ ও অনেক ঔষধের সাথে যুক্ত হয়ে সেগুলোর শোষণ কমিয়ে দিতে পারে। আয়রন ট্যাবলেট, অন্যান্য সাপ্লিমেন্ট ও নিয়মিত ঔষধ থেকে অন্তত ২ ঘণ্টা ব্যবধানে এটি খান। আপনি যেসব ঔষধ ও ভেষজ পণ্য খান, সব ডাক্তার বা ফার্মাসিস্টকে জানান।
কারা খাবেন না
- মাজুফল বা ট্যানিনে অ্যালার্জি থাকলে।
- কোষ্ঠকাঠিন্য বা অন্ত্রে বাধা থাকলে।
- লিভারের রোগ থাকলে, কারণ বেশি ট্যানিক অ্যাসিড লিভারের ক্ষতি করতে পারে।
- শিশু, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নয়।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটের অস্বস্তি, বমি বমি ভাব ও মুখ শুকিয়ে যাওয়া। দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে খেলে আয়রন শোষণ কমে যেতে পারে এবং কদাচিৎ লিভার বা কিডনিতে প্রভাব পড়তে পারে।
মুখ, ঠোঁট বা গলা ফুলে গেলে, শ্বাস নিতে কষ্ট হলে, ত্বক বা চোখ হলুদ হলে, প্রস্রাব গাঢ় হলে বা পেটে তীব্র ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় বা বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ব্যবহারের নিরাপত্তা নিয়ে যথেষ্ট তথ্য নেই। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া এটি এড়িয়ে চলুন।
সতর্কতা
রক্তমিশ্রিত পায়খানা, বেশি জ্বর বা পানিশূন্যতার লক্ষণ থাকলে ডাক্তার দেখান; পাতলা পায়খানায় খাবার স্যালাইনই সবচেয়ে জরুরি চিকিৎসা। দুর্গন্ধযুক্ত, চুলকানিযুক্ত, রঙিন বা ব্যথা ও জ্বরসহ স্রাব সংক্রমণের লক্ষণ হতে পারে, যার সঠিক চিকিৎসা দরকার। মাড়ি থেকে রক্ত পড়লে দাঁতের ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি পরিমাণে খেলে বমি, তীব্র কোষ্ঠকাঠিন্য, পেটব্যথা এবং লিভারের ক্ষতি হতে পারে। লেবেলের চেয়ে অনেক বেশি খেয়ে ফেললে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ইউনানি ভেষজ প্রস্তুতি (সংকোচক)।
সংরক্ষণ
৩০°C তাপমাত্রার নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।