ব্যবহার
বারিসিটিনিব প্রাপ্তবয়স্কদের মাঝারি থেকে তীব্র রিউমাটয়েড আর্থ্রাইটিসের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়, যখন অন্য রোগ নিয়ন্ত্রণকারী ঔষধে যথেষ্ট কাজ হয়নি বা সেগুলো ব্যবহার করা যায় না। এটি মাঝারি থেকে তীব্র এটোপিক ডার্মাটাইটিস (একজিমা), তীব্র অ্যালোপেশিয়া এরিয়াটা (ছোপ ছোপ চুল পড়া) এবং হাসপাতালে কিছু প্রাপ্তবয়স্কের গুরুতর কোভিড-১৯ এও ব্যবহার হয়। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার চিকিৎসা শুরু ও পর্যবেক্ষণ করেন।
কীভাবে কাজ করে
বারিসিটিনিব জানাস কাইনেজ (JAK1 ও JAK2) নামের এনজাইম আটকে দেয়। এই এনজাইমগুলো রোগ প্রতিরোধ কোষের ভেতরে প্রদাহ তৈরির সংকেত পাঠায়। এগুলো আটকালে অতিসক্রিয় রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা শান্ত হয়, ফলে গিঁটের ব্যথা ও ফোলা, ত্বকের প্রদাহ বা চুলের গোড়ায় আক্রমণ কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
ডাক্তারের ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ী। প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণ মাত্রা দিনে একবার ২ mg বা ৪ mg; রোগ, বয়স, কিডনির অবস্থা ও অন্য ঔষধ দেখে বিশেষজ্ঞ মাত্রা ঠিক করেন। প্রতিদিন প্রায় একই সময়ে মুখে খান, খাবারের আগে বা পরে। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া বন্ধ করবেন না বা মাত্রা বদলাবেন না।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- প্রোবেনেসিড বারিসিটিনিবের মাত্রা বাড়ায়; সাধারণত ডোজ কমানো হয়।
- চিকিৎসার সময় জীবিত টিকা (যেমন ইয়েলো ফিভার, মুখে খাওয়ার পোলিও, বিসিজি, এমএমআর) দেওয়া যাবে না; প্রয়োজনীয় টিকা শুরুর আগেই নিয়ে নিন।
- অন্য শক্তিশালী রোগ প্রতিরোধ দমনকারী ঔষধ ও আর্থ্রাইটিসের বায়োলজিক ঔষধ মারাত্মক সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়, তাই সাধারণত একসাথে দেওয়া হয় না।
- রক্ত জমাট বাঁধায় প্রভাব ফেলে এমন ঔষধসহ সব ঔষধের কথা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- গর্ভাবস্থায়।
- সক্রিয় যক্ষ্মাসহ চলমান মারাত্মক সংক্রমণ থাকলে।
- বারিসিটিনিব বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- কিডনি বা লিভারের মারাত্মক সমস্যা কিংবা রক্তকণিকা খুব কম থাকলে এটি উপযুক্ত নাও হতে পারে; ডাক্তার সিদ্ধান্ত নেবেন।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: সর্দি ও শ্বাসনালীর উপরের অংশে সংক্রমণ, বমিভাব, কোলেস্টেরল বেড়ে যাওয়া, ঠোঁটে জ্বরঠোসা, হারপিস জোস্টার, প্রস্রাবে সংক্রমণ, মাথাব্যথা, ব্রণ, এবং লিভার এনজাইম বা প্লেটলেট বেড়ে যাওয়ার মতো রক্ত পরীক্ষার পরিবর্তন।
এগুলো হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন: জ্বর, কাঁপুনি, কাশি, প্রস্রাবে জ্বালা বা মারাত্মক সংক্রমণের অন্য লক্ষণ; পায়ে ব্যথা ও ফোলা, হঠাৎ বুকে ব্যথা বা শ্বাসকষ্ট (রক্ত জমাট বাঁধার লক্ষণ হতে পারে); বুকে ব্যথা, শরীরের এক পাশ দুর্বল হয়ে যাওয়া বা কথা জড়িয়ে যাওয়া (হার্ট অ্যাটাক বা স্ট্রোকের লক্ষণ হতে পারে); ব্যথাযুক্ত ফোসকাওয়ালা র্যাশ; কিংবা মুখ ফুলে যাওয়া বা শ্বাস নিতে কষ্ট।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় ব্যবহার করবেন না। যেসব নারীর গর্ভধারণের সম্ভাবনা আছে, তারা চিকিৎসার সময় এবং শেষ ডোজের পর অন্তত এক সপ্তাহ কার্যকর জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করুন। এই ঔষধ খাওয়ার সময় বুকের দুধ খাওয়াবেন না।
সতর্কতা
- এটি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমায়; শুরুর আগে ডাক্তার যক্ষ্মা ও হেপাটাইটিস পরীক্ষা করাবেন এবং চিকিৎসার সময় রক্তকণিকা, লিভার ও কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাবেন।
- ৬৫ বছর বা বেশি বয়সী, বর্তমান বা আগের দীর্ঘদিনের ধূমপায়ী, এবং হৃদরোগ বা রক্ত জমাট বাঁধার ইতিহাস থাকলে হৃদযন্ত্রের সমস্যা, রক্ত জমাট বাঁধা ও কিছু ক্যান্সারের ঝুঁকি বেশি; ডাক্তার বিষয়টি সতর্কভাবে বিবেচনা করবেন।
- ঘন ঘন সংক্রমণ, ডায়াবেটিস, ক্যান্সার বা ডাইভার্টিকুলাইটিসের মতো অন্ত্রের সমস্যা থাকলে ডাক্তারকে জানান।
- নিয়মিত ত্বক পরীক্ষা করান; কড়া রোদ থেকে ত্বক রক্ষা করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেয়ে ফেললে ডাক্তারের সাথে যোগাযোগ করুন বা হাসপাতালে যান। লক্ষণ পর্যবেক্ষণ করা হবে এবং রক্ত পরীক্ষা লাগতে পারে।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
জানাস কাইনেজ (JAK) ইনহিবিটর; রোগ প্রতিরোধ দমনকারী ঔষধ।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।