ব্যবহার
বেক্লোমেথাসোন ডাইপ্রোপিওনেট একটি কর্টিকোস্টেরয়েড (স্টেরয়েড) ঔষধ, যা কয়েকভাবে ব্যবহার হয়:
- ইনহেলার: হাঁপানির লক্ষণ ও আক্রমণ প্রতিরোধে; ফরমোটেরল (কখনও গ্লাইকোপাইরোনিয়ামসহ) এর সাথে মিলিয়ে হাঁপানি ও সিওপিডি (দীর্ঘমেয়াদি ফুসফুসের বাধাজনিত রোগ) এর চিকিৎসায়।
- নাকের স্প্রে: অ্যালার্জিজনিত সর্দি, নাক বন্ধ, নাক দিয়ে পানি পড়া ও হাঁচিতে।
- ত্বকের ক্রিম বা মলম: একজিমা ও ডার্মাটাইটিসের মতো প্রদাহযুক্ত, চুলকানিযুক্ত ত্বকের সমস্যায়।
- অ্যান্টিবায়োটিক, ছত্রাকনাশক বা লিডোকেইনের সাথে মিশ্র কানের ড্রপ ও ত্বকের ঔষধ: সংক্রমণ ও প্রদাহযুক্ত কান বা ত্বকের সমস্যায়।
কীভাবে কাজ করে
এটি শ্বাসনালী, নাক বা ত্বকে প্রদাহ (ফোলা, লাল হওয়া ও জ্বালা) সৃষ্টিকারী রোগপ্রতিরোধী কোষগুলোকে শান্ত করে প্রদাহ কমায়। ফুসফুসে এর ফলে শ্বাসনালী কম সংবেদনশীল হয় এবং হাঁপানির আক্রমণ কমে। এটি মূলত যেখানে লাগানো হয় সেখানেই কাজ করে, তাই শরীরের বাকি অংশে অল্প পরিমাণ পৌঁছায়।
মাত্রা ও সেবনবিধি
- ইনহেলার: মাত্রা নির্ভর করে ঔষধের শক্তি ও রোগের তীব্রতার উপর। সাধারণত প্রতিদিন দিনে ২ বার, ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী। প্রতিবার ব্যবহারের পর পানি দিয়ে কুলি করে ফেলে দিন।
- নাকের স্প্রে, প্রাপ্তবয়স্ক: সাধারণত প্রতি নাকে ২টি স্প্রে দিনে ২ বার (দিনে ৪০০ mcg এর বেশি নয়)। লক্ষণ নিয়ন্ত্রণে এলে ডাক্তার মাত্রা কমাতে পারেন।
- ত্বকের ক্রিম বা মলম: আক্রান্ত জায়গায় দিনে ১ বা ২ বার পাতলা করে লাগান, ডাক্তার না বললে সাধারণত কয়েক সপ্তাহের বেশি নয়।
- শিশু: শুধু ডাক্তারের পরামর্শ অনুযায়ী।
ভালো বোধ করলেও ইনহেলার বা নাকের স্প্রে নিয়মিত ব্যবহার করুন। পুরো কাজ পেতে কয়েক দিন লাগে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
রিটোনাভির, কোবিসিস্ট্যাট, কিটোকোনাজল ও ইট্রাকোনাজলের মতো ঔষধ শরীরে স্টেরয়েডের পরিমাণ বাড়াতে পারে। ফরমোটেরলযুক্ত মিশ্র ইনহেলার বিটা ব্লকার (যেমন প্রোপ্রানোলল), কিছু হৃৎস্পন্দনের ঔষধ ও পটাশিয়াম কমানো ঔষধের সাথে সাবধানে ব্যবহার করতে হয়। আপনি যে সব ঔষধ ব্যবহার করেন তা ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- বেক্লোমেথাসোন বা ঔষধের কোনো উপাদানে এলার্জি থাকলে।
- ত্বকের ঔষধ: চিকিৎসা না হওয়া ব্যাকটেরিয়া, ছত্রাক বা ভাইরাসজনিত ত্বকের সংক্রমণ (যেমন ঠোঁটের ঘা বা জলবসন্ত), ব্রণ, রোজাসিয়া বা মুখের চারপাশে র্যাশ থাকলে।
- কানের ড্রপ: কানের পর্দা ফেটে থাকলে, ডাক্তার না বললে ব্যবহার করবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ইনহেলার: গলা বসে যাওয়া, গলা ব্যথা ও মুখে ছত্রাক (সাদা দাগ)। নাকের স্প্রে: শুকনো ভাব, জ্বালা, নাক দিয়ে রক্ত পড়া এবং স্বাদ বা গন্ধের পরিবর্তন। ত্বক: জ্বালাপোড়া, আর দীর্ঘদিন ব্যবহারে ত্বক পাতলা হয়ে যাওয়া ও ফাটা দাগ। দীর্ঘদিন বেশি মাত্রায় ব্যবহারে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির উপর প্রভাব, শিশুদের বৃদ্ধি ধীর হওয়া এবং ছানি বা গ্লুকোমার ঝুঁকি বাড়তে পারে।
ইনহেলার ব্যবহারের ঠিক পরে হঠাৎ শ্বাসকষ্ট বেড়ে গেলে (সাথে সাথে রিলিভার ইনহেলার নিন), মুখ বা গলা ফুলে যাওয়া ও শ্বাসকষ্টের মতো তীব্র এলার্জি হলে, অথবা চোখে ঝাপসা দেখা বা চোখে ব্যথা হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
ডাক্তারের পরামর্শে গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় ইনহেলার ও নাকের স্প্রে ব্যবহার করা যায়, কারণ মা ও শিশুর জন্য হাঁপানি ভালোভাবে নিয়ন্ত্রণে রাখা জরুরি। দীর্ঘদিন বেশি পরিমাণে ত্বকের ঔষধ ব্যবহার এড়িয়ে চলুন এবং দুধ খাওয়ানোর আগে স্তনে লাগাবেন না।
সতর্কতা
ইনহেলারটি প্রতিরোধক, হঠাৎ হাঁপানির আক্রমণে আরাম দেয় না; সবসময় রিলিভার ইনহেলার সাথে রাখুন। দীর্ঘদিন ব্যবহারের পর ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া হঠাৎ বন্ধ করবেন না। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসায় শিশুদের উচ্চতা নিয়মিত মাপা উচিত। হাঁপানি বেড়ে গেলে বা রিলিভার বেশি লাগলে ডাক্তার দেখান। ডাক্তার না বললে ত্বকের ঔষধ মুখে, ব্যান্ডেজের নিচে বা বড় জায়গায় দীর্ঘদিন লাগাবেন না।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
একবার বেশি নিলে ক্ষতির সম্ভাবনা কম। দীর্ঘদিন নির্ধারিত মাত্রার বেশি ব্যবহার করলে অ্যাড্রিনাল গ্রন্থির উপর প্রভাব পড়তে পারে; ডাক্তার দেখান, তিনি ধীরে ধীরে মাত্রা কমাতে পারেন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
কর্টিকোস্টেরয়েড (ইনহেল্ড, নাকের ও ত্বকের)।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। ফ্রিজে জমাবেন না। ইনহেলারের ক্যানের ভেতরে চাপ থাকে: খালি হলেও ফুটো করবেন না, ভাঙবেন না বা পোড়াবেন না, এবং তাপ ও সরাসরি রোদ থেকে দূরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।