ব্যবহার
বেনাজেপ্রিল হাইড্রোক্লোরাইড উচ্চ রক্তচাপের চিকিৎসায় ব্যবহার হয়। বাংলাদেশে এটি মূলত অ্যামলোডিপিনের সাথে একই ট্যাবলেটে পাওয়া যায়, যাদের একটি ঔষধে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে আসে না তাদের জন্য।
কীভাবে কাজ করে
বেনাজেপ্রিল একটি ACE ইনহিবিটর। লিভারে এটি সক্রিয় রূপে পরিণত হয়, যা অ্যানজিওটেনসিন II তৈরির এনজাইম আটকে দেয়; এই হরমোন রক্তনালি সরু করে ও শরীরে লবণ-পানি ধরে রাখে। ফলে রক্তনালি শিথিল হয় ও রক্তচাপ কমে। অ্যামলোডিপিন (ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার) এর সাথে দুটি ঔষধ একসাথে কাজ করে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
চিকিৎসকের নির্দেশমতো দিনে ১ বার প্রতিদিন একই সময়ে খান, খাবারের আগে বা পরে। এককভাবে প্রাপ্তবয়স্কদের সাধারণত দিনে ১ বার ১০ mg দিয়ে শুরু করা হয়, প্রয়োজনে দিনে ২০ থেকে ৪০ mg পর্যন্ত বাড়ানো যায়। কম্বিনেশন ট্যাবলেটে দুটি ঔষধের নির্দিষ্ট পরিমাণ থাকে, শক্তি চিকিৎসক ঠিক করেন। কিডনির সমস্যা থাকলে বা ডাইইউরেটিক খেলে সাধারণত কম মাত্রা দিয়ে শুরু করা হয়।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
পটাশিয়াম সাপ্লিমেন্ট, পটাশিয়ামযুক্ত লবণের বিকল্প ও স্পাইরোনোল্যাকটোনের মতো ডাইইউরেটিক পটাশিয়াম বেশি বাড়াতে পারে। আইবুপ্রোফেনের মতো ব্যথানাশক এর প্রভাব কমায় ও কিডনির ক্ষতি করতে পারে। এটি লিথিয়ামের মাত্রা বাড়াতে পারে। স্যাকুবিট্রিলের সাথে, এবং ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে অ্যালিস্কিরেনের সাথে খাবেন না। কম্বিনেশন ট্যাবলেটের ক্ষেত্রে ক্ল্যারিথ্রোমাইসিন, কিটোকোনাজোল ও জাম্বুরা জুস অ্যামলোডিপিনের মাত্রা বাড়াতে পারে, এবং এটি সিমভাস্ট্যাটিনের মাত্রা বাড়াতে পারে।
কারা খাবেন না
বেনাজেপ্রিল, অন্য ACE ইনহিবিটর বা (কম্বিনেশনের ক্ষেত্রে) অ্যামলোডিপিনে অ্যালার্জি থাকলে; আগে অ্যানজিওইডিমা হয়ে থাকলে; গর্ভাবস্থায়; অথবা ডায়াবেটিস বা কিডনি রোগে অ্যালিস্কিরেন খেলে খাবেন না। স্যাকুবিট্রিল ও ভালসারটান খাওয়ার ৩৬ ঘণ্টার মধ্যে খাবেন না।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
শুকনো কাশি, মাথা ঘোরা, মাথাব্যথা, ক্লান্তি ও রক্তে পটাশিয়াম বাড়া সাধারণ। অ্যামলোডিপিনযুক্ত ট্যাবলেটে গোড়ালি ফোলা ও মুখ লাল হওয়াও হতে পারে।
মুখ, ঠোঁট, জিহ্বা বা গলা ফোলা, শ্বাস নিতে বা গিলতে কষ্ট, অজ্ঞান হওয়া, তীব্র পেটব্যথা, ত্বক বা চোখ হলুদ হওয়া, অথবা প্রস্রাব অনেক কমে গেলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভাবস্থায় এটি খাবেন না, কারণ এটি গর্ভের শিশুর গুরুতর ক্ষতি করতে পারে। গর্ভধারণ করলে দ্রুত চিকিৎসকের সাথে যোগাযোগ করে ঔষধ বদলে নিন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় খাওয়ার আগে চিকিৎসকের পরামর্শ নিন।
সতর্কতা
চিকিৎসক কিডনির কার্যক্ষমতা ও পটাশিয়াম পরীক্ষা করবেন। প্রথম কয়েকটি ডোজের পর বা পানিশূন্যতা থাকলে দাঁড়ানোর সময় সাবধান থাকুন। কিডনির ধমনি সরু হওয়া, হৃৎপিণ্ডের ভালভ সরু হওয়া, লিভারের রোগ থাকলে এবং অপারেশনের আগে সাবধানে ব্যবহার করুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে রক্তচাপ খুব কমে যাওয়া, মাথা ঘোরা, অজ্ঞান হওয়া ও দ্রুত বা ধীর হৃৎস্পন্দন হতে পারে। জরুরি চিকিৎসা নিন এবং রোগীকে পা উঁচু করে শুইয়ে রাখুন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
উচ্চ রক্তচাপরোধী, অ্যানজিওটেনসিন-কনভার্টিং এনজাইম (ACE) ইনহিবিটর।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো ও আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।