ব্যবহার
বেন্ডামাস্টিন একটি ক্যান্সারের ঔষধ। এটি মূলত কিছু রক্তের ক্যান্সারে ব্যবহার হয়, যেমন ক্রনিক লিম্ফোসাইটিক লিউকেমিয়া (CLL) এবং ধীরে বাড়ে এমন নন-হজকিন লিম্ফোমা, এমনকি অন্য চিকিৎসার পরে রোগ ফিরে এলেও। কখনো এটি রিটুক্সিম্যাবের সাথে দেওয়া হয়। কিছু ক্ষেত্রে মাল্টিপল মায়েলোমাতেও ব্যবহার করা হয়।
কীভাবে কাজ করে
বেন্ডামাস্টিন অ্যালকাইলেটিং এজেন্ট গোত্রের ঔষধ। এটি ক্যান্সার কোষের DNA-র সাথে যুক্ত হয়ে DNA-র সুতাগুলোকে আটকে দেয়, ফলে কোষ বিভাজিত হতে পারে না এবং মারা যায়। অস্থিমজ্জার মতো দ্রুত বিভাজিত সুস্থ কোষেও এর প্রভাব পড়ে, তাই রক্তকণিকা কমে যেতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
এই ঔষধ হাসপাতাল বা ক্যান্সার সেন্টারে ডাক্তার বা নার্স শিরায় স্যালাইনের মতো করে (ইনফিউশন) দেন। শরীরের মাপ, ক্যান্সারের ধরন ও রক্ত পরীক্ষার ফল দেখে ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ মাত্রা ঠিক করেন, সাধারণত একটি চক্রের দুই দিন দেওয়া হয় এবং চক্রটি নির্দিষ্ট বিরতিতে চলে। ঠিক যেভাবে ডাক্তার নির্ধারণ করেছেন সেভাবেই নিতে হবে। প্রতিটি চক্রের আগে রক্ত পরীক্ষা হয়, রক্তকণিকা কম থাকলে ডোজ পিছানো বা কমানো হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- লিভারের CYP1A2 এনজাইমে প্রভাব ফেলে এমন ঔষধ, যেমন সিপ্রোফ্লক্সাসিন ও ফ্লুভক্সামিন (রক্তে মাত্রা বাড়ায়), আর ধূমপান (মাত্রা কমাতে পারে)।
- অস্থিমজ্জা বা রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা দমন করে এমন অন্য ঔষধ সংক্রমণের ঝুঁকি বাড়ায়।
- চিকিৎসার সময় ও পরে কিছুদিন লাইভ টিকা নেওয়া উচিত নয়।
- অ্যালোপিউরিনলের সাথে ব্যবহারে গুরুতর চর্মরোগের খবর পাওয়া গেছে।
যত ঔষধ, ভেষজ বা সাপ্লিমেন্ট খান, সব ডাক্তারকে জানান।
কারা খাবেন না
- বেন্ডামাস্টিন বা ম্যানিটলে অ্যালার্জি থাকলে।
- বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়।
- লিভারের গুরুতর সমস্যা বা জন্ডিস থাকলে।
- চিকিৎসার আগেই রক্তকণিকা খুব কম, গুরুতর সক্রিয় সংক্রমণ, অথবা গত এক মাসের মধ্যে বড় অপারেশন হলে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া: শ্বেতকণিকা, লোহিতকণিকা ও প্লাটিলেট কমে যাওয়া, সংক্রমণ, ক্লান্তি, জ্বর, বমিভাব, বমি, ক্ষুধামন্দা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, মাথাব্যথা, র্যাশ ও মুখে ঘা। ড্রিপ চলার সময় বা পরে কাঁপুনি, চুলকানি বা র্যাশ হতে পারে। কম দেখা গেলেও গুরুতর: মারাত্মক চর্মরোগ, টিউমার লাইসিস সিনড্রোম (অনেক ক্যান্সার কোষ একসাথে ভেঙে রক্তের লবণে ভারসাম্যহীনতা), হেপাটাইটিস বি বা অন্য সংক্রমণ ফিরে আসা, হৃৎস্পন্দনের সমস্যা এবং দ্বিতীয় ক্যান্সার।
৩৮°C বা বেশি জ্বর, কাঁপুনি, অস্বাভাবিক রক্তপাত বা কালশিটে, ফোসকা পড়া বা চামড়া উঠে যাওয়া র্যাশ, শ্বাসকষ্ট, বুকে ব্যথা, প্রস্রাব খুব কমে যাওয়া বা চোখ ও চামড়া হলুদ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
বেন্ডামাস্টিন গর্ভের শিশুর ক্ষতি করতে পারে। চিকিৎসার সময় ও পরে কয়েক মাস নারী ও পুরুষ উভয়কেই ডাক্তারের পরামর্শমতো নির্ভরযোগ্য জন্মনিরোধ ব্যবহার করতে হবে। চিকিৎসা চলাকালে বুকের দুধ খাওয়াবেন না। এটি প্রজনন ক্ষমতায়ও প্রভাব ফেলতে পারে, তাই শুরুর আগে ডাক্তারের সাথে আলোচনা করুন।
সতর্কতা
- নিয়মিত রক্ত পরীক্ষা এবং লিভার ও কিডনির পরীক্ষা দরকার।
- সংক্রমণের যেকোনো লক্ষণ দ্রুত জানান; ডাক্তার কিছু সংক্রমণ প্রতিরোধের ঔষধ দিতে পারেন।
- টিউমার লাইসিস প্রতিরোধে পর্যাপ্ত পানি পান করুন।
- কড়া রোদ থেকে ত্বক রক্ষা করুন এবং ত্বকের নতুন পরিবর্তন জানান।
- হৃদরোগ বা হেপাটাইটিস বি-র ইতিহাস থাকলে ডাক্তারকে বলুন।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
স্বাস্থ্যকর্মীরা দেন বলে মাত্রাতিরিক্ত হওয়ার সম্ভাবনা কম। বেশি হলে অস্থিমজ্জা মারাত্মকভাবে দমে যেতে পারে এবং হৃৎস্পন্দনে পরিবর্তন হতে পারে। নির্দিষ্ট প্রতিষেধক নেই; হাসপাতালে রক্তকণিকা ও হৃদযন্ত্র পর্যবেক্ষণসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
অ্যান্টিনিওপ্লাস্টিক (ক্যান্সারবিরোধী) ঔষধ, অ্যালকাইলেটিং এজেন্ট (নাইট্রোজেন মাস্টার্ড গোত্র)।
সংরক্ষণ
হাসপাতালের ঔষধ: প্যাকে দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী রাখুন, সাধারণত ২৫°C-এর নিচে, আলো থেকে রক্ষা করতে মূল বাক্সে। প্রস্তুত ইনফিউশন প্রশিক্ষিত কর্মীরা সামলান।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।