ব্যবহার
বেনসেরাজাইড সবসময় লিভোডোপার সাথে একই ট্যাবলেট বা ক্যাপসুলে পারকিনসন্স রোগের চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়। এটি চলাফেরায় ধীরগতি, শরীর শক্ত হয়ে যাওয়া এবং হাত কাঁপার মতো উপসর্গ নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। কিছু রোগীর রেস্টলেস লেগস সিনড্রোমেও এই মিশ্রণ দেওয়া হতে পারে। বেনসেরাজাইড এককভাবে ব্যবহার করা হয় না।
কীভাবে কাজ করে
মস্তিষ্কে ডোপামিন নামের রাসায়নিক বার্তাবাহক কমে গেলে পারকিনসন্স রোগ হয়। লিভোডোপা মস্তিষ্কে গিয়ে ডোপামিনে পরিণত হয়ে ঘাটতি পূরণ করে। কিন্তু মস্তিষ্কে পৌঁছানোর আগেই শরীরে অনেকটা লিভোডোপা ভেঙে যায়, ফলে বমি ভাবসহ নানা সমস্যা হয়। বেনসেরাজাইড মস্তিষ্কের বাইরে এই ভাঙন ঘটানো এনজাইমকে আটকায়, তাই বেশি লিভোডোপা মস্তিষ্কে পৌঁছায়, কম মাত্রায় কাজ হয় এবং বমি ভাবের মতো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া কমে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক প্রত্যেকের জন্য আলাদাভাবে মাত্রা ঠিক করেন এবং ধীরে ধীরে বাড়ান, তাই ব্যবস্থাপত্র অনুযায়ীই খাবেন। সাধারণত দিনে কয়েকবার খেতে হয়। ডিসপারসিবল ট্যাবলেট অল্প পানিতে গুলে সঙ্গে সঙ্গে খেয়ে নিন। প্রতিদিন একই সময়ে খাওয়ার চেষ্টা করুন; বেশি প্রোটিনযুক্ত খাবার কার্যকারিতা কমাতে পারে, তাই ডাক্তার খাবারের আগে খেতে বলতে পারেন। হঠাৎ বন্ধ করবেন না, এতে গুরুতর প্রতিক্রিয়া হতে পারে।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
- নন সিলেক্টিভ এমএও ইনহিবিটর (কিছু পুরোনো বিষণ্নতার ঔষধ) এর সাথে খাওয়া যাবে না, রক্তচাপ বিপজ্জনকভাবে বাড়তে পারে।
- হ্যালোপেরিডলের মতো অ্যান্টিসাইকোটিক ঔষধ এবং মেটোক্লোপ্রামাইড এর কার্যকারিতা কমাতে পারে।
- আয়রন সাপ্লিমেন্ট ও বেশি প্রোটিনযুক্ত খাবার লিভোডোপার শোষণ কমাতে পারে।
- রক্তচাপের ঔষধের সাথে রক্তচাপ বেশি কমে যেতে পারে।
কারা খাবেন না
- লিভোডোপা বা বেনসেরাজাইডে অ্যালার্জি থাকলে।
- ন্যারো অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে।
- গুরুতর হৃদরোগ, লিভার, কিডনি, হরমোন বা রক্তের রোগ থাকলে, বিশেষজ্ঞ অন্যভাবে সিদ্ধান্ত না নিলে।
- সাইকোসিসসহ কিছু গুরুতর মানসিক রোগে।
- ২৫ বছরের কম বয়সীরা, কারণ হাড়ের বৃদ্ধি সম্পূর্ণ হওয়া দরকার।
- গর্ভবতী নারী এবং নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ছাড়া গর্ভধারণ করতে পারেন এমন নারী।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ার মধ্যে আছে বমি ভাব, ক্ষুধা কমে যাওয়া, দাঁড়ালে মাথা ঘোরা, অনিয়ন্ত্রিত মোচড়ানো বা ঝাঁকুনির মতো নড়াচড়া (ডিসকাইনেশিয়া), ঘুম ঘুম ভাব, বিভ্রান্তি, স্পষ্ট স্বপ্ন এবং প্রস্রাব বা ঘাম গাঢ় রঙের হওয়া (যা ক্ষতিকর নয়)। কারো কারো জুয়া, অতিরিক্ত খাওয়া বা কেনাকাটার প্রবল ঝোঁক দেখা দেয়; এমন হলে ডাক্তারকে জানান। দিনের বেলায় হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ার ঘটনা ঘটতে পারে।
উচ্চ জ্বরের সাথে পেশি শক্ত হয়ে যাওয়া ও বিভ্রান্তি, হ্যালুসিনেশন বা তীব্র অস্থিরতা, কালো বা রক্তমিশ্রিত পায়খানা, বুকে ব্যথা বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, অথবা গুরুতর অ্যালার্জির লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
গর্ভের শিশুর ক্ষতি হতে পারে বলে গর্ভাবস্থায় এই মিশ্রণ ব্যবহার করা উচিত নয়। গর্ভধারণে সক্ষম নারীদের নির্ভরযোগ্য জন্মনিয়ন্ত্রণ ব্যবহার করা উচিত। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময়ও এটি খাওয়া উচিত নয়, কারণ লিভোডোপা দুধ কমাতে পারে এবং শিশুর কাছে যেতে পারে।
সতর্কতা
- ঘুম ঘুম ভাব বা হঠাৎ ঘুমিয়ে পড়ার সমস্যা থাকলে গাড়ি চালাবেন না বা যন্ত্র চালাবেন না।
- দীর্ঘদিন খেলে ডাক্তার রক্তের কোষ, লিভার, কিডনি ও হৃদযন্ত্রের পরীক্ষা করাতে পারেন।
- ওপেন অ্যাঙ্গেল গ্লুকোমা থাকলে চোখের চাপ পরীক্ষা করা উচিত।
- পাকস্থলীর আলসার, হৃৎছন্দের সমস্যা বা মানসিক রোগের ইতিহাস থাকলে বাড়তি সাবধানতা দরকার।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
বেশি খেলে তীব্র অস্বাভাবিক নড়াচড়া, দ্রুত বা অনিয়মিত হৃৎস্পন্দন, বিভ্রান্তি, অস্থিরতা, অনিদ্রা ও বমি হতে পারে। সঙ্গে সঙ্গে জরুরি চিকিৎসা নিন। হাসপাতালে হৃৎস্পন্দন পর্যবেক্ষণসহ সহায়ক চিকিৎসা দেওয়া হয়।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
পারকিনসন্স রোগের ঔষধ; পেরিফেরাল ডোপা ডিকার্বক্সিলেজ ইনহিবিটর (লিভোডোপার সাথে ব্যবহৃত)।
সংরক্ষণ
৩০°C এর নিচে, শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে এবং শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।