ব্যবহার
বেনজোয়িক অ্যাসিড ত্বকের ছত্রাক সংক্রমণে লাগানো হয়, যেমন:
- শরীরের দাদ (টিনিয়া কর্পোরিস)।
- পায়ের আঙুলের ফাঁকে ছত্রাক (অ্যাথলেটস ফুট)।
- কুঁচকির ছত্রাক সংক্রমণ।
- হাতের ছত্রাক সংক্রমণ এবং পুরু, আঁশযুক্ত ছত্রাকের দাগ।
এটি প্রায় সবসময় স্যালিসাইলিক অ্যাসিডের সাথে মলম হিসেবে থাকে (সাধারণত হুইটফিল্ড মলম নামে পরিচিত)।
কীভাবে কাজ করে
বেনজোয়িক অ্যাসিড ছত্রাকের বৃদ্ধি থামিয়ে দেয়। স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ত্বকের পুরু, আঁশযুক্ত উপরের স্তর নরম করে তুলে ফেলে (কেরাটোলাইটিক প্রভাব), ফলে সংক্রমিত ত্বক উঠে যায় এবং ঔষধ ছত্রাক পর্যন্ত পৌঁছাতে পারে।
মাত্রা ও সেবনবিধি
আক্রান্ত জায়গা ধুয়ে শুকিয়ে নিন, তারপর দাগে ও তার চারপাশের সামান্য ত্বকে পাতলা করে লাগান, সাধারণত দিনে ২ বার। সংক্রমণ যেন ফিরে না আসে, তাই ত্বক পরিষ্কার দেখানোর পরও ১ থেকে ২ সপ্তাহ লাগিয়ে যান; বেশিরভাগ সংক্রমণে ২ থেকে ৪ সপ্তাহ লাগে, পায়ে আরও বেশি সময় লাগতে পারে। হাতে চিকিৎসা না চললে লাগানোর পর হাত ধুয়ে ফেলুন। শুধু ত্বকে ব্যবহারের জন্য।
অন্য ঔষধের সাথে প্রতিক্রিয়া
একই জায়গায় অন্য ত্বকের ঔষধ, বিশেষ করে বেনজয়েল পারক্সাইড বা ট্রেটিনয়েনের মতো চামড়া ওঠানোর ঔষধ একসাথে লাগাবেন না, এতে জ্বালা বাড়তে পারে। ছোট জায়গায় লাগালে মুখে খাওয়ার ঔষধের সাথে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কা নেই।
কারা খাবেন না
- বেনজোয়িক অ্যাসিড, স্যালিসাইলিক অ্যাসিড বা ঔষধের কোনো উপাদানে অ্যালার্জি থাকলে।
- কাটা, ছিলে যাওয়া বা রস ঝরা ত্বকে।
- চোখ, মুখের ভেতর বা শরীরের অন্য ভেজা আবরণে বা তার কাছে।
পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
সাধারণ: লাগানোর জায়গায় জ্বালা, পোড়া ভাব, লালচে হওয়া, শুষ্কতা ও চামড়া ওঠা।
মুখ বা ঠোঁট ফুলে গেলে, শ্বাসকষ্ট হলে, বড় ফোসকা বা ছড়িয়ে পড়া ব্যথাযুক্ত লালচে ভাব হলে, অথবা বড় জায়গায় লাগানোর পর স্যালিসাইলেট বিষক্রিয়ার লক্ষণ (কানে ভোঁ ভোঁ শব্দ, দ্রুত শ্বাস, বমি বমি ভাব, মাথা ঘোরা) দেখা দিলে ব্যবহার বন্ধ করে দ্রুত চিকিৎসা নিন।
গর্ভাবস্থা ও বুকের দুধ খাওয়ানো
অল্প জায়গায় অল্প দিনের জন্য ব্যবহার সাধারণত গ্রহণযোগ্য ধরা হয়; বড় জায়গায় ও দীর্ঘদিন ব্যবহার এড়িয়ে চলুন এবং আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। বুকের দুধ খাওয়ানোর সময় স্তন বা বোঁটায় লাগাবেন না।
সতর্কতা
শুধু বাইরে ব্যবহারের জন্য; চোখ থেকে দূরে রাখুন। ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া ২ বছরের কম বয়সী শিশুদের ব্যবহার করবেন না, এবং শিশুদের বড় জায়গায় লাগাবেন না। ডায়াবেটিস বা রক্ত চলাচলের সমস্যা থাকলে পায়ে লাগানোর আগে ডাক্তারকে জিজ্ঞেস করুন। জায়গাটি পরিষ্কার ও শুকনো রাখুন এবং আঁটসাঁট ব্যান্ডেজে ঢাকবেন না। মাথার ত্বক বা নখের ছত্রাকে সাধারণত খাওয়ার ঔষধ লাগে; ২ থেকে ৪ সপ্তাহে উন্নতি না হলে ডাক্তার দেখান।
মাত্রাতিরিক্ত সেবন
ত্বকে বেশি লাগালে মূলত জ্বালা হয়; বাড়তি অংশ ধুয়ে ফেলুন। ভুল করে খেয়ে ফেললে বমি বমি ভাব, বমি ও পেটব্যথা হতে পারে, আর এতে থাকা স্যালিসাইলিক অ্যাসিড ক্ষতিকর হতে পারে, বিশেষ করে শিশুদের জন্য; সাথে সাথে চিকিৎসা নিন।
থেরাপিউটিক শ্রেণি
ত্বকে লাগানোর ছত্রাকনাশক, সাথে কেরাটোলাইটিক (ত্বক নরমকারী) প্রভাব।
সংরক্ষণ
30°C এর নিচে শুকনো জায়গায়, আলো থেকে দূরে ও শিশুদের নাগালের বাইরে রাখুন। পাত্রের মুখ শক্ত করে বন্ধ রাখুন।
ঔষধ আলো টিম প্রচলিত ঔষধ তথ্যসূত্র থেকে তৈরি করেছে। শুধু তথ্যের জন্য; সবসময় আপনার ডাক্তারের পরামর্শ মেনে চলুন।